ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ কার্তিক ১৪২৬, ১২ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

যেসব খাবার গর্ভধারণের সম্ভাবনা বাড়ায় (দ্বিতীয় পর্ব)

এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৯-০৯ ৯:৪৪:৪২ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৯-১০ ৮:১৫:২৪ এএম
প্রতীকী ছবি

এস এম গল্প ইকবাল : অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, ডায়েট বা খাবার কি সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা (ফার্টিলিটি) বৃদ্ধি করতে পারে? বিভিন্ন গবেষণার ফলাফল বলছে যে, কিছু খাবার নারী বা পুরুষের ফার্টিলিটি বাড়াতে পারে। কিন্তু আপনাকে সামগ্রিক ডায়েটে নজর রাখতে হবে। গবেষকরা পেয়েছেন যে, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ফার্টিলিটি হ্রাস করতে পারে। শক্তিশালী প্রমাণ রয়েছে যে, একজন মানুষের ওজন তার ফার্টিলিটির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। অতিরিক্ত ওজন ও অতি কম ওজন উভয়েই সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা কমিয়ে ফেলতে পারে।

যেসব খাবার গর্ভধারণের সম্ভাবনা অথবা সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে তাদেরকে ফার্টিলিটি সুপারফুড বলে। এসব খাবারের কোনো একটি আপনার বন্ধ্যাত্ব দূর করবে এমনটা জোর দিয়ে বলা যায় না। আপনার গর্ভধারণে সমস্যা হলে আপনার ডায়েটে ফার্টিলিটি সুপারফুড অন্তর্ভুক্ত করে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস মেনে চলার চেষ্টা করতে হবে।

কিছু পুষ্টি নারী-পুরুষের প্রজনন স্বাস্থ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে, কিন্তু আমাদের ডায়েটের ওপর ভিত্তি করে এসব প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। তাই সন্তান নিতে ইচ্ছুক দম্পতিদেরকে ডায়েটের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। পুষ্টির কনসেন্ট্রেড সাপ্লিমেন্ট সেবনের চেয়ে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া নিরাপদ। কিন্তু ফলিক অ্যাসিডের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়- অধিকাংশ চিকিৎসক গর্ভধারণের চেষ্টাকালে ফলিক অ্যাসিড সাপ্লিমেন্ট সেবনের পরামর্শ দেন।

ফার্টিলিটি সুপারফুড কেবলমাত্র প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্যই সহায়ক নয়, এসব খাবার শরীরের অন্যান্য উপকারও করে। তাই এটা বলা যেতে পারে যে, এসব খাবার সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নেও অবদান রাখতে পারে। বাচ্চা পেতে হলে স্বামী-স্ত্রী উভয়কেই খাদ্য তালিকায় বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। প্রায়সময় বার্গার ও ফ্রেঞ্চ ফ্রাইজের মতো অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে অল্প পরিমাণে ফার্টিলিটি সুপারফুড খেলে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা বা গর্ভধারণের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে এমন ১৫টি খাবার নিয়ে তিন পর্বের প্রতিবেদনের আজ থাকছে দ্বিতীয় পর্ব।

* রান্নাকৃত টমেটো

রান্নাকৃত টমেটোতো উচ্চমাত্রায় লাইকোপিন থাকে- লাইকোপিন হলো একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। বড় বড় গবেষণায় পাওয়া গেছে, লাইকোপিন পুরুষের ফার্টিলিটি বৃদ্ধি করে। এছাড়া পুরুষের বন্ধ্যাত্বের সম্ভাব্য চিকিৎসা হিসেবে লাইকোপিন সাপ্লিমেন্ট নিয়েও গবেষণা করা হয়েছে। একটি গবেষণায় পাওয়া যায়, প্রতিদিন ৪ থেকে ৮ মিলিগ্রাম লাইকোপিন সাপ্লিমেন্ট ৮ থেকে ১২ মাস সেবনে বীর্যের স্বাস্থ্য উন্নত হয়েছে ও প্রেগন্যান্সির হার বৃদ্ধি পেয়েছে। এককাপ রান্নাকৃত টমেটোতে এককাপ কাঁচা টমেটোর তুলনায় প্রায় দুই গুণ বেশি লাইকোপিন পাওয়া যায়। তাই রান্নাকৃত টমেটো বেছে নিন, যেমন- টমেটো সস অথবা টমেটো স্যূপ। কিন্তু এটা জেনে রাখা ভালো যে, যেকোনো ফর্মের টমেটো স্বাস্থ্যকর।

* মসুর ডাল ও বিনস

বিনস ও মসুর ডাল হলো প্রোটিনের ভালো উৎস। গবেষণায় পাওয়া গেছে, যেসব নারী প্রাণীজ উৎসের প্রোটিনের চেয়ে উদ্ভিজ্জ উৎসের প্রোটিনকে অগ্রাধিকার দিয়েছিল তাদের ডিম্ব নিষিক্তের সমস্যা কম ছিল। মসুর ডালে উচ্চ পরিমাণে পলিঅ্যামাইন স্পার্মিডিন রয়েছে, যা শুক্রাণুকে ডিম্ব নিষিক্ত করতে সাহায্য করতে পারে। একটি গবেষণায় যেসব পুরুষের বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা কম ছিল তাদের বীর্যে স্পার্মিডিনের মাত্রা সুস্থ বীর্যের তুলনায় কম ছিল। মসুর ডাল ও বিনস ফোলেটেরও ভালো উৎস। গর্ভধারণ ও সুস্থ ভ্রুণের জন্য ফোলেট বা ফলিক অ্যাসিড একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি। এছাড়া বিনস ও মসুর ডালে প্রচুর ফাইবারও পাওয়া যায়। ডায়েটে পর্যাপ্ত ফাইবার থাকলে হরমোনগত ভারসাম্য ঠিক থাকে।

* অশ্বগন্ধা

অ্যাসপারাগাস বা অশ্বগন্ধা হলো একটি পুষ্টি সমৃদ্ধ সুপারফুড। এ খাবারে ক্যালরি খুব কম থাকে এবং এটি ফার্টিলিটির জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে। এ খাবারটি পেটকে দীর্ঘসময় ভরা রাখে। এক বাটি বয়েলড অ্যাসপারাগাসে দৈনিক সুপারিশকৃত ফোলেটের ৬০ শতাংশ, দৈনিক সুপারিশকৃত ভিটামিন কে এর পুরো শতাংশ, দৈনিক সুপারিশকৃত জিংকের ৮ শতাংশ, দৈনিক সুপারিশকৃত সেলেনিয়ামের ১৬ শতাংশ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি রয়েছে (যেমন- ভিটামিন এ, ভিটামিন সি ও বি ভিটামিন থায়ামিন)। জিংক ও সেলেনিয়াম উভয়েই পুরুষের উর্বরতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত লবণের ক্যানড অ্যাসপারাগাস এড়িয়ে চলুন। ফ্রেশ বা ফ্রোজন অ্যাসপারাগাস বেছে নিন। যদি ক্যানড অ্যাসপারাগাস খেতে চান, তাহলে লো সোডিয়াম অপশন আছে কিনা দেখে নিন। সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে রান্না করা অ্যাসপারাগাস খান।

* ঝিনুক

প্রায় প্রত্যেক ফার্টিলিটি ফুড লিস্টে অয়েস্টার বা ঝিনুকের নাম দেখতে পাওয়া যায়। ঝিনুকে উর্বরতা বৃদ্ধিকারক পুষ্টি রয়েছে। ৬টি কাঁচা ঝিনুকে মাত্র ১৩৯ ক্যালরি থাকে, যেখানে দৈনিক সুপারিশকৃত আয়রনের ৪৩ শতাংশ, দৈনিক সুপারিশকৃত ভিটামিন বি১২ এর ৪০৮ শতাংশ, দৈনিক সুপারিশকৃত সেলেনিয়ামের ১৮৭ শতাংশ ও দৈনিক সুপারিশকৃত জিংকের ১৮৮ শতাংশ রয়েছে। অনেকে ঝিনুক কিভাবে খাবেন তা নিয়ে ভীত থাকেন। স্বাস্থ্য বিষয়ক অনেক প্রতিবেদনে কাঁচা ঝিনুককে সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর বলা হলেও নিরাপদ থাকতে ভালোভাবে রান্না করে খাওয়াই ভালো। রেস্টুরেন্টের ঝিনুক এড়িয়ে চলুন, কারণ আপনি জানেন না যে এগুলো কিভাবে পরিবেশন করা হয়েছে। যদি ঝিনুক খেতে মন সায় না দেয়, তাহলে অয়েস্টার সাপ্লিমেন্ট সেবনের কথা বিবেচনা করতে পারেন।

* ডালিমের দানা ও রস

বিভিন্ন গবেষণায় ডালিম ও উর্বরতার মধ্যে যোগসূত্র পাওয়া গেছে। কেবলমাত্র বৈজ্ঞানিক কারণেই যে ডালিম খাবেন তা নয়, এটি একটি সুস্বাদু ফলও বটে। ডালিমে উচ্চমাত্রায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা পুরুষের ফার্টিলিটি বাড়াতে পারে। ডালিম ও ফার্টিলিটি বিষয়ক অধিকাংশ গবেষণাই ইঁদুরদের ওপর করা হয়েছে। গবেষণায় পাওয়া গেছে যে, ডালিমের রস ও নির্যাস কিছু সপ্তাহ পর শুক্রাণুর ঘনত্ব ও গতিশীলতা বৃদ্ধি করতে পারে। একটি গবেষণায় ডালিম মানুষের মধ্যে কি প্রভাব ফেলে তা দেখা হয়েছিল। স্পার্ম ব্যাংকে ডোনেট করার জন্য যথেষ্ট সুস্থ শুক্রাণু ছিল না (কিন্তু শুক্রাণুর সংখ্যা সংক্রান্ত সমস্যা ছিল না) এমন ৭০ জন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে তিন মাস ধরে ডালিমের নির্যাস সমৃদ্ধ ট্যাবলেট ও গলঙ্গ রুটের (দেখতে আদার মতো) পাউডার সেবন করতে বলা হয়েছিল। তিন মাস পর দেখা গেল যে, তাদের শুক্রাণুর গতিশীলতা ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

(আগামী পর্বে সমাপ্য)

পড়ুন : যেসব খাবার গর্ভধারণের সম্ভাবনা বাড়ায় (প্রথম পর্ব)

তথ্যসূত্র : ভেরি ওয়েল ফ্যামেলি


রাইজিংবিডি/ঢাকা/৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯/ফিরোজ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন