ঢাকা, মঙ্গলবার, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৯ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

ওসি মোয়াজ্জেমের জামিন আবেদন খারিজ

মেহেদী হাসান ডালিম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৭-০৯ ৭:৫৫:৪৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৭-১০ ৮:৫৬:২৮ এএম

নিজস্ব প্রতিবেদক : ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের  জামিন আবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার বিচারপতি মো. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে মোয়াজ্জেম হোসেনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আহসান উল্লাহ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

এর আগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় সাইবার ট্রাইব্যুনাল জামিনের আবেদন খারিজ করায় হাইকোর্টে জামিন আবেদন করা হয়।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে গত ১৬ জুন হাইকোর্টে হাজির হন মোয়াজ্জেম হোসেন। এরপর তার আগাম জামিনের আবেদন করা হয়। এই আবেদনের ওপর বিচারপতি মো. মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানির অনুমতি চেয়ে আবেদন জানানো হয়। আদালত পরদিন শুনানির জন্য রাখার আদেশ দেন। এরপরই ওই দিন তাকে হাইকোর্ট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৭ জুন তাকে সাইবার ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে আদালত তার জামিনের আবেদন খারিজ করে কারাগারে পাঠান। সেই থেকে তিনি কারাবন্দি।

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে তার মা ২৭ মার্চ থানায় অভিযোগ দাখিল করেন। ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন নুসরাতকে থানায় ডেকে নিয়ে তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেন। ৬ এপ্রিল নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় অধ্যক্ষের অনুসারীরা। এরপর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেচিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত। এ ঘটনায় পৃথক একটি মামলায় তদন্ত শেষে ১৬ জনের বিরুদ্ধে ২৯ মে ফেনীর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনার পরই নুসরাতের জবানবন্দির বিষয়টি সবার সামনে আসে। এ অবস্থায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন ঢাকার সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে ১৫ এপ্রিল মামলা করেন। ট্রাইব্যুনাল বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেয়। এই নির্দেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৬, ২৯ ও ৩১ নম্বর ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয় ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে। এই প্রতিবেদন পাওয়ার পর গত ২৭ মে সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। পুলিশ তাকে ১৬ জুন গ্রেপ্তার করে।


রাইজিংবিডি/ঢাকা/৯ জুলাই ২০১৯/মেহেদী/রফিক

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন