ঢাকা, শুক্রবার, ৫ আশ্বিন ১৪২৬, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

খালেদা জিয়ার নাইকো দুর্নীতি মামলায় চার্জ শুনানি হয়নি

মামুন খান : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৫-১৯ ১২:৩১:৩২ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৫-১৯ ২:৩৪:১৩ পিএম
খালেদা জিয়ার নাইকো দুর্নীতি মামলায় চার্জ শুনানি হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক : অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নাইকো দুর্নীতির মামলায় চার্জ গঠনের বিষয়ে শুনানি হয়নি।

রোববার কেরানীগঞ্জের কারাভবনে নবনির্মিত ২ নম্বর ভবনে স্থাপিত অস্থায়ী ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ শেখ হাফিজুর রহমানের আদালতে মামলাটি চার্জ শুনানির জন্য ধার্য ছিল। কিন্তু খালেদা জিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তাকে আদালতে হাজির করেনি কারা কর্তৃপক্ষ।

এদিন খালেদা জিয়ার পক্ষে তার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ, জিয়া উদ্দিন জিয়া চার্জ শুনানি পেছানোর আবেদন করেন। শুনানিতে তারা বলেন, ‘খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে অসুস্থ। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই অবস্থায় শুনানিতে হাজির হওয়া  তার পক্ষে সম্ভব না। তিনি সুস্থ হয়ে আদালতে আসবেন। উনার উপস্থিতিতে আমরা চার্জশুনানি করবো। এখন আমরা শুনানি পেছানোর আবেদন করছি।’

শুনানি শেষে বিচারক সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে চার্জ শুনানির পরবর্তী তারিখ ৩০ মে ধার্য করেন।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী জিয়া উদ্দিন জিয়া এ তথ্য জানান।

এর আগে মামলাটির বিচারকাজ পুরান ঢাকার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে চলতো। খালেদা জিয়ার নিম্ন আদালতে বিচারাধীন মামলাগুলোর বিচার কেরানীগঞ্জের কারাভবন আদালত বসবে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গত ১২ মে জারি করে।

দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন এখন চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে রয়েছেন। পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন সড়কের পুরনো কারাগারে এক বছরের বেশি সময় বন্দি থাকার পর গত ১ এপ্রিল চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর আগেও তাকে একবার চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেয়া হয়।

২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলাটির তদন্তের পর ২০০৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। মামলার অপর আসামিরা হলেন- তারেক রহমানের বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, প্রাক্তন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন ও প্রাক্তন জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, ঢাকা ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া (সিলভার সেলিম), জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম,  নাইকোর দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ, প্রধানমন্ত্রীর তৎকালীন মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও বাপেক্সের প্রাক্তন মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক।

চার্জশিটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে খালেদা জিয়া হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে ২০০৮ সালের ৯ জুলাই হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের কার্যক্রম স্থগিত করে রুল জারি করেন। ২০১৫ সালের ১৮ জুন হাইকোর্ট রুল ডিসচার্জ করে স্থাগিতাদেশ প্রত্যাহার করেন।

ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনটি গ্যাসক্ষেত্র পরিত্যক্ত দেখিয়ে কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর হাতে তুলে দিয়ে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা ক্ষতির অভিযোগে মামলাটি করা হয়।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৯ মে ২০১৯/মামুন খান/ইভা

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন