ঢাকা, মঙ্গলবার, ৫ ফাল্গুন ১৪২৬, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

নামের মিলে বিনা দোষে কারাবাস

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০১-২৪ ২:১২:০০ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০১-২৪ ৩:৪৯:৩৩ পিএম

নামের মিল থাকায় বিনা দোষে সাত দিন জেল খেটে মুক্তি পেয়েছেন গাজীপুরের চা বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম।

শুক্রবার দুপুরে গাজীপুরের শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি লিয়াকত আলী রাইজিংবিডিকে বলেছেন, মামলাটি ছিল আদালতের। এ কারণে ঠিকমতো যাচাই-বাছাই করা যায়নি। নামের মিল থাকায় আমরা রফিকুলকে গ্রেপ্তার করেছিলাম আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বলে। বৃহস্পতিবার আদালত তাকে মুক্তির আদেশ দেয়ার পর আমরা তৎক্ষণাৎ ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করি। তদন্তে দেখা যায়, এ রফিকুল ইসলাম সেই রফিকুল ইসলাম নয়। মূলত একটি করাত কলের মালিক রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আদালত। সেই মর্মে আদালতে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। ওই করাত কলের মালিককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে

গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পশ্চিম খণ্ডের মসজিদ মোড় এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম। বৃদ্ধ মা-বাবা, চার সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে তার সংসার। চা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। গত শুক্রবার বন বিভাগের একটি মামলায় আসল আসামির নাম ও বাবার নামের সঙ্গে মিল থাকায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখিয়ে তাকে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। এক সপ্তাহ বিনা অপরাধে জেল খাটার পর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন তিনি।

কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনার দিন আমি দোকানে ছিলাম। কী কারণে আমাকে হয়রানি করল জানি না। প্রকৃত আসামি ও আমার বাবার নাম একই হলেও মায়ের নামে মিল নেই। তখন পুলিশকে তা বলেছিলাম। কিন্তু তারা আমার কথা শোনেনি। আমি কারাগারে থাকায় আমার পরিবার না খেয়ে দিন যাপন করেছে। আমাকে যারা জেল খাটিয়েছে তাদের বিচার চাই।

রফিকুল ইসলামের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক বলেন, প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে আদালত নিশ্চিত হয় যে, এই রফিকের সঙ্গে মামলার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এ কারণে মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার গাজীপুর বন আদালতের বিচারক শেখ নাজমুন নাহার রফিকুল ইসলামকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়ার নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় পুলিশের গাফিলতি থাকলে তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের কাছে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অবৈধভাবে করাতকল স্থাপনের অভিযোগে ২০১৫ সালের ৮ জুলাই শ্রীপুর সদর বিট অফিসার শহিদুর রহমান বাদী হয়ে মামলা করেন। এ মামলায় শ্রীপুরের কেওয়া পশ্চিম খণ্ড এলাকার নুর মুহাম্মদের ছেলে রফিকুল ইসলামকে আসামি করা হয়। মামলার পর থেকেই তিনি পলাতক আছেন।

 

ঢাকা/মাকসুদ/রফিক