ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

রুম্পা হত্যা : চার দিনের রিমান্ডে সৈকত

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১২-০৮ ৩:২২:৪৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১২-০৯ ৮:২৪:১৪ এএম

রাজধানীর স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পা হত্যা মামলায় তার কথিত প্রেমিক আব্দুর রহমান সৈকতের (২২) চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রোববার দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদের আদালত শুনানি শেষে রিমান্ডের আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক শাহ্ মো. আকতারুজ্জামান ইলিয়াস আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, রুবাইয়াত শারমিন রুম্পা (২১) স্ট‌্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইংরেজি সাহিত্যের স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। আব্দুর রহমান সৈকত একই বিশ্ববিদ‌্যালয়ের বিবিএর ছাত্র ছিলেন। রুম্পার সঙ্গে সৈকতের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি তাদের সম্পর্কের অবনতি হয়। ৪ ডিসেম্বর বিকেল ৪টার দিকে স্ট‌্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির সিদ্ধেশ্বরী ক্যাম্পাসের বাইরে রাস্তায় সৈকতের সঙ্গে রুম্পার দেখা হয়। তখন প্রেমের বিষয়ে কথা উঠলে সৈকত কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য রুম্পাকে অনুরোধ করে। সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা বলায় তাদের মধ্যে মনোমালিন্যসহ বিরোধ চরম আকার ধারণ করে বলে জানা গেছে। মনোমালিন্যের পর ৪ ডিসেম্বর রাত ৮টা ৪৫ মিনিটের দিকে ভিকটিমকে আসামিসহ তার সহযোগী অজ্ঞাতনামা আসামিরা মিলে হত্যা করে লাশ ৬৪/৪ সিদ্ধেশীর সার্কুলার রোডস্থ বাসার সামনের ছাদ থেকে ফেলে দেয় বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে হত্যার মূল রহস্য উদঘাটনপূর্বক হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত, হত্যাকারীদের প্রকৃত নাম-ঠিকানা সংগ্রহপূর্বক তাদের গ্রেপ্তার, কীভাবে, কী কারণে হত্যাকাণ্ড সংঘটন হয়েছে তা উদঘাটনের লক্ষ‌্যে আসামির সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হেমায়েত উদ্দিন খান (হিরণ) রিমান্ড মঞ্জুরের আবেদন করেন।

আসামিপক্ষে আব্দুল হামিদ ভূইয়া রিমান্ড বাতিলপূর্বক জামিন প্রার্থনা করেন।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

উল্লেখ্য, গত ৪ ডিসেম্বর বিকেল ৫টার পর রুম্পা রাজধানীর শান্তিবাগের বাসা থেকে বের হন। রাত পৌনে ১১টার দিকে বাসা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোড থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনাস্থলে পাশাপাশি তিনটি ভবনের কোনো একটি থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। ওই ঘটনার পরদিন (৫ ডিসেম্বর) রমনা মডেল থানার এসআই আবুল খায়ের একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। রুম্পার মৃত্যুর তিন দিন পর শনিবার রাতে মোবাইল ফোনের কললিস্টের সূত্র ধরে সৈকতকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। সৈকতকে রোববার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

সৈকত স্ট‌্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএর ছাত্র ছিলেন। পরে তিনি আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজে ভর্তি হন।


ঢাকা/মামুন খান/রফিক

     
 
রাইজিংবিডি স্পেশাল ভিডিও