ঢাকা, সোমবার, ১৩ মাঘ ১৪২৬, ২৭ জানুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

এইডস আক্রান্ত মায়ের সুস্থ সন্তান প্রসব

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১২-০৩ ৫:৪৮:১৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১২-০৩ ৫:৪৮:১৫ পিএম

২৯ হাজার ৮৯২ জন গর্ভবতী মায়েদের পরীক্ষায় মাধ্যমে ৯১ জনের এইচআইভি পজেটিভ পাওয়া যায়। ৭৫ জন এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত গর্ভবতী মা সন্তান প্রসব করেছেন। তাদের মধ্যে দেশে নতুন ৬৯ জন শিশুকে এইচআইভি সংক্রমণ থেকে প্রতিরোধ বা রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। বাকি শিশুরা পরীক্ষার অপেক্ষায় আছে।

এমনটাই জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক‌্যাল   বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া।

তিনি বলেছেন, এইচআইভিতে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা নির্ণয়ে সংশ্লিষ্ট সব মানুষকে রেপিড টেস্টের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এইচআইভিতে বা এইডস-এ আক্রান্তদের মৃত্যুহার শূন্যের কোটায় নিতে আসতে আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

বিশ্ব এইডস দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডা. মিল্টন হলে   একটি সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ২০১৩ সালের আগ পর্যন্ত সরকারি স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত গর্ভবতী মায়েদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা ছিল না। বাংলাদেশে সরকারি পর্যায়ে প্রথম বারের মতো ২০১৩ সালের ১৬ মে এইচআইভি আক্রান্ত গর্ভবতী মায়েদের সেবা প্রদান গাইনি বিভাগের মাধ্যমে এই বিশ্ববিদ্যালয় শুরু করেছে। এ সেবা অব্যাহত চলছে। এই পর্যন্ত মোট ৯১ জন গর্ভবতী মা এই সেবার অধীনে আছেন।

তিনি বলেন, দেশে এইচআইভিতে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা নির্ণয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক‌্যাল বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশে চিকিৎসা ক্ষেত্রে প্রথম ও প্রধান পোস্ট গ্রাজুয়েট বিশ্ববিদ্যালয় যেখান থেকে বিভিন্ন বিভাগের মাধ্যমে রোগীদের কম্প্রিহেনসিভ স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা হয়। ১৯৮৯ সালে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগে বাংলাদেশে প্রথম এইচআইভি সনাক্ত করা হয় এবং বর্তমানে তা অব্যাহত আছে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৭ সালের অক্টোবর মাস থেকে এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বিনামূল্যে   এআরভি প্রদান ও সব রোগের যথাযথ চিকিৎসা সেবার পথ উন্মুক্ত হয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয় হতে সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী এআরভি নিচ্ছেন। চলতি বছেরের ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত মোট ১২৫৯ জন রোগী এআরভি নিয়েছেন। তাদের সব পরীক্ষা ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং এই সেবাও অব্যাহতভাবে চলছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ সিকদার, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. সাহানা আখতার রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান।

সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক (ন্যাশনাল এইডস এসটিডি কন্ট্রোল) আমিনুল ইসলাম মিয়া।

আরো উপস্থিত ছিলেন রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল হান্নান, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোজাফফর আহমেদ, অবস অ‌্যান্ড গাইনি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. তৃপ্তি রাণী দাস, সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সালেহা বেগম চৌধুরী, ভাইরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী, অধ্যাপক ডা. বেগম নাসরিন, ডা. মেরিনা আক্তার প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিচালক (হাসপাতাল) ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে মাহবুবুল হক। পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পরিচালক ডা. মো. নাজমুল করিম মানিক।


ঢাকা/সাওন/সাইফ