ঢাকা, শনিবার, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ৩০ মে ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

নিউইয়র্কে মর্গে জায়গা নেই, লাশ নেওয়ার অপেক্ষায় ট্রাক

নিউজ ডেস্ক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৪-০৭ ৫:১৪:৩৮ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৪-০৭ ৭:০৯:১৮ এএম

মহামারি করোনাভাইরাসে নাকাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশটির ৫০টি রাজ্য ও নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছে। প্রতিদিনেই লম্বা হচ্ছে লাশের সারি।

সবচেয়ে খারাপ অবস্থা নিউইয়র্ক রাজ্যে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক শহরে। এই শহরের হাসপাতালগুলোতে তিল ধারনের ঠাঁই নেই। ইমার্জেন্সি ইউনিটগুলোকে বানানো হচ্ছে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)। ঠাঁসাঠাসি করে রাখা হয়েছে ভেন্টিলেটর। নতুন করোনা আক্রান্ত রোগীদের ভিড় সামাল দেওয়া যাচ্ছে না।

মর্গে জায়গা নেই লাশ রাখার। মর্গ তো নয় যেন লাশের স্তুপ। বাইরে অপেক্ষা করছে ট্রাক। সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে এমনটাই জানিয়েছেন নিউইয়র্ক হাসপাতালের ডাক্তার ক্রেইগ স্পেন্সার।

‘লাশ নেওয়ার জন্য হাসপাতালের বাইরে ট্রাক রয়েছে। সেখানে লাশ ভরা হচ্ছে। মর্গে লাশ রাখার জায়গা নেই। ভরে যাচ্ছে। নতুন করোনা আক্রান্ত রোগীর ঢল থামানো যাচ্ছে না। ইমার্জেন্সি ইউনিটগুলোকেও এখন আইসিইউ বানাতে হচ্ছে।’

যদিও দাবি করা হচ্ছে নিউইয়র্কে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। কিন্তু ডাক্তার স্পেন্সার এই তথ্যের সঙ্গে একমত হতে পারেননি। তিনি জানিয়েছেন করোনা আক্রান্ত নতুন রোগী আসতে সময় নেয়। সঙ্গে সঙ্গেই কেউ হাসপাতালে আসে না। আর প্রতিদিন একইরকম ঢল থাকে না। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসতে পারে।

‘আশা করা যায় আরো এক কিংবা দুই সপ্তাহ পর সত্যিকার অর্থেই করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমতে শুরু করবে। যারা প্রকৃতপক্ষেই অসুস্থ সেই সংখ্যাটা কমবে।’

স্পেন্সার জানিয়েছেন করোনাভাইরাস রুখতে সামাজিক দূরত্ব ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা খুবই জরুরি। একমাত্র এগুলো মেনে চললেই করোনাকে রুখে দেওয়া সম্ভব। নিয়মগুলো মানলেই কেবল রোগীর সংখ্যা কমতে শুরু করবে।

‘আমাদের কাছে আসলে কোনো ম্যাজিক নেই। চিকিৎসকদের হাতে নেই কোনো যাদুমন্ত্র। আমরা কেবল একটি বিষয় সম্পর্কেই বলতে পারি সেটা হল- আপনারা যদি বাসায় থাকেন, তাহলে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হবেন না। আাপনারা যদি আক্রান্ত না হন তাহলে ইমার্জেন্সি রুমে আপনাদের সঙ্গে আমাদের দেখা হবে না।’

মহামারি করোনাভাইরাসে বিশ্বের ২০৯টি দেশ ও দুটি আন্তর্জাতিক অঞ্চলের ১৩ লাখ ৪২ হাজার ৩৭২ জন আক্রান্ত হয়েছে। বিশ্বব্যাপী প্রাণ হারিয়েছে ৭৪ হাজার ৫৫৮ জন। করোনার সঙ্গে লড়াই করে সেরে উঠেছে ২ লাখ ৭৮ হাজার ১৮২ জন।

 

ঢাকা/আমিনুল