ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৭ ফাল্গুন ১৪২৬, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

গ্রেপ্তার-রিমান্ড রায়ের বাস্তবায়ন কোথায়?

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০২-১৩ ৬:২৯:০৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০২-১৩ ৯:১৯:২৯ পিএম

বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ সংক্রান্ত ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) ৫৪ ও ১৬৭ ধারা সংশোধন বিষয়ে আপিল বিভাগের  রায়ের বিরুদ্ধে করা রিভিউ পিটিশনের শুনানি আগামী ১৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এ দিন ধার্য করেন।

শুনানিতে আদালত বলেন, ‘২০০৩ সালে এ রায় দেওয়া হয়েছে। এতদিন পরেও এ রায়ের বাস্তবায়ন কোথায়? যদি বাস্তবায়ন করা না হয় তাহলে এ রায় দিয়ে লাভ কী? তাহলে এ রায় বাতিল করে দেই?’

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘আমরা রায় বাতিলের কথা বলছি না। শুধু রিভিউ চেয়েছি।’

আদালত বলেন, ‘আপনাদের রিভিউ আবেদন স্পষ্ট নয়। রায়ে যেসব নির্দেশনা রয়েছে সেগুলোর কোথায় কোথায় আপত্তি সেটা স্পষ্ট নয়, সুনির্দিষ্ট করে বলুন। এই রায় পুরোটা রিভিউ হবে না।’

আদালত বলেন, ‘বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারের বিষয়টি যে কারো ক্ষেত্রে হতে পারে, এমনকি আমাদের আত্মীয় স্বজনদের ক্ষেত্রেও হতে পারে। যদি কেউ ডিস এপিয়ারেন্স (নিখোঁজ) হয়ে যায়- তার দায় দায়িত্ব কে নেবে? রাষ্ট্র নেবে?’

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, রিটকারী পক্ষে অ্যাডভোকেট ইদ্রিসুর রহমান ও ব্যারিস্টার সারা হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

পরে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘‘জঙ্গিসহ বর্তমান অবস্থা নিয়ে কোন কোন নির্দেশনা আইনের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সে বিষয়গুলো তুলে ধরে রায় রিভিউ চেয়েছি। কারণ, বর্তমান সামাজিক অবস্থা বিবেচনা করতে হবে। শিশু ও নারী ধর্ষণ, জঙ্গি উত্থান, মাদকের প্রচার-প্রসার, জুয়া খেলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে এসব প্রয়োজন।

‘আদালত নির্দেশনা দিয়েছেন কাচের ঘরে রেখে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করার। এতে তো জঙ্গি বা অপরাধ দমন অকার্যকর হয়ে যাবে। কাউকে গ্রেপ্তার করলে সাথে সাথে তার পরিবারকে জানাতে বলা হয়েছে।”

ইদ্রিসুর রহমান বলেন, ‘কেউ মিসিং হলে ২/৩ বছর খোঁজ নেই। এটা নিয়ে আদালত ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।’

ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার ও ১৬৭ ধারায় রিমান্ডের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ২০১৬ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিচারকদের প্রতি কিছু নির্দেশনা দেন।

যুগান্তকারী এই নির্দেশনায় বলা হয়, ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ৩ ধারায় আটক রাখার জন্য কোনো ব্যক্তিকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করা যাবে না। গ্রেপ্তার অভিযানকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবশ্যই পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে। গ্রেপ্তারকৃত এবং উপস্থিত ব্যক্তিরা যদি পরিচয়পত্র দেখতে চান তাহলে তাদেরকে অবশ্যই তা দেখাতে হবে। গ্রেফতারের ১২ ঘণ্টার মধ্যে ওই ব্যক্তির আত্মীয় স্বজন অথবা বন্ধু-বান্ধবকে গ্রেপ্তারের সময় এবং স্থান জানাতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

বিচারকদের প্রতি জারিকৃত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কেইস ডায়েরি (তদন্তের দিনপঞ্জি) ছাড়া কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক ওই ব্যক্তিকে মুক্তি দেবেন।


ঢাকা/মেহেদী/সনি