ঢাকা, শুক্রবার, ২৬ আষাঢ় ১৪২৭, ১০ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

রেল কি করোনা এক্সপ্রেস ?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৬-০৩ ৮:০৮:২৬ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৬-০৩ ৮:৩২:৩৯ এএম

রেল কি করোনা এক্সপ্রেস, এ প্রশ্ন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

মমতার অভিযোগ, বিভিন্ন রাজ্য থেকে শ্রমিক এবং আটকে পড়া মানুষদের ফেরাতে ২৩৫টি ট্রেনের পরিকল্পনা পশ্চিমবঙ্গ সরকারই করেছে, ভাড়াও দিচ্ছে। তার পরেও মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, চেন্নাই এবং দিল্লির মতো ‘হটস্পট’ থেকে যে শ্রমিকেরা ফিরছেন, তাদের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা করেনি রেল।

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘একটা সিটে কেন তিন-চার জন করে আসবেন? শ্রমিক এক্সপ্রেসের নামে আপনারা কি করোনা এক্সপ্রেস চালাচ্ছেন? বার বার ট্রেন চালাতে কী অসুবিধা? ট্রেনে বগি বাড়ানোও সম্ভব।  মানুষকে খড়ের গাদার মতো করে নিয়ে আসছেন। যার ছিল না, তাকেও আপনি করোনা দিচ্ছেন।’

শুক্রবার হাওড়া জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরেরই রিপোর্ট ছিল, গত ২৮ তারিখ পর্যন্ত শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনে শুধু মহারাষ্ট্র থেকে হাওড়ায় এসেছেন সাড়ে তিন হাজারের বেশি শ্রমিক। যার মধ্যে করোনা পজ়িটিভ ১১৭। সোমবার (১ জুন) ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চারটি ‘শ্রমিক স্পেশাল’ ট্রেনে গুজরাট থেকে আসেন বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার সাড়ে ৬শ শ্রমিক।

পশ্চিমবঙ্গে প্রতিদিনই দ্রুত বদলে যাচ্ছে করোনা-আক্রান্তের রেকর্ড। গত রোববার ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণের সংখ্যা ছিল ৩৭১। সেটাই ছিল পশ্চিমবঙ্গে একদিনে সর্বাধিক আক্রান্তের পরিসংখ্যান। মঙ্গলবার (২ জুন) একদিনে সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় চারশ'তে! এ দিনই ৬ হাজার ছাড়িয়ে যায় রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা।

আসলে বাস ট্রেন চালু হবার পর বিভিন্ন রাজ্য থেকে পশ্চিমবঙ্গে শ্রমিকদের ফেরার ঢল নেমেছে। শুক্রবার নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বলেন, ‘বাসে এবং গাড়িতে কয়েক লক্ষ মানুষ এসেছেন। এখনও পর্যন্ত ৭৫ হাজার মানুষ এসেছেন ট্রেনে। অনেকে করোনা আক্রান্ত। ওই জন্যই তো আক্রান্ত বাড়ছে। তারা তো হটস্পট রাজ্য থেকে আসছেন। পরিকল্পনাহীন ভাবে যাতায়াত বাড়ায় এটা ছড়িয়েছে বেশি। এখন আর উপায় নেই। সবাইকে নিয়েই থাকতে হবে। করোনাকে নিয়ে ঘুমোন, করোনাকে পাশবালিশ করে নিন। ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। নিয়ন্ত্রণের চেষ্টাও করেছি। কিন্তু সব আমার হাতে নেই। আকাশ যেমন আমার হাতে নেই, ট্রেনটাও আমার হাতে নেই।’

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

 

ঢাকা/টিপু