ঢাকা, মঙ্গলবার, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৯ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

৬ লাখ ইয়াবা উদ্ধারের মামলায় চারজনের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১১-০৬ ২:৩১:২৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১১-০৬ ৪:৪৬:০৫ পিএম

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন কাজলা এলাকা থেকে ৬ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধারের মামলায় চার আসামির ১৫ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বুধবার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. রবিউল আলম এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার পূর্ব গ্রামের মো. সফর আলীর ছেলে মো. মুক্তার হোসেন (৩৯), চট্টগ্রামের আনোয়ারা থানার রায়পুর গ্রামের আব্দুস সবুরের ছেলে মিজানুর রহমান বাবু (২৫), বাগেরহাটের মোল্লারহাট থানার চরকুলিয়া গ্রামের মো. লায়েকুজ্জামানের ছেলে মো. সোহেল আহমেদ (৩৫) ও ঢাকার ডেমরা থানাধীন শরিফের বাড়ির ভাড়াটিয়া মো. শফিকুল ইসলামের ছেলে মো. জনি (২৯)। আসামিরা সবাই কারাগারে আছেন। রায় ঘোষণার সময় তাদের আদালতে হাজির করা হয়। পরে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়। অর্থ আনাদায়ে আরো ছয় মাস করে কারাভোগ করতে হবে তাদের।

যে কাভার্ড ভ্যান থেকে ৬ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়েছিল সেই কাভার্ড ভ্যানের জিম্মানামা বাতিল করে তা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর সালাহ্উদ্দিন হাওলাদার বলেন, যে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে তাতে ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাজা ১৫ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। বর্তমান আইন অনুযায়ী বিচার হলে মৃত্যুদণ্ড হতে পারত।

তবে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন রাশেদ। তিনি বলেন, এ মামলায় কোনো আসামির কাছ থেকে একটি ইয়াবাও উদ্ধার হয়নি। মূলত, আসামি মুক্তারের বাবা মো. সফর আলীর ১১টি কাভার্ড ভ্যান আছে। তিনি সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করেন, যা আসামি মুক্তার দেখাশোনা করতেন। ঘটনার দিন কাভার্ড ভ্যান আটক করে ৫ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন মামলার বাদী পুলিশ পরিদর্শক বিপ্লব কিশোর শীল। টাকা না দেয়ায় ৬ লাখ পিস ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেন। বাদীসহ অন্যরা চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী শামীম সরদারকে ১৭ লাখ পিস ইয়াবাসহ আটক করে গুম করেন। সেখান থেকে অনেক ইয়াবা সরিয়ে রাখেন। সে বিষয়ে মিডিয়ায় রিপোর্টও হয়েছিল। সেখান থেকেই ৬ লাখ পিস ইয়াবা দিয়ে নিরাপরাধ ব্যক্তিদের ফাঁসানো হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৬ সালের ১৭ অক্টোবর অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মাদ আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালনার সময় যাত্রাবাড়ী থানাধীন কাজলার এস শাহ সিএনজি ফিলিং অ‌্যান্ড কনভারশন স্টেশনের সামনে রাস্তায় চট্টগ্রাম থেকে আসা কাভার্ড ভ্যান আটক করা হয়। পরে কাভার্ড ভ্যানের ড্রাইভিং সিটের পেছনের টুলবক্সের ভেতর প্লাস্টিকের বস্তায় ২০টি বান্ডিল থেকে ৬ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়। ওই ঘটনায় কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পুলিশ পরির্দশক বিপ্লব কিশোর শীল মামলা দায়ের করেন। মামলা তদন্তের পর একই বিভাগের এসআই নৃপেন কুমার ভৌমিক আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

 

ঢাকা/মামুন খান/রফিক

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন