ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ কার্তিক ১৪২৬, ১২ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

পানির ওপর দৌড়ে চলে কালিম

শামীম আলী চৌধুরী : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৬-১৬ ১:৫৮:১০ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৬-১৬ ৩:২৫:৪০ পিএম

শামীম আলী চৌধুরী: কালিম পাখি এক সময় আমাদের দেশে বিভিন্ন হাওর, বিল বা গ্রামের খালে প্রচুর দেখা যেত। আমাদের দেশের মানুষ পাখির মাংস খাবারের উপাদান হিসেবে বেছে নেয়ার পর যত্রতত্র ফাঁদ পেতে শিকার করার ফলে এই পাখির সংখ্যা দিন দিন কমে গেছে। যদিও কালিম আমাদের আবাসিক পাখি। তারপরও পাখি শিকারীদের জন্য আজ এরা দুর্লভ। বিশ্বে ৬ প্রজাতির কালিম পাখির দেখা পাওয়া যায়। কিন্তু আমাদের দেশে এক প্রজাতি আজ হুমকির মধ্যে বেঁচে আছে।

কালিম পাখি Prophyrio Prophyrio পরিবারের অন্তর্ভুক্ত মাঝারি আকারের জলজ পাখি। এদের দৈর্ঘ্য ৪২ থেকে ৪৫ সে.মি. এবং ওজন ৬৫০ থেকে ৭০০ গ্রাম। এদের মাথায় সাদা বর্ম আছে।  ঠোঁট দু’পাশ থেকে চাপা ও মোটা। নাকের ছিদ্র ছোট। ডানা অনেকটাই গোলাকার। পিঠ ও ডানা বেগুনী নীল বর্ণের। ঠোঁটের গোড়া থেকে মাথার পিছন পর্যন্ত লাল বর্ণের সিঁথিতে সিঁদুর পড়ার মত দাগ আছে। মেয়ে পাখির মাথার দাগ পুরুষের থেকে লম্বায় ছোট। পুরুষ ও মেয়ে পাখির চোখ রক্ত লাল বর্ণের। ঠোঁট খুবই শক্ত। গলা ফিকে এবং মুখ, ঘাড়ের উপরি ভাগ ও বুক ধুসর। এদের পা ও আঙুল বেশ লম্বা ও শক্ত। ঠোঁট, পা ও পায়ের পাতা লাল।

বেগুনী কালিম বা কায়িম পাখি হাওর, বিল বড় বড় জলাশয়, পদ্ম বা শাপলা ফুলে আবৃত খালে বা বিল এবং ঘাসপূর্ণ জলাভূমিতে বিচরণ করে। এরা দলগত পাখি। দল বেঁধে থাকতে পছন্দ করে। একসাথে ২০-৯০টির মত কালিম পাখি স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরাঘুরি করতে দেখা যায়। এদের ভেজা মাটিতেও মাঝে মাঝে দেখা যায়। বিলের উপর ভাসমান উদ্ভিদে এরা দ্রুত গতিতে দৌঁড়াতে পারে। এরা হেঁটে হেঁটে খাবার খায়।
 


এদের খাদ্য তালিকায় রয়েছে জলজ গাছের বীজ, শস্যদানা, তৃণমূল, ছোট জলজ উদ্ভিদ, পোকা ও ছোট ছোট শামুক জাতীয় প্রাণী। খাবারের সময় লেজ খুব নাড়াচড়া করে ও খক-খক করে ডাকে। এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত এদের প্রজননের সময়। প্রজনন কালে পুরুষ পাখি ডাকে ও মাথানত করে মেয়ে পাখিটির কাছে যায়। মেয়ে পাখিটিকে প্রেমে জড়ানোর জন্য  জলজ উদ্ভিদ থেকে খাবার সংগ্রহ করে আনে ও মেয়ে পাখির মুখে তুলে ধরে। এভাবে বারবার খাবার মুখে দেয়। যদিও মেয়ে পাখি পুরুষের আনীত খাবার গ্রহণ করে, তবেই তাদের মধ্যে প্রজনন হয়। এরা পানির উপরে ভাসমান জলজ উদ্ভিদে শুকনো নল, ঘাসের ডগা ও মরা পাতা দিয়ে স্তুপাকারে নিজেরাই বাসা বানায়। মেয়ে পাখিটি বানানো বাসায় ৪-৮টি (কম বেশী) পীতাভ হলদে বর্ণের ডিম পাড়ে। ডিমে উভয়েই তা দিয়ে বাচ্চা ফুটায়।

বেগুনী কালিম বা কায়িম পাখি  বাংলাদেশে দুর্লভ আবাসিক পাখি হিসেবে গণ্য। যার জন্য এরা দুর্গম ও সংরক্ষিত জলাভূমি ছাড়া বেশি টিকে নেই। চট্টগ্রাম, সিলেট বিভাগের হাওর ও দেশের কিছু জলাশয়ে পাওয়া যায়। এ ছাড়াও ইউরোপের দক্ষিণাঞ্চল, অস্ট্রেলিয়া ও এশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে এদের বিচরণ আছে।

বাংলা নাম: কালিম বা কায়িম

ইংরেজি নাম: Purple Swamphen

বৈজ্ঞানিক নাম: Prophyrio Prophyrio

বি.দ্র.: লেখক ছবিগুলো শ্রীমঙ্গলের বাইক্কা বিল থেকে তুলেছেন





রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৬ জুন ২০১৯/হাসনাত/তারা

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন