ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০৪ জুন ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

বিয়ের আসর ছেড়ে কনের করোনা রোগীর চিকিৎসা

শাহিদুল ইসলাম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৪-০৩ ১:৩৬:০১ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৪-০৩ ১১:১১:১৫ এএম

করোনাভাইরাস সৃষ্ট মহামারি রুখে দিতে চিকিৎসকদের বলা হচ্ছে ‘সম্মুখ সারির যোদ্ধা’। শিফা এম মুহাম্মদ এই লড়াইয়ে সামিল হওয়া তেমনই এক যোদ্ধা। করোনায় ভারতের অন্যতম বিপর্যস্ত রাজ্য কেরালার বাসিন্দা তিনি। ভারতে এই রাজ্যেই সর্ব প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়।

রাজ্য সরকার উপকূলীয় শহর কানুরের পারিয়ারাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকে অস্থায়ীভাবে করোনা রোগীর চিকিৎসায় কাজে লাগিয়েছে। শিফা এই হাসপাতালেরই চিকিৎসক। রাত-দিন এক করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রোগীর সেবা করছেন তিনি। করোনা নামক ভয়াল ভাইরাসের সঙ্গে যুদ্ধ করে ছিনিয়ে আনছেন রোগীর জীবন।

গত মার্চের ২৯ তারিখে ছিল শিফার জীবনের সবচেয়ে খুশির দিন। এদিন দুবাইয়ের ব্যবসায়ী আনুস মুহাম্মদের সঙ্গে তার বিয়ের তারিখ নির্দিষ্ট করা ছিল। বিশ্বজুড়ে এমন পরিস্থিতির কারণে বিয়েটা সাদামাটাভাবে করার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। জাঁকজমক কোনো আয়োজনই ছিল না। এমনকি তার পরনে ছিল না বিয়ের পোশাক। ডাক্তারি গাউন পরেই শিফা বসেছিলেন বিয়ের মঞ্চে। উদ্দেশ্য বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সেরেই তিনি ফিরে যাবেন কর্মক্ষেত্রে।

কিন্তু বিধিবাম! বর আসার কিছুক্ষণ আগে হাসপাতাল থেকে একটি ফোন আসে। জানানো হয়, শিফার তত্ত্বাবধানে থাকা রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন। সঙ্গে সঙ্গে বিয়ের আয়োজন বাতিল করে হাসপাতালে ছুটে যান শিফা। যাওয়ার সময় বলেন, ‘বিয়ে পরেও করা যাবে কিন্তু রোগীর জীবন অপেক্ষা করবে না।’

এদিকে দ্রুত বিয়ে বাতিলের খবর পৌঁছে দেয়া হয় বর আনুস মুহাম্মদের কাছে। শুনে তিনি বিরক্ত হননি। বরং খুশিই হয়েছেন হবু স্ত্রীর ওপর। আনুস মুহাম্মদ বলেন, ‘আমার হবু স্ত্রী চিকিৎসক। তার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ব্রত রোগীর সেবা। এ কাজে আমি বাধা দেব কেন?’

মেয়ের এমন কাজে শিফার বাবা মুককাম মুহাম্মদও খুশি হয়েছেন। বিয়ের চেয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনে মেয়ের নিবেদনে তিনি নিজেকে গর্বিত পিতা বলে মনে করেন। তার মতে, সকল চিকিৎসকদের পেশাগত জীবন এমনই হওয়া উচিত।

এদিকে এই অসাধারণ কাজের পর শিফার প্রশংসায় মেতেছে রাজ্যবাসী। তবে এতটা প্রশংসা নিতে রাজি নন শিফা। তিনি গণমাধ্যমে বলেছেন, ‘আমার সহকর্মীরাও অনেক ব্যক্তিগত কাজ ফেলে রাত-দিন করোনা রোগীর সেবা করছেন। তাদের কাজ কোনোভাবেই আমার চেয়ে ছোট নয়। এটা আমার মহানুভবতা নয়, পেশাগত দায়িত্ব।’


ঢাকা/মারুফ/তারা