ঢাকা     মঙ্গলবার   ০৪ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ১৯ ১৪২৭ ||  ১৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

risingbd-august-banner-970x90

জগৎখ্যাত পাঁচ গোপন কক্ষ

|| রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০২:১৮, ৮ জুলাই ২০২০  

পৃথিবীতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে অনেক দর্শনীয় স্থান। ভ্রমণপিপাসুদের পছন্দের তালিকায়ও থাকে এসব স্থান। বিশ্বের দর্শনীয় এসব স্থান অনেকে একাধিকবার ভ্রমণ করেছেন। কিন্তু তারা হয়তো জানেন-ই না সেখানেই লুকিয়ে রয়েছে জগৎখ্যাত গোপন কক্ষ, যা ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। এমন কটি গোপন কক্ষ নিয়ে এই প্রতিবেদন।

হোয়াইট হাউসের বোম্ব শেল্টার

মার্কিন প্রেসিডেন্টের অফিস হোয়াইট হাউস। এতে অনেক গোপন কক্ষ আছে। হলিউডের অ্যাকশন ঘরানার সিনেমা দেখলে তা কিছুটা হলেও আঁচ করা যায়। তবে একটি ছাড়া, হোয়াইট হাউসের বাকি গোপন কক্ষের বিষয়ে তথ্য উন্মুক্ত নয়। এই কক্ষের নাম ‘বোম্ব শেল্টার’। বহিরাগত আক্রমণ থেকে বাঁচতে এই গোপন কক্ষ তৈরির পরিকল্পনা করা হয় উনিশ শতকে। অর্থাৎ ১৯৪১ সালের ডিসেম্বরে পার্ল হারবারে আক্রমণের ঠিক পরপরই প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট একটি গোপন টানেল নির্মাণ শুরু করেন। ২৩২ মিটার দৈর্ঘ্যের টানেলটি হোয়াইট হাউসকে সংযুক্ত করেছে  ‘ইস্ট উইং’ এর ভূগর্ভস্থ অংশের একটি সুরক্ষিত কক্ষের সঙ্গে। কক্ষটি ৩০০ মেগাটন বিষ্ফোরক সহ্য ক্ষমতা সম্পন্ন। নির্মাণকালে এর কোড নাম ছিল ‘মম’। বর্তমানে এটি ‘বোম্ব শেল্টার’, ‘বেজমেন্ট বাঙ্কার’, ‘ডিপ আন্ডারগ্রাউন্ড কমান্ড সেন্টার’ বা ‘প্রেসিডেন্সিয়াল ইমার্জেন্সি অপারেশন্স সেন্টার’ নামে পরিচিত।

বাকিংহাম প্যালেসে গোপন সুড়ঙ্গ

অনেক লোককাহিনিতে রাজপ্রাসাদের গোপন সুড়ঙ্গের বিষয় উল্লেখ পাওয়া যায়। এ সুড়ঙ্গ রাজা-রানীর সুরক্ষায় তৈরি করা হতো। লোককাহিনি হলেও এসবের  অধিকাংশই সত্য ঘটনা। ঠিক যেমন ইংল্যান্ডের রাজপ্রাসাদ বাকিংহাম প্যালেস। লুকোচুরি খেলার মতো অনেক গোপন কক্ষই এখানে আছে। তার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত রানীর গোপন কক্ষে যাওয়ার সুড়ঙ্গটি। বছরের জুলাই-অক্টোবর পর্যন্ত এই প্যালেস জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকে। প্রায় সকল কক্ষে ঘুরতে পারেন দর্শনার্থীরা। কিন্তু দর্শনার্থীরা আঁচই করতে পারবেন না এর প্রধান ড্রয়িং রুমে একটি গোপন দরজা রয়েছে। যা রানীর গোপন কক্ষের সঙ্গে সংযুক্ত।

মহারানীর গোপন কক্ষ

বাকিংহাম প্যালেসে অনেকগুলো গোপন কক্ষ আছে। তার মধ্যে একটি অতি গোপনীয় ও সুরক্ষিত কক্ষ রয়েছে। প্যালেসের গোপন সুড়ঙ্গটি এই কক্ষে এসে যুক্ত হয়েছে। এমনকি উইন্ডসর প্রাসাদেও রানীর জন্য একইরকম একটি গোপন কক্ষ আছে। যুদ্ধ কিংবা যেকোনো সন্ত্রাসবাদী আক্রমণের সময় রানীকে এই কক্ষে রাখা হয়। কারণ এই কক্ষগুলো বুলেটপ্রুফ এবং অগ্নিনির্বাপণ সক্ষম।

ফ্রিক কালেকশনের গোপন বোলিং অ্যালি

পূর্ব ম্যানহাটনে অবস্থিত চিত্রশিল্প এবং ভাষ্কর্যের বিখ্যাত গ্যালারি ফ্রিক কালেকশন ভ্রমণপিপাসুদের অন্যতম পছন্দের স্থান। ধনাঢ্য স্টীল ব্যবসায়ী ফ্রিক পরিবারের বাড়ি ছিল এটি। এই বাড়িতে একটি বহির্গমন পথ, যার ঠিক বিপরীতেই নিউ ইয়র্ক সিটি ফায়ার কোড। বাড়িটিতে এমন আরো অনেক ব্যক্তিগত কক্ষ রয়েছে, যেগুলো সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত। কিন্তু এর ভূগর্ভে রয়েছে শহরের সবচেয়ে রুচিশীল সুন্দর বোলিং গেমের অ্যালি পথ। ১৯১৪ সালে নির্মিত অ্যালিটির দেয়াল মেহগনি কাঠের তৈরী।

মাউন্ট রাশমোর’র গোপন কক্ষ

সাউথ ডাকোটা অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত মাউন্ট রাশমোর। রহস্যময় আটটি স্মৃতিস্তম্ভর মধ্যে অন্যতম এটি। সুবিশাল ভাস্কর্যে ৬০ ফুট দৈর্ঘ্যের ৪টি মুখমণ্ডলের অবয়ব রয়েছে। যা মূলত আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন, থমাস জেফারসন, থিওডোর রুজভেল্ট এবং আব্রাহাম লিঙ্কনের মুখায়ব। আব্রাহাম লিঙ্কনের মুখমণ্ডলের পেছনে একটি গোপন কক্ষ আছে। কক্ষটি স্বাধীনতার ঘোষণা এবং সংবিধানের খসড়া সংক্রান্ত নথিপত্র সংরক্ষণের জন্য ১৯৪১ সালে নির্মিত হয়। বিস্ময়কর বিষয় হলো—স্মৃতিসৌধটির ভাস্কর গুটজন বোর্গলুম গোপন কক্ষটির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই মারা যান।

তথ্যসূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট

 

ঢাকা/শান্ত

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়