ঢাকা, সোমবার, ৪ ভাদ্র ১৪২৬, ১৯ আগস্ট ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

এটাই তাঁদের জীবিকা

ইয়াসিন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৬-১০ ১:০৪:০০ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৬-১০ ৬:১৬:৪৯ পিএম
এটাই তাঁদের জীবিকা
Walton E-plaza

কার্ডিফ থেকে ক্রীড়া প্রতিবেদক: আমাদের রমনা পার্ক ও ওয়েলসের সোফিয়া গার্ডেনের মধ্যে পার্থক্য একটাই- আমরা রমনায় যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলে নোংরা করি। ওঁরা পরিপাটি। দুটোই সাজানো-গোছানো। বড়-ছোট গাছ দুই জায়গাতেই রয়েছে। সবুজের আচ্ছাদন। ছবির মতো সবুজের গালিচা। রয়েছে প্রশস্ত রাস্তা। ওরা যে জিনিসটা সবচেয়ে বোঝে সেটা হচ্ছে, নিজের সম্পদ নষ্ট করা যাবে না। রূঢ় হলেও সত্য যে, আমরা সেই জিনিসটা বুঝি না। বুঝলেও মানতে চাই না। সোফিয়া গার্ডেনের পাশ ঘেঁষে রয়েছে রিভার টাফ। বলা হয়, রিভার টাফ কার্ডিফের উন্নয়নে বড় ভূমিকা রেখেছে। ৬৪ কিলোমিটার লম্বা এ নদী মিশে গেছে কার্ডিফ বে’র সঙ্গে। কার্ডিফ বে’র সৌন্দর্য আরও সুন্দর! কার্ডিফের যত বড় বড় স্থাপনা রয়েছে সবগুলোই কার্ডিফ বে’র পাশে। পার্লামেন্টারি ভবন, কার্ডিফ ক্যাসেল, ক্যাসেল কোচ, সেন্ট ফাগান্স মিউজিয়াম, ন্যাশনাল মিউজিয়াম ও মিলেনিয়াম স্টেডিয়াম।

ফুটবলার গ্যারেথ বেলের জন্য ওয়েলস খুব বিখ্যাত। তবে এখানকার প্রধান খেলা রাগবি। মিলেনিয়াম স্টেডিয়ামে বছরের অর্ধেক মাস হয় রাগবি খেলা। বাকি সময়ে ফুটবল। ২০১৭ সালের এ মাঠেই জুভেন্টাসকে হারিয়ে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোদের রিয়াল মাদ্রিদ জিতেছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে প্রায় ৮০ হাজার দর্শক দুই দলের ম্যাচটি দেখেছিল স্টেডিয়ামে। মিলেনিয়াম স্টেডিয়ামের পাশেই সোফিয়া গার্ডেন। আর গার্ডেনের শেষ প্রান্তে সোফিয়া গার্ডেন স্টেডিয়াম। সোফিয়া গার্ডেন স্টেডিয়ামটি গড়েই উঠেছে সবুজের আচ্ছাদনে। মাঠের চারিপাশে সবুজের সমারোহ। তাই ছোট্ট মাঠে প্রচণ্ড বাতাস। এই স্টেডিয়ামেই খেলেছে বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড। বাংলাদেশের প্রতিটি ম্যাচের আগেই দেখা যাচ্ছে ইংলিশ যুবক কিংবা যুবতীদের হাতে ভিন্ন দেশের পতাকা। শুরুতে মনে হচ্ছিল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে কিংবা পার্ট টাইম জবের উদ্দেশ্যে সেগুলো ম্যাচ চলাকালীন বিক্রি করে আসছে তারা। কিন্তু নাহ, এটাই ওদের জীবিকা। বলে রাখা ভালো, এখানে ছোট কাজ, বড় কাজ বলে কিছু নেই। বয়স ১৮ পেরুলেই বাবা-মা ছেলেমেয়েদের ছেড়ে দেন জীবিকার তাগিদে। এরপর ছেলেমেয়েরা নিজেদের আয়ে চলেন।
 


ম্যাচের সকালে ইংলিশ এক ভদ্রলোকের সঙ্গে কথা হলো।  নাম ক্যারি। বাংলাদেশের পতাকা পেছনে টাঙিয়ে রেখেছেন।  সামনেই তার কার্ট। ওখানে ইংল্যান্ডের পতাকা, বাংলাদেশের পতাকা সংবলিত মাফলার, টুপি, ছোট পতাকা, ক্যাপ সব রয়েছে। খুবই অল্পদামে সেগুলো বিক্রি করছেন তিনি। কথা বলে জানা গেল, দীর্ঘ বছর ধরেই এ পেশায় জড়িত তিনি। ২০০৫ সালে বাংলাদেশ যেবার অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল সেবারই বাংলাদেশের নাম প্রথম শোনেন। এরপর কার্ডিফে বাংলাদেশের বেশি খেলা না হওয়ায় লাল-সবুজের দেশ সম্পর্কে খুব বেশি জানা নেই তার।  ক্যারি বলেন, ‘এখানে খেলা হলে পতাকা, ক্যাপসহ বিভিন্ন জিনিসের বেশ চাহিদা থাকে।  শুধু ক্রিকেট নয়, রাগবি ফুটবল যে খেলাই হোক দর্শকদের চাহিদা মতো সকল জিনিস থাকে আমাদের কাছে। মাঠ তো বিনোদন, আনন্দের জায়গা। এখানে মানুষকে আনন্দ দেওয়াই তো আমাদের কাজ।’

তুমি কি এ কাজটা করে গর্বিত? ক্যারি বলেন, ‘কেন গর্বিত হবো না? দীর্ঘ বছর এ পেশায় জড়িয়ে তো বেশ ভালো আছে।  আমি অনেক দেশে যাইনি ঠিকই। কিন্তু ওই দেশেল পতাকা বিক্রি করে সেই দেশ সম্পর্কে জেনেছি। এটাকে তোমরা যেন কি বলো…গ্লোবালাইজেশন।’ স্টেডিয়ামের প্রবেশদ্বারে বসেছেন ক্যারি। সামনে এগোতেই দেখা গেল আরও কয়েকটি দোকান।  প্রত্যেকটিতেই বাংলাদেশ, ইংল্যান্ডের পতাকা বিক্রি হচ্ছে।  প্রবাসী বাংলাদেশিদের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকে বাংলাদেশের পতাকা।  ম্যানচেষ্টার থেকে খেলা দেখতে আসা এক বাংলাদেশি দম্পতি জানালেন, ‘আমরা ওভালে খেলা দেখতে চেয়েও পারিনি।  এখানকার টিকিট পেয়ে তাই আর মিস করিনি। একটু দূরে হলেও চলে এসেছি। পতাকা কিনলাম। মাফলারও নিলাম। আশা করছি মাঠজুড়ে আমরা ক্রিকেটারদের অনুপ্রেরণা দিতে পারব।’
 


ইংল্যান্ডে আসার পর গুটিকয়েক মানুষের মুখে একটি কথা শুনে বেশ অবাক হয়েছি, ‘বিট্রিশরা এক সময় ভারতীয় উপমহাদেশ শাসন করত, এখন তারাই বিক্রি করছ উপমহাদেশের দেশের পতাকা!’ রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বলুন নয়তো ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে, সপ্তদশ কিংবা অষ্টদশক শতাব্দীর কথা উনবিংশ শতকে খাটে না। এখন বিশ্বায়নের যুগে জীবিকার তাগিদে করতে হয়। যেমনটা করছেন ক্যারি কিংবা তার স্বদেশী অন্যরা। তাইতো তারা বলে, ‘এটা করে আমরা গর্বিত। ’





রাইজিংবিডি/কার্ডিফ/১০ জুন ২০১৯/ইয়াসিন/তারা      

Walton AC
ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন
       

Walton AC
Marcel Fridge