ঢাকা, রবিবার, ৩ কার্তিক ১৪২৬, ২০ অক্টোবর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

বড় গলার গগণবেড়

শামীম আলী চৌধুরী : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৬-১৯ ২:২৮:৪২ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৬-১৯ ৩:৩৯:৩৯ পিএম

শামীম আলী চৌধুরী: ‘বড় গলা গগণবেড়’ Pelecanidae পরিবারে অন্তর্ভুক্ত একটি বৃহদাকার জলচর পাখি। পাখিটির দৈর্ঘ্য ১৮২ থেকে ১৮৫ সে.মি. এবং ওজন ১১ থেকে ১২ কেজি। বিশ্বে ৯ প্রজাতির Pelican বা গগণবেড় দেখা যায়। বর্তমানে  বাংলাদেশে কোথাও এই পাখির অস্তিত্ব নেই। তবে গত ২০১৭ সালে নভেম্বর মাসের শেষ দিকে রাজশাহীর পদ্মার চরে এক ঝাঁক রাঙ্গা মানিকজোড়ের সঙ্গে একটি গগণবেড় দেখা যায়।

খবর পেয়ে ঐদিন রাতেই বার্ডস ফটোগ্রাফার আদনান আজাদ আসিফকে সঙ্গে নিয়ে চলে যাই রাজশাহী। ছবি তোলার চেয়ে বেশী আগ্রহ ছিলো এত ওজনের পাখিটি উড়ে কীভাবে দেখা। তারপর থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশে কোথাও গগণবেড় দেখা যায়নি। বর্তমানে মিরপুর চিড়িয়াখানায় তিনটি গগনবেড় খাঁচারপাখি বা কেইজ বার্ড হিসেবে আছে। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ পাখিগুলোর উপযুক্ত খাবারের মাধ্যমে  যত্নে লালন পালন করছে। ডানার পালক কেটে দেয়ার কারণে উড়তে না পারলেও পাখিগুলো চিড়িয়াখানার লেকে অন্যান্য কাজ মুক্ত ভাবেই করে বেড়াচ্ছে।

বিশালদেহী জলচর বড় গলা গগণবেড় পাখি অত্যন্ত লম্বা। ঠোঁট ভারী ও নমনীয়। ঠোঁটের উপরি ভাগ চ্যাপ্টা ও শেষ মাথা বাঁকানো। গলায় বিশাল থলি আছে। যখন থলিটিকে প্রসারিত করে তখন যে কোনো শিশু বাচ্চাকে অনায়াসে সেই থলির ভিতর বসিয়ে রাখা যাবে। প্রজননের সময় পুরুষ পাখির দেহ সাদা ও মাথার পিছনে ঝুঁটি ঝুলে থাকে। কপালের পালক ঠোঁটের উপর থরে থরে সাজানো। ডানার দুই পাশে কালো দাগ স্পষ্ট দেখা যায়। চোখ গাঢ় লাল বর্ণের। ঠোঁটের প্রান্ত লাল হয়। ঠোঁটের মাঝখানে হালকা খয়েরী-নীল বর্ণের ও মাঝখানে সাদা বিন্দুর নকশা করা। ঠোঁটের নিচের অংশ হলুদ বর্ণের। গলায় বড় থলি আছে। যা প্রয়োজনে প্রসারিত করে। থলের চামড়া হলুদ। প্রজনন সময় ছাড়া এরা পালকহীন থাকে। তখন মাথায় ঝুটি থাকে না। এদের শরীরে পালক বাদামী সাদা। ঘাড় ও পিঠ বাদামী।

এরা হাওর, বিল, বড় জলাশয় ও উপকূলে বিচরণ করে। সচরাচর জোড়ায় থাকতে পছন্দ করে। মাঝে মাঝে ছোট ছোট ঝাঁকেও থাকে। সাঁতার কেঁটে পানিতে ভেসে এরা আহার খোঁজে। মাছ ও চিংড়ি জাতীয় প্রাণী এদের প্রিয় খাবার। শিকারের সময় অগভীর পানিতে মাছের ঝাঁক ঘিরে ফিলে। বিশাল হাঁ করে নিচের ঠোঁট পানিতে ডুবিয়ে গলার থলি প্রসারিত করে জালের মতো বিস্তার করে মাছ শিকার করে। এদের মাছ শিকারের পন্থাটা অভিনব। শিকারের ফাঁকে ফাঁকে ঘোঁতঘোঁত শব্দ করে। এরা ব্যাঙের মতো কর্কশ গলায় ডাকে।

ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস এদের প্রজনন সময়। প্রজননের পর ভারতের গুজরাট ও মধ্য এশিয়ায় হাওর, বিল বা জলাশয়ের ধারে মাটিতে ডাল দিয়ে বাসা বানায়। নিজেদের বানানো বাসায় ৩ থেকে ৪টি ডিম পাড়ে। এদের ডিম ফুঁটতে এক মাসের অধিক সময় লাগে। বাচ্চা ফুঁটতে সময় নেয় প্রায় ৬০-৭০ দিন।



এরা বাংলাদেশে অনিয়মিত পাখি। ইতিহাসের পাতা থেকে জানা যায় এই পাখি উনিশ শতকে ঢাকায় দেখা গিয়েছিল। আর শেষ দেখা যায় ২০১৭ সালে নভেম্বর মাসের শেষে রাজশাহীর পদ্মার চরে। এ ছাড়া ভারত, নেপাল, মালদ্বীপ, আফ্রিকা ও ইউরোপের দক্ষিণাঞ্চলে এদের বৈশ্বিক বিস্তৃত আছে।

বাংলা নাম: বড় গলা গগণবেড়
ইংরেজি নাম: Pelican
বৈজ্ঞানিক নাম: Pelecanus onocrotalus

লেখক ছবিগুলো মিরপুর চিড়িয়াখানা থেকে তুলেছেন



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৯ জুন ২০১৯/হাসনাত/তারা

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন