ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ আশ্বিন ১৪২৬, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

১০০ দিনের কর্মসূচি : শতভাগ অর্জনের দাবি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

মোহাম্মদ নঈমুদ্দীন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৫-১৬ ৬:১৪:৪১ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৫-১৬ ৭:১৫:৩৬ পিএম
১০০ দিনের কর্মসূচি : শতভাগ অর্জনের দাবি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
Walton E-plaza

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : দায়িত্ব নেওয়ার পর মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত ১০০ দিনের কর্মসূচি শতভাগ অর্জনের দাবি করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে আস্থাভাজন মনে করে এই মন্ত্রণালয়ে আবারো দায়িত্ব দিয়েছেন। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা একশ দিনের একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলাম। খুব বেশি মন্ত্রণালয় এই ধরনের কর্মসূচি ঘোষণা দেয়নি। আমরা সাহস করে দিয়েছিলাম। এক কথায় বলতে গেলে আমরা একশ দিনের কর্মসূচি শতভাগ অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে হয়তো সামান্য কম থাকতে পারে।’

একশ দিনের কর্মসূচির অগ্রগতি জানিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ দাবি করেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারকে সামনে রেখে আমরা এগিয়ে গেছি।একশ দিনের কর্মসূচির মধ্যে যে বড় কাজটি ছিল সেটা আমরা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছি। তা হলো- স্বাস্থ্যসেবা সপ্তাহ। সেবা সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী নিজে উপস্থিত ছিলেন।’

‘পাশাপাশি বড় একটি অর্জন আমাদের হয়েছে সেটা হলো- এই একশ দিনের মধ্যে দেশের আটটি বিভাগে আটটি ক্যান্সার ও কিডনি হাসপাতাল নির্মাণের ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) তৈরি। সেটা আমরা সফলতার সঙ্গে করেছি। এখন এটা প্ল্যানিং কমিশনে আছে। এটার ওপর কাজ চলছে। আমরা আশা করি, প্ল্যানিং মিনিস্ট্রি এটা তাড়াতাড়ি একনেকে নিয়ে যাবে,’ বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘ডিপিপি অনুমোদন পেলে আটটি ডিভিশনে আটটি ক্যান্সার হাসপাতাল ও আটটি কিডনি হাসপাতাল নির্মাণ কাজ শুরু করতে পারব। প্রত্যেক বছর লাখ লাখ লোক কিডনি রোগে আক্রান্ত হয় ও মৃত্যুবরণ করে। আমাদের দেশ থেকে যারা বিদেশে চিকিৎসা নিতে যান তাদের অধিকাংশই ক্যান্সার ও কিডনি রোগী। আমাদের কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা ক্যান্সার ও কিডনি হাসপাতাল নির্মাণ করে বাংলাদেশেই বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা দিতে চাই। ’

চিকিৎসকের উপস্থিতি শতভাগ করার টার্গেট :
​কড়া মনিটরিংয়ের কারণে দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ৪০ শতাংশ উপস্থিতি থেকে এখন ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ চিকিৎসকের উপস্থিতি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আগামী দিনে আমরা চিকিৎসকদের উপস্থিতির হার শতভাগ করার চেষ্টা করব। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কড়া মনিটরিংয়ের কারণে দেশের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের উপস্থিতি বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। এই একশ দিনের কর্মসূচির মধ্যে এটি অন্যতম অর্জন আমাদের।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রতিটি হাসপাতাল, ক্লিনিককে মনিটরিংয়ের আওতায় নিয়ে আসছি। আমাদের মন্ত্রণালয়ে মনিটরিং সেল আছে। আমরা বিশ্বাস করি, স্বাস্থ্যসেবার মান আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে। আশা করি, এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।’

একশ দিনের কর্মসূচি অর্জনের কথা জানিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, ‘একশ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের প্রত্যেকটি হাসপাতালে সুন্দর সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে। তা ছাড়া, সেবার মূল্য তালিকা প্রদর্শিত হচ্ছে। বোর্ডে সেবার মূল্য লিখে দেওয়া হয়েছে। সেই বোর্ডটি সুন্দর জায়গায় ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে যাতে জনগণ কী কী সেবা পাবে এবং তার মূল্য কত তা জানতে পারবেন।’

তিনি বলেন, ‘এই একশ দিনে আমরা একটি পূর্ণাঙ্গ ওয়েবসাইট খুলেছি, সেখানে জনগণ অভিযোগ ও পরামর্শ দিতে পারবেন। ইতোমধ্যে মানুষ তাদের মতামত দিচ্ছে। অভিযোগ ও পরামর্শ দিচ্ছেন অনেকেই। এসব দেখাশোনার জন্য আমাদের আলাদা টিম রয়েছে। তারা অভিযোগ আমলে নিয়ে একদিকে উত্তর দিচ্ছেন, অন্যদিকে ব্যবস্থা নিচ্ছেন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবা সপ্তাহে হাসপাতালগুলোকে অ্যাম্বুলেন্স ও জিপ বিতরণের অঙ্গীকার ছিল। সেবা সপ্তাহের উদ্বোধনী দিনে প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে আমরা গাড়ি বিতরণ শুরু করেছি। পরে আমি নিজে হ্যান্ডওভার করেছি।’

তিনি বলেন, ‘ইমার্জেন্সি, মেডিসিন বিভাগ ছাড়া অন্য ডাক্তারদের কর্মঘণ্টা হলো- সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত। এজন্য ২টার পরে গেলে হাসপাতালে ডাক্তার কম দেখা যায়। তার মানে এই নয় যে ডাক্তাররা অনুপস্থিত। এজন্য সেকেন্ড শিফট চালু করা যায় কি না, তা নিয়ে আমরা ভাবছি।’

শিগগিরই ৪৭৯২ চিকিৎসক নিয়োগ :
দেশের সরকারি হাসপাতালে অচিরেই ৪ হাজার ৭৯২ জন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়ার কথা জানান স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক।

তিনি বলেন, ‘মোট ১০ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া কথা। সেখান থেকে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অচিরেই আরো ৪৭৯২ জন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশ পাওয়া গেছে।আশা করছি আমরা দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু করতে পারব। এই নিয়োগ সম্পন্ন হলে সব মিলিয়ে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়ে যাবে। আগামী বছরের শুরুতে বাকি ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে। যাতে কোনোভাবেই সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক সঙ্কট না থাকে।  সবাই যাতে যথাসময়ে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পান।’

এ সময় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের চিফ প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম এ মোহীসহ মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৬ মে ২০১৯/নঈমুদ্দীন/সাইফুল

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন