ঢাকা, বুধবার, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২০ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

এডিস মশা ও ডেঙ্গুর অজানা কথা

আহমেদ শরীফ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৮-২২ ৩:৫০:৪৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৮-২২ ৩:৫৮:১২ পিএম

আহমেদ শরীফ : ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, ইয়েলো ফিভারের মতো প্রাণঘাতী রোগ ছড়ানোর কারণে মশা বিশ্বের সবচেয়ে মারাত্মক প্রাণী হিসেবে স্বীকৃত। আপনি কি জানেন এই পুঁচকে মশা যে প্রাগৈতিহাসিক ডাইনোসরের সমান বয়সী এক প্রাণী? তবে একটি মশার জীবনকাল কিন্তু খুব অল্প। বিজ্ঞানীরা বলছেন, একটি মশা ২ মাসেরও কম সময় পর্যন্ত বাঁচে। আর  বিশ্বে ৩ হাজারের বেশি প্রজাতির মশা আছে। ব্যাপক হারে আমাদের দেশে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে, তাই চলুন এডিস মশা ও ডেঙ্গুর কিছু অজানা তথ্য জেনে নিই।

* স্ত্রী এডিস মশা (যার বৈজ্ঞানিক নাম এডিস এজেপটাই) মানুষের শরীরে কামড়ালে ডেঙ্গু জ্বর হয়। এই মশা মূলত ভোরবেলা সূর্য উঠার পর প্রায় ২ ঘণ্টা পর্যন্ত ও সূর্যাস্তের কয়েক ঘণ্টা আগে বেশি সক্রিয় থাকে। তবে রাতে আলো বেশি থাকে যেসব এলাকায়, সেখানেও কিন্তু এডিস মশা মানুষকে কামড়াতে পারে।

* এডিস এজেপটাই, অর্থাৎ স্ত্রী এডিস মশা ডেঙ্গু ছাড়াও মারাত্মক চিকুনগুনিয়া ও ইয়েলো ফিভারের ভাইরাস ছড়ায়।

* পুরুষ ও স্ত্রী এডিস মশা গাছের রস পান করে বাঁচে। তবে ডিম উৎপাদনের জন্য স্ত্রী এডিসকে রক্ত পান করতে হয়।

* মানুষের মূলত গোড়ালি ও কনুইয়ে কামড়াতে পছন্দ করে এডিস মশা।

* শুধু মানুষ না, স্ত্রী এডিস মশা কুকুর সহ অন্য সব পোষা স্তন্যপায়ী প্রাণীকেও কামড়ায়।

* একজন মানুষের কাছ থেকে আরেকজন মানুষের কাছে সরাসরি ডেঙ্গু ছড়াতে পারে না। তবে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে অন্য মশা কামড়ালে সেসব মশাতেও এর ভাইরাস সংক্রমিত হয়। ডেঙ্গু রোগীর মাধ্যমে তাই এক এলাকা থেকে আরেক এলাকা, এমনকি এক দেশ থেকে আরেক দেশে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ে।

* ‘ডেঙ্গু’ শব্দটি স্প্যানিশ শব্দ বলে ধারণা করা হয়, যার অর্থ খুঁতখুঁতে বা সতর্ক ভাব। এই রোগ খুব পীড়াদায়ক বলে তা থেকে সাবধান থাকতেই হয়তো এমন নাম।

* চাইনিজ মেডিক্যাল এনসাইক্লোপিডিয়ায় জিন রাজবংশের আমলে (২৬৫-৪২০ খ্রিস্টাব্দ) ডেঙ্গু রোগ প্রথম হয়েছিল বলে জানা যায়। এটাই ডেঙ্গু রোগের প্রথম রেকর্ড করা ঘটনা ধরা হয়।

* ডেঙ্গু প্রথম মহামারী আকার ধারণ করে ১৭৮০ এর দশকে। সে সময় এশিয়া, আফ্রিকা ও উত্তর আমেরিকায় এই রোগ ছড়িয়ে পড়ে।

* আমেরিকার চিকিৎসক, রাজনীতিবিদ বেঞ্জামিন রাশ প্রথম ১৭৮৯ সালে এই রোগকে ‘ব্রেকবোন ফিভার’ হিসেবে আখ্যা দেন।

* বর্তমানে বিশ্বের ২.৫ বিলিয়ন মানুষ, অর্থাৎ ৪০ শতাংশ মানুষ ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকিতে আছে।

* এশিয়া, আমেরিকা, আফ্রিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল সহ ১০০ টিরও বেশি দেশে ডেঙ্গু রোগ দেখা যায় এখন।

তথ্যসূত্র: ডব্লিউএইচও, ওয়েস্টার্ন এক্সটার্মিনেটর, মসকিউটো ম্যাগনেট, ডেঙ্গু ভাইরাস নেট


রাইজিংবিডি/ঢাকা/২২ আগস্ট ২০১৯/ফিরোজ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন