ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ চৈত্র ১৪২৬, ০৭ এপ্রিল ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

কর ফাঁকি-অর্থ পাচারকারী বিদেশিদের চিহ্নিত করার তাগিদ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০২-১৬ ৭:৫৫:৪৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০২-১৭ ৯:০১:৩২ এএম

বাংলাদেশে থাকা বিদেশিদের মধ্যে যারা আয়কর ফাঁকি ও অর্থ পাচার করছেন, তাদের চিহ্নিত করার তাগিদ দিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

রোববার রাজধানীর মালিবাগে বিসিএস (কর) একাডেমি   আয়োজিত দুদক কর্মকর্তাদের ‘আয়কর আইন ও বিধানাবলী সংক্রান্ত বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্স’ ও উপকর কমিশনারদের রিফ্রেশার্স প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশে বৈধ বা অবৈধভাবে অনেক বিদেশিরা কাজ করছেন। তাদের অনেকেই আয়কর ফাঁকি দিচ্ছেন। অবৈধভাবে এই অর্থ পাচারও করছেন বলে প্রায়ই অভিযোগ পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে আয়কর বিভাগ, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো, নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ, ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার সাথে সমন্বিতভাবে এদেরকে চিহ্নিত করে আয়কর আদায় করতে পারে। যারা এভাবে আয়কর ফাঁকি দিয়েছেন তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারে।

তিনি বলেন, যারা ব্যাংক থেকে জালিয়াতি করে অবৈধভাবে ঋণ নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছেন। কর ফাঁকি দিয়ে জনগণের অর্থ আত্মসাৎ করছেন। আমরা আমাদের সাধ্য অনুযায়ী তাদেরকে তাড়া করছি। আমরা শান্তিতে তাদেরকে ঘুমাতে দিব না।

দুদক চেয়ারম্যান প্রশ্ন রেখে বলেন, গভীর রাতে এই রাজধানীতে যাদের ছেলে-মেয়েরা বিলাসবহুল গাড়ি চালাচ্ছেন, শত কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ নিয়ে পালিয়েছেন। অথচ তাদের অনেকের আয়কর রিটার্নই নেই। এটা কিভাবে সম্ভব? আমরা এটা বন্ধ করতে চাই। এটা চলতে পারে না। প্রতিটি নাগরিকের সম্পত্তির একটি সঠিক হিসাবের ভিত্তিও পাওয়া যেতে পারে। অবৈধ সম্পদ অর্জনের পথও সঙ্কুচিত হয়। অনুপার্জিত আয় ভোগ করার প্রবণতা কমে আসবে।

ভ্যাট সংগ্রহের ক্ষেত্রে পাওয়া কিছু অভিযোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক সময় বিক্রেতা বলেন, ভ্যাটসহ বিল এত টাকা, আর ভ্যাট না দিলে এত টাকা। এটা কীভাবে সম্ভব। মনে হয় এক্ষেত্রে ভ্যাট প্রশাসনের দায়িত্বে কিছুটা শিথিলতা রয়েছে। আমরা কখনও কখনও শুনি কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে ভ্যাট আদায়ের ইনফরমাল রসিদ ব্যবহার করে মাসিক ভিত্তিতে তা  সংরক্ষণ করা হয়। এটা কিন্ত ভ্যাট আইনের পরিপন্থি বলে মনে হয়। কমিশন চায় কোনো সৎ ব্যবসায়ী যেন হয়রানির শিকার না হন। কারণ প্রাইভেট সেক্টরই অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি।

তিনি বলেন, করপোরেট কর, আয়কর কিংবা ভ্যাট বাড়াতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তাদের অঙ্গীকার, সততা ও নিষ্ঠাবোধ থাকতে হবে। এক্ষেত্রে ঘুষ-দুর্নীতির ন্যূনতম আশ্রয় দেওয়ার সুযোগ নেই। ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইনি প্রয়োগ অব্যাহত রাখা হবে।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, কীভাবে আয়করের নামে স্ত্রীর কথিত মৎস্য খামার দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা বৈধ করা হয়। এসব   আমরা তদন্তে গিয়ে দেখেছি, একজন ব্যক্তির স্ত্রীর নামে ২ কোটি টাকা মৎস্য খামারের আয় দেখানো হয়েছে। অথচ বাস্তবে কোনো মৎস্য খামারের অস্তিত্ব নেই। কথিত মৎস্য খামারের আয় যখন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সঠিক মর্মে প্রত্যয়ন করে, তখন দুদকের তদন্তের বিষয়টা কিছুটা হলেও জটিল হয়ে যায়। তাই এ জাতীয় সার্টিফিকেট ইস্যু করার পূর্বে এর সত্যতা যাচাই করা সমীচীন।

তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন পবিত্র সংবিধানের বাধ্যবাধকতা অনুসারে- কর ফাঁকি, ভ্যাট ফাঁকি কিংবা ঘুষ দুর্নীতি যে কোনো প্রক্রিয়ায় অনুপার্জিত আয় করে- তা ভোগ করার চেষ্টা করবেন এসব দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধ করতে দুদক দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

এনবিআর সদস্য (কর প্রশাসন) আরিফা শাহানার সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সদস্য (কর নীতি) আলমগীর হোসেন, দুদকের মহাপরিচালক (প্রশিক্ষণ ও আইসিটি) একেএম সোহেল, বিসিএস কর একাডেমির মহাপরিচালক লুৎফুল আজিম প্রমুখ।


ঢাকা/এম এ রহমান/সাইফ