ঢাকা, বুধবার, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২০ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

‘চাকরির পরোয়া আমি করি না’

আরিফ সাওন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৮-১৯ ৬:৩২:৪৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৯-২৮ ১০:৩২:৩৭ পিএম

আরিফ সাওন: এম এম জাহাঙ্গীর। পেশায় একজন কারারক্ষী। কর্মরত আছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জে। সেখানকার জেল সুপারের গাড়ির চালক তিনি। যে গাড়িটি চালান সেই গাড়িতে বসে গান গেয়ে ফেসবুকে প্রকাশ করে একবছরেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। তার এক একটি গানের ভিউর সংখ্যা ১৫-১৬ লাখ। সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা জাহাঙ্গীরে আদ্যোপান্ত জানতে ঢাকা থেকে চাপাইনবাবগঞ্জে যান আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক আরিফ সাওন। তিন পর্বের স্বাক্ষাৎকারের আজ শেষ পর্ব-

রাইজিংবিডি : গান গাওয়া নিয়ে কোনো প্রকার প্রতিবন্ধকতা আসছে কিনা?

জাহাঙ্গীর : প্রচুর প্রতিবন্ধকতা আসে। আপনি জানেন যে আমি একটা সরকারি চাকরি করি। অনেক বাধ্যবাধকতা আছে আমাদের।

রাইজিংবিডি : বাধ্যবাধকতা আছে, তারপরও কেন করেন?

জাহাঙ্গীর : সবার আগে আমি একজন মানুষ। যেকোন সময় আমার মৃত্যু হতে পারে। মানুষ হিসেবে আমার একটা দায়বদ্ধতা আছে। সামাজিক বলেন, রাষ্ট্রীয় বলেন, যেভাবে পারি, সেভাবেই দেশকে যাতে সুন্দর ভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, সেই চেষ্টা করি।

রাইজিংবিডি : গানের বিষয়টি আপনার স্ত্রী কীভাবে দেখেন?

জাহাঙ্গীর : স্ত্রী এটা ভালোভাবে নেয় না। গানের জন্য স্ত্রী-সন্তানকে সময় কম দিতে পারি। তার ধারনা গানে যে সময়টুকু আমি ব্যয় করি সেটা না করলে এই সময়টুকু তারা পেতো। তাই স্ত্রী এটাকে খুব ভালো ভাবে নেয় না।

রাইজিংবিডি : গান যদি কোনো কারণে আপনার চাকরিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে?

জাহাঙ্গীর : গানে আমি কোনো মিথ্যা কথা বলি না। যেগুলো সত্য, সেটাই তুলে ধরি। আর সত্যকে সত্য বলা আর মিথ্যাকে মিথ্যা বলার সহস যে রাখে তাকে আমি প্রকৃত মানুষ বলে মনে করি।

আমি সমসাময়িক বিষয় নিয়ে গান করি। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে প্রতিনিয়ত দেখছি কোট কাছারিতে মানুষ সময়মত বিচার পাচ্ছে না। এসব দেখে আমি ভুলে যাই যে আমি কোনো প্রশাসনিক মানুষ বা আমি একজন সরকারি কর্মচারি।

মানুষের ভোগান্তি দেখার পর আমি প্রথমেই ভাবি, তার দু:খ-কষ্ট কীভাবে মোচন হবে। কার কাছে বললে সমস্যার সমাধান হবে। এই গানের মাধ্যমেই সেগুলো একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে আমি প্রচার করার চেষ্টা করি।

যদি কেউ মনে করেন, আপনি সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে এ ধরনের গান করতে পারেন না। তখন আমি ব্যক্তিত্বহীনতায় ভুগবো। কারণ আমি মনে করি, আগে আমি মানুষ, তারপর আমার পেশা।

মানুষ হিসেবে আরেকটা মানুষের কতোটা উপকার করতে পারছি, সমাজের কতটুকু সেবা করতে পারছি, আমার দ্বারা রাষ্ট্র কতটুকু উপকৃত হচ্ছে এটাই সবার আগে দেখার বিষয়।

রাইজিংবিডি : ধরেন, গান গাওয়ার জন্য চাকরিই চলে গেলো। কি করবেন?

জাহাঙ্গীর : আমি গবির মানুষের সন্তান, চাকরির উপরেই নির্ভর। আমার মনকে বার বার বোঝাতে চেষ্টা করেছি, গান গাওয়া, লেখা বা সুর করে তা মানুষের মাঝে প্রচার করার দরকারটা কি? মাঝে মাঝে নিজেকে প্রশ্ন করি, দেশে এতো চাকরিজীবী আছে, কেউ করে না। তোমার এতো কী দায়? কিন্তু আমার মস্তিষ্ক আমার বিবেক, ওই চাকরি দেখে না। একটা কথাই মনের মধ্যে জাগ্রত হয় যে, আল্লাহ যেহেতু আমায় সৃষ্টি করেছেন, অবশ্যই রিজিকের মালিক তিনিই। এখানে চাকরি থাক বা যাক; এটা আমি পরোয়া করি না।

আসলে মনের গহীণ থেকে আমার মাথায় কিছু কথা আর সুর এমনি এমনিই চলে আসে। সামাজিক আর মানবিক অবক্ষয় দেখলেই কেন যেন আমার মস্তিস্কে কথার ডালি সাজতে থাকে। গুণ গুণ করে সুরও চলে আসে। ঘোরলাগা এক আনন্দ নিয়ে আমার মনের কথাগুলোকেই তুলে ধরার চেস্টা করি দেশবাসীর সামনে।

রাইজিংবিডি : ধন্যবাদ সময় দেয়ার জন্য।

জাহাঙ্গীর : রাইজিংবিডিকেও ধন্যবাদ এতো কষ্ট করে ঢাকা থেকে এতোদূরে এসে আমার স্বাক্ষাৎকার নেয়ার জন্য। আমি আপ্লুত আমি কৃতজ্ঞ।

** ‘শেখ হাসিনাকে নিয়ে ১ লাখ গান’

** ‘তাল তুলি এয়ার ফ্রেশনারের খালি ক্যানে’

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৯ আগস্ট ২০১৯/সাওন/নবীন হোসেন

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন