ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

রোহিঙ্গা গণহত্যার প্রমাণ পায়নি মিয়ানমার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০১-২১ ৩:০৬:০৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০১-২১ ৬:১১:৩৬ পিএম

রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর গণহত্যা চালানোর কোনো প্রমাণ পায়নি বলে দাবি করেছে মিয়ানমার সরকারের নিযুক্ত একটি তদন্ত কমিটি। তবে রাজ্যটিতে ‘যুদ্ধাপরাধের’ প্রমাণ পেয়েছে বলে সোমবার জানিয়েছে কমিটি।

২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী। অভিযানের মুখে প্রাণ বাঁচাতে সাত লাখ ৩০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। জাতিসংঘ পরে এই ঘটনায় সেখানে তদন্ত দল পাঠায়। কমিটি তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ‘গণহত্যার অভিপ্রায়’ নিয়ে গণধর্ষণ ও ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে। শত শত গ্রাম পুড়িয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তীতে সবকিছু সরিয়ে নিয়ে পরিষ্কার করে ফেলা হয়েছে।

মিয়ানমারের সরকারের তদন্ত কমিশন বলেছে, সামরিক বাহিনীর দমনাভিযানের সময় সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ তারা পেয়েছে। এসব ঘটনার জন্য ‘বহু ভূমিকায়’ থাকা লোকজনের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও ছিল এমন সিদ্ধান্তে আসার মতো ‘বাস্তব প্রমাণ’ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ‘নিরাপরাধ গ্রামবাসীদের হত্যা ও তাদের বাড়িঘর ধ্বংস’ করার ঘটনাও রয়েছে।

গ্রামবাসী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে দাবি করে কমিটি  ৩০টি পুলিশ পোস্টে হামলার জন্য রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের দায়ী করেছে। এসব হামলাই দমনাভিযানের ‘সূচনা’ করেছে মন্তব্য করে পরিস্থিতিকে ‘অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সংঘাত’ বলেও বর্ণনা করা হয়েছে।

কমিটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চলে মুসলমান বা অন্য কোনো সম্প্রদায়কে ধ্বংসের পরিকল্পনা বা অভিপ্রায় অনুসারে এসব হত্যা বা বাস্তুচ্যুতির কাজ করা হয়েছিল, এমন ধারণা করার মতো কোনো প্রমাণ আইসিওই (তদন্ত কমিটি) পায়নি’।

এতে বলা হয়েছে, ‘এসব অপরাধ কোনো জাতীয়, নৃগোষ্ঠীগত, বর্ণগত,বা ধর্মীয় গোষ্ঠীকে পুরোপুরি বা আংশিক ধ্বংস করার অভিপ্রায় নিয়ে বা গণহত্যার মতো আন্তর্জাতিক অপরাধ হওয়ার মতো প্রয়োজনীয় মানসিকতা নিয়ে করা হয়েছে, এমন বিতর্কের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই, সিদ্ধান্ত আরও দূরে।’

অধিকার গোষ্ঠী ও রোহিঙ্গা নেতারা প্রতিবেদনটিকে প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন, জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে দায়ের করা গণহত্যার মামলার রায় দেওয়ার আগে এটি সত্যকে ‘ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা’।

অবশ্য কমিটির এই প্রতিবেদনের সঙ্গে মিয়ানমার সরকার ‘একমত’ বলে মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট উইন মাইন্ট। তিনি বেসামরিক লোকজন ও রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের অপরাধের বিষয়ে আরো তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। 


ঢাকা/শাহেদ

     
 
রাইজিংবিডি স্পেশাল ভিডিও