ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ মাঘ ১৪২৬, ২৩ জানুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

সরকারের কেনার ঘোষণার আগেই ধান বেচে দিয়েছেন কৃষক

তানভীর হাসান তানু : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৮-১২-০৮ ১:১১:৪৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-১২-০৮ ৩:০২:২৫ পিএম

ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা: সরকারের চাল সংগ্রহ অভিযানের ঘোষণার আগেই মৌসুমের অধিকাংশ ধান বিক্রি হয়ে গেছে কৃষকের। ফলে এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষক।

কৃষকরা জানান, সরকার ৩৬ টাকা কেজি দরে চাল সংগ্রহ অভিযানের ঘোষণার পরে ধানের দাম মণ প্রতি ১০০-২০০ টাকা বেড়েছে। ঘোষণার আগে ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষকরা ৫৫০-৬০০ টাকার দরে বাজারে ধান বিক্রি করেছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বেশির ভাগ কৃষক। ধান চাষিরা বলছেন, সরকার আমন ধান কাটার শুরুতেই যদি সংগ্রহ অভিযানের ঘোষণা দিতো তাহলে এবার লাভবান হতেন বলে ধারণা বেশির ভাগ কৃষকের।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ঠাকুরগাঁওয়ে এ বছর আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল এক লাখ ৩৭ হাজার ১৪১ হেক্টর, আর অর্জিত হয়েছে এক লাখ ৩৬ হাজার ৭৯০ হেক্টর।

সরকার সংগ্রহ অভিযানের পরেও ঠাকুরগাঁওয়ে ধানের দাম গত বছরের তুলনায় কম। এ বছর প্রথম ৫০০-৬০০ টাকা দরে বিক্রি করেছে। হঠাৎ করে মণ প্রতি ১০০-২০০ টাকা বৃদ্ধির পরেও  হতাশ এ অঞ্চলের কৃষকরা।

সদর উপজেলার চাষি আলাউদ্দিন বলেন, ‘নতুন ধান কম দামে বাজারে বিক্রি করেছি, দাম তেমন পাইনি। বর্তমান বাজারে ধান বিক্রি করলে লোকসান কিছুটা হলেও কমতো।’

কৃষকদের কাছে জানা গেছে, এক একর জমিতে ধান হয়েছে ৪২ মণ। তা বাজারে বিক্রি করে ২৫ হাজার টাকা পেয়েছে। কিন্তু খরচ হয়েছে ৩২-৩৩ হাজার টাকা। প্রথমে ধানের দাম না থাকায় কম দামে বিক্রি করতে হয় চাষিদের। কৃষকরা বলছেন, কৃষকদের কাছে যখন ধান থাকে তখন যদি সংগ্রহ অভিযানের ঘোষণা দিত সরকার তাহলে ধান চাষে লাভবান হতে পারতেন অনেকে। এখন কৃষককের হাতে তেমন ধান নেই। হঠাৎ বাজারে দাম বৃদ্ধিতে হতাশ অনেকেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জেলায় অধিকাংশ মিল মালিকগণ কম দামে কৃষকদের কাছে ধান ক্রয় করে পর্যাপ্ত মজুদ করে নিয়েছেন। এর ফলেই চালের বাজারে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দাম বৃদ্ধির অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহামুদ হাসান রাজু জানান, বর্তমান বাজারে ধানের আমদানি কম এবং ধানের দামের সাথে চালের দামের সঙ্গতি নেই। এক্ষেত্রে মিল মালিকদের কোনো কারসাজি নেই। মিলে যে পরিমাণ ধান থাকার কথা সেই পরিমাণে ধান নেই। তাই চাল উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। জেলায় বেশির ভাগ মিলারদের কাছে মজুদ চাল নেই বলেও তিনি জানান।

ঠাকুরগাঁও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বলেন, ‘সরকার এবার চাল সংগ্রহ অভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন। তালিকা শিগগিরই আমরা হাতে পাবো। বাজারে কৃষক এখন ধানের দাম ভাল পাচ্ছে। বর্তমান ধানের দাম অব্যাহত থাকলে কৃষকরা লাভবান হবেন।’

 

 

 

 

রাইজিংবিডি/ ঠাকুরগাঁও/৮ ডিসেম্বর ২০১৮/তানভীর হাসান তানু/টিপু

     
 

আরো খবর জানতে ক্লিক করুন : ঠাকুরগাঁও, রংপুর বিভাগ