ঢাকা, শুক্রবার, ২৬ চৈত্র ১৪২৬, ১০ এপ্রিল ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

করোনা: সাধারণ রোগীর ভরসা অনলাইন সেবা

বিশেষ প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৩-২৬ ৯:৪২:৫৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৩-২৬ ৯:৪২:৫৪ পিএম

করোনাভাইরাসের কারণে হাসপাতালে চিকিৎসা সুবিধা থেকে সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনরা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।  তবে চিকিৎসাসেবা নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে সামাজিক বিভিন্ন সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু চিকিৎসক।  তারা ফেসবুকে তাদের নাম এবং মোবাইল ফোন নম্বর দিয়ে অনলাইনে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে।ন

দুদিন আগে মিরপুরের রেহনুমা আনতিকার ভাইয়ের জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে।  তিনি রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে যোগাযোগ করেন।  কিন্তু কোথাও কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না পেয়ে তিনি তার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। তার সে স্ট্যাটাস পড়ে বেশ ক’জন চিকিৎসক সাড়া দেন এবং অনলাইনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন।  সে অনুযায়ী রেহনুমা তার ভাইয়ের চিকিৎসা সেবা নেন।

চাঁদপুরের একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন অনামিকা জাহান বৃষ্টি (ছদ্মনাম)।  গত ১২ মার্চ গিয়েছিলেন তাদেও বাড়ির অদূরে একটি চরে বেড়াতে।  বাড়ি ফেরার পর রাতেই তার ঠাণ্ডা লাগে, এরপর কিছুটা জ্বর, সেই সঙ্গে শরীর ও গলা ব্যথা। আর আগে থেকেই তিনি শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন।  এর মাঝেই দেশজুড়ে করোনাভাইরাস আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।  দেশজুড়ে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়। ফলে তার মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক তৈরি হয়।  তিনি নিজেকে ঘরের মধ্যে আবদ্ধ করেন।  স্থানীয় ফার্মেসি থেকে রোগের লক্ষণ বলে ওষুধ নেন।  কিন্তু তেমন কোনো ফল পাচ্ছিলেন না। বিভিন্নভাবে স্থানীয় চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো ফল পাননি।  এ অবস্থায় তিনি ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাস থেকে ফোন নম্বর নিয়ে যোগাযোগ করেন।

বৃষ্টি রাইজিংবিডিকে বলেন, এভাবে সাড়া পাবো বিশ্বাস করতে পারিনি।  এর আগেও অনেকগুলো নম্বরে ফোন দিয়েছি।  স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি।  করোনাভাইরাসের সহায়তা নেওয়ার জন্য যেসব নম্বর দেওয়া হয়েছে সেগুলোতে ফোন করেও যোগাযোগ করতে পারিনি। লাইনগুলো সবসময় ব্যস্ত পেয়েছি। অবশেষে ফেসবুকের এক বন্ধুর সহায়তায় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির হেলথ ডিপার্টমেন্টের একটি স্ট্যাটাস পাই।

তাতে লেখা ছিল, ‘আপনার ভয়ে আতঙ্কে কান্না পাচ্ছে? হাত-পা কাঁপছে, খারাপ লাগছে? আমরা আছি পাশে। এখানে ডক্টর আছে আপনার কথা শুনতে, সাহস দিতে।  নির্দ্বিধায় ফোন করুন।  ২৪ ঘণ্টা ননস্টপ সার্ভিস দিতে পাশে আছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি পাবলিক হেলথ ডিপার্টমেন্ট। আমাদের ২৪/৭ হেলথ সার্ভিসের সঙ্গে থাকুন। আমরা এই মুহূর্ত থেকে আমাদের হটলাইন নম্বরগুলো ওপেন করে দিলাম।’

আজিমপুরের বসবাস করেন একটি বিদেশি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।  সোমবার রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই পেটের ডানপাশে প্রচণ্ড ব্যাথা অনুভব করেন।  সকাল ১০টা থেকে তিনি রাজধানীর বিভিন্ন সুপরিচিত হাসপাতাল ও ক্লিনিকের ডাক্তারদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কাউকে পাননি।  পরে তিনি অনলাইনে যোগাযোগ করে এক চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন নেন।

আর এভাবেই অনলাইনে চিকিসাৎ সেবা নিয়ে সুস্থ হচ্ছেন অনেকেই।  সেজন‌্য সংশ্লিষ্টদের কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছেন তারা।


হাসনাত /জেডআর