ঢাকা, মঙ্গলবার, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৯ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

‘ব্যবসা করবেন টাকা দেবেন না, তা হয় না’

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১০-৩১ ৫:৫৮:১১ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১১-০১ ৮:৫০:০৪ পিএম

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) দাবি করা ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকার মধ্যে আপাতত কত টাকা দিতে পারবে, তা জানাতে গ্রামীণফোনকে দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছেন আপিল বিভাগ।  আগামী ১৪ নভেম্বরের মধ্যে তা জানাতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার গ্রামীণফোনের আবেদনের পর প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ  এ আদেশ দেন। আগামী ১৪ নভেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

আদালতে গ্রামীণফোনের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট এ এম আমিনউদ্দিন ও ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস। বিটিআরসির পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ব্যারিস্টার খন্দকার রেজা-ই-রাকিব।

এই মামলার শুনানির এক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি বলেছেন, বাংলাদেশে ব্যবসা করা খুবই সহজ। বাংলাদেশের মানুষ মনে করে, আদালতে এসে একবার একটি আবেদন করতে পারলেই হলো, টাকা পয়সা নিয়ে কোনো কায়দায় একবার আটকে দিতে পারলেই হয়, তা ফেরত দেওয়া নিয়ে শুরু হয় গড়িমসি। আদালত বলেন, ব্যবসা করবেন, টাকা দেবেন না, তা হয় না।

গ্রামীণফোন আপাতত কত টাকা দিতে পারবে তা ৩১ অক্টোবরের মধ্যে আদালতকে জানাতে গত ২৪ অক্টোবর আদেশ দেন আপিল বিভাগ। এছাড়া পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয় ৩১ অক্টোবর। এরই ধারাবাহিকতায় আজ নির্ধারিত দিনে শুনানি হয়। গ্রামীণফোনের আইনজীবী এএম আমিনউদ্দিন আদালতে বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে একশ কোটি টাকা দেয়া নিয়ে কথা হয়েছিল। আমরা সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী টাকা দেব। এ সময় আদালত বলেন, পাবে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা। আর আপনি বলছেন কি? আদালত বলেন, আপনারা ওখানে আপস করবেন আর আদালতে এসে মামলা করবেন তা হয় না।

জবাবে এএম আমিনউদ্দিন বলেন, তারা সিদ্ধান্ত না মানায় আমরা আদালতে এসেছি। এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, এখানে (বাংলাদেশে) ব্যবসা করা খুবই সহজ। টাকা নিয়ে তা কোনো কায়দায় একবার আটকে দিতে পারলেই হয়। তারপর..।

এ সময় ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস বলেন, আদালতের আদেশে আমরা (গ্রামীণফোন) ১৬৬০ কোটি  টাকা দিয়েছি। এছাড়াও আরো টাকা দেয়া হয়েছে। সবমিলে ২১০০ কোটি টাকার বেশি দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, নিয়ম হচ্ছে প্রতি অর্থবছর শেষে ৯০ দিনে মধ্যে সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের দেনা-পাওনার বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে হবে। কিন্তু বিটিআরসি ২০০৩ বা ২০০৪ সাল বা তার আগের বকেয়া পাওনা রয়েছে বলে দাবি করছে। এখন এসে অত আগের হিসাব আসে কিভাবে? তারপরও আমরা আদালতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আদালতের নির্দেশে টাকা দিয়েছি।

এ সময় বিটিআরসির আইনজীবী মাহবুবে আলম বলেন, গ্রামীণফোন এমনি এমনিই টাকা দেয়নি। আদালতের নির্দেশে টাকা দিয়েছে। তিনি বলেন, অডিটের মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ টাকার হিসাব এসেছে।  গ্রামীণফোন তখনতো কোনো অভিযোগ করেনি।

এ পর্যায়ে আদালত আদেশ দিতে গেলে ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস সময় আবেদন করেন। আদালত সময় আবেদন মঞ্জুর করেন।


ঢাকা/মেহেদী/সাইফ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন