ঢাকা, বুধবার, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৭ মে ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

নারীর আবাসন নিশ্চিত করতে প্রয়োজন দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন

লাইফস্টাইল ডেস্ক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৪-০৫ ৮:২৮:২০ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৪-০৫ ৮:২৮:২০ পিএম

প্রায় দুই মাস ধরে একজন ক্লায়েন্টের জন্য ডে কেয়ারের স্পেস খুঁজছিলেন রিয়েল এস্টেট কোম্পানি বিপ্রপার্টি ডটকমের সেলস অ্যাডভাইজার আজমেরী হোসেন আশা। জানালেন, কোনো বাড়ির মালিকই ডে কেয়ারের জন্য স্পেস দিতে রাজি হচ্ছিলেন না। একজন নারী ডে কেয়ার চালাবেন এবং ভেতরে যারা কাজ করবেন তারা সবাই নারী, মূলত এ কারণেই কেউ বাড়ি ভাড়া দিতে রাজি হচ্ছিলেন না বলে জানান তিনি।

আশা জানান, এরকম অনেক নারীই উদ্যোক্তা হিসেবে তাদের কাছে আসেন, ব্যবসার জন্য বাসা বা স্পেস ভাড়া নিতে চান। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা সরবারহ করতে পারছেন না তারা। স্পেস থাকা সত্ত্বেও অনেক বাড়িওয়ালা নারী উদ্যোক্তাদের তা ভাড়া দিতে চান না। অনেক সময় বাড়িওয়ালা বা প্রপার্টির মালিকরা নানা অপ্রীতিকর প্রশ্ন করেন যা পুরুষদের বাড়িভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে কখনোই করেন না। যেমন, নারী এতো টাকা কীভাবে দেবেন, তার কোনো পুরুষ অভিভাবক আছে কি না ইত্যাদি।

উদ্যোক্তার বাইরে কোনো নারী একা বা সিঙ্গেল মাদার হিসেবে থাকতে চাইলে মোটামুটি সব বাড়িওয়ালাই বাসা ভাড়া দিতে সরাসরি না করে দেন বলে জানান আশা। বলেন, সিঙ্গেল মাদার বা সিঙ্গেল ওমেনদের থাকার জন্য বাসা ভাড়া খুঁজে দেওয়ার ব্যাপারটা অনেক কঠিন। বাড়ির মালিকরা এমন নারীদের বাসা ভাড়া দিতে রাজি না হওয়ায় তাদের সেবাই দিতে পারছে না আবাসন প্রতিষ্ঠানটি।

নারীরা যেখানে সমাজ, পরিবারের নানা বাঁধা পেরিয়ে সব জায়গায় সফলভাবে পদচিহ্ন রেখে চলেছেন, সেখানে তাদের এগিয়ে চলার পথে অনেক ক্ষেত্রেই বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে আবাসন। নতুন শহরে নারী যখন একা থাকার চিন্তা করে হোস্টেল বা কোনো ফ্ল্যাট ভাড়া নিতে যায় বা উদ্যোক্তা হিসেবে কোনো বাড়ি ভাড়া নিতে যায় তখন প্রথমেই তাদের বাড়িওয়ালার কাছ থেকে অনাকাঙ্খিত প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। যেমন, নারী একা কেনো থাকবে, পরিবার কোথায়, অভিভাবক কে ইত্যাদি। আবাসন প্রতিটি মানুষের মৌলিক চাহিদার একটি হলেও, কর্মজীবী বা আত্মনির্ভরশীল নারীদের জন্য পুরোপুরি বিপরীত চিত্র দেখা যায়।

সারাদেশে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর মাত্র দুই হাজার ১৩৪ জন নারীর আবাসন নিশ্চিত করতে পেরেছে। বর্তমানে এ অধিদপ্তর পরিচালিত আটটি কর্মজীবী হোস্টেল রয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীতে আছে তিনটি কর্মজীবী হোস্টেল। তবে এসব হোস্টেলে চাহিদার তুলনায় সিট খুবই সীমিত। নতুন আরো তিনটি কর্মজীবী হোস্টেল নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। চাহিদা বেশি থাকায় হোস্টেলগুলোতে সিট পেতে অনেক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। সেই সঙ্গে মাসের পর মাস অপেক্ষা তো আছেই।

ব্যক্তিগত ও বেসরকারি উদ্যোগে অনেকে কর্মজীবী নারীদের আবাসন নিশ্চিত করতে কাজ করছে। তবে এর বাইরেও অনেক নারী থাকছে বাসা ভাড়া নিয়ে। এসব বাসায় থাকতে গিয়ে তাদের দুর্ভোগের সীমা নেই। অনেক ক্ষেত্রে খরচও বেড়ে যায়। শহরে একটি বাসায় কয়েকজন পুরুষ থাকলে যে পরিমাণ খরচ হয়, নারীদের তার চেয়ে বেশি টাকা গুণতে হয়। তার ওপর নানা বিষয়ে বাড়িওয়ালার কড়া বিধি নিষেধ। নানা সীমাবদ্ধতা মেনে নিয়ে কোনোরকমে বাসা খুঁজে পাওয়া গেলেও অনেক সময়ই হঠাৎ করে বাসা ছেড়ে দেওয়ার নোটিশ আসে। তখন আবার নতুন করে শুরু করতে হয় বাসা খোঁজার কাজ। একই ধরনের সমস্যায় পড়েন নারী উদ্যোক্তারাও।

আবাসন সমস্যার কারণে অভিভাবকরা পড়াশুনা বা চাকরির জন্য মেয়েদের নতুন শহরে পাঠাতে আস্থা পান না। পাশাপাশি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি তো আছেই। ফলে পারিবারিক ও সামাজিকভাবে মেয়েদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পথ আরো কঠিন হয়ে পড়ে।

তাই পুরুষের পাশাপাশি নারীদের এগিয়ে নিতে হলে নারীদের আবাসন সঙ্কটের সমাধান করতে হবে। একা নারী বা সিঙ্গেল মাদার কিংবা উদ্যোক্তারা যেন পরিবার বা পুরুষদের মতো বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে পারে তা নিশ্চিত করা জরুরি। আর তার জন্য সবার আগে প্রয়োজন দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন।

 

ঢাকা/ফিরোজ