ঢাকা, শুক্রবার, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০৫ জুন ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

করোনা দুর্যোগে মানবিক কাজের পুরস্কার দি‌লো ওয়ালটন (ভিডিও)

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৫-১৮ ৬:১৩:২৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৫-১৮ ৭:৪০:৫৯ পিএম

করোনা আক্রান্ত রোগীর প্রতি ওয়ালটনের দুই কর্মকর্তার মহানুভবতা বিভিন্ন মহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে। কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মানবিক সেই কাজের স্বীকৃতি পেলেন ওই দুই কর্মকর্তা। রোববার (১৭ মে) ওয়ালটনের করপোরেট অফিসে তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

এর মাধ্যমে করোনা দুর্যোগে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য ওয়ালটন কর্মকর্তাদের মানবিক ভূমিকার মূল্যায়ন করে পর্যায়ক্রমে পুরস্কার প্রদান কার্যক্রম শুরু হলো।

ওয়ালটন প্লাজার পল্টন শাখার ম্যানেজার মো. আসাদুজ্জামান এবং কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ শাহ’র হাতে পুরস্কারের ৫০ হাজার টাকা এবং পদোন্নতির চিঠি তুলে দেন প্রতিষ্ঠানটির বিপণন বিভাগের প্রধান সমন্বয়ক ইভা রেজওয়ানা নিলু। সাজ্জাদ শাহকে অফিসার হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। ইভা রেজওয়ানা নিলু বলেন, এই দুই কর্মকর্তা মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। একজন করোনাভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির প্রতি তারা যে মহানুভবতা দেখিয়েছেন, তাতে আমরা গর্বিত। 

এক সময় শিক্ষকতা করতেন জানিয়ে এসএম জাহিদ হাসান (পলিসি, এইচআরএম অ্যান্ড এডমিন) বলেন, আসাদুজ্জামান তার ছাত্র ছিলেন। এমন মানবিক ছাত্রের শিক্ষক হতে পেরে তিনি নিজেকে সার্থক মনে করেন।

উল্লেখ্য, গত ৩ মে করোনা আক্রান্ত পুলিশ কর্মকর্তা স্বাধীন হোসেন বিপ্লব ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। তিনি ঢাকার কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আইসোলেশনে থাকায় পানি গরম করার জন্য একটি ইলেকট্রিক কেটলি এবং মশা মারার ব্যাট তার জরুরি প্রয়োজন ছিলো। লকডাউনের কারণে সব দোকান বন্ধ থাকায় তিনি সেগুলো কিনতে পারছিলেন না। বিভিন্ন অনলাইন শপে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, কেউই ৩ থেকে ৭ দিনের আগে ডেলিভারি দিতে পারবে না। এতে বিপদে পড়েন তিনি।

এ সময় ওয়ালটনের ফেসবুক পেজ থেকে নম্বর নিয়ে স্বাধীন ওয়ালটন প্লাজার পল্টন শাখার ম্যানেজার মো. আসাদুজ্জামানকে ফোন দেন। স্বাধীন করোনা পজিটিভ শুনে এবং তার জরুরি প্রয়োজন জেনে দ্রুত উদ্যোগ নেন আসাদুজ্জামান। তিনি ডেলিভারি ম্যান সাজ্জাদ শাহ্কে দিয়ে মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যেই স্বাধীনের কাছে কাক্সিক্ষত পণ্য দুটি পৌঁছে দেন। এ সময় পণ্যে ১০ শতাংশ মূল্য ছাড় এবং ফ্রি ডেলিভারি দেওয়া হয়।

একজন করোনা আক্রান্ত রোগীর প্রতি ওয়ালটনের কর্মকর্তার এই দায়িত্ববোধে মুগ্ধ হন স্বাধীন। বিষয়টি নিয়ে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তিনি একটি প্রশংসাসূচক পোস্ট দেন। পোস্টটি ভাইরাল হয়। স্বাধীনের ওই পোস্ট ওয়ালটন কর্তৃপক্ষের চোখে পড়ে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পুরস্কৃত করা হয় দুই কর্মকর্তাকে। একইসঙ্গে প্রশংসাসূচক মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা জানানো হয় স্বাধীনকে।

পল্টন প্লাজার ম্যানেজার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ম্যানেজমেন্টের নির্দেশনা ছিলো, করোনা দুর্যোগের সময় কেউ যদি কোনো পণ্য অর্ডার করেন, সেটা যত ছোটই হোক, যথাসম্ভব দ্রুত পৌঁছে দিতে হবে। এখানে ব্যবসা নয়, বরং মানবসেবা সবার আগে। এই নির্দেশনা মেনে আমি দায়িত্ব পালন করেছি। এই কাজের জন্য আমি বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছি। পুরস্কার আমার দায়িত্ব আরো বাড়িয়ে দিলো। ওয়ালটন কর্তৃপক্ষের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। সাজ্জাদ শাহ বলেন, এই পুরস্কার আমার পাথেয় হয়ে থাকবে। ভবিষ্যতে মানুষের কল্যাণে আরো বড় কাজ করতে চাই।

পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন উদয় হাকিম (ক্রিয়েটিভ অ্যান্ড পাবলিকেশন্স), মো. রায়হান (প্লাজা সেলস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট), ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মো. ফিরোজ আলম, ডেপুটি অপারেটিভ ডিরেক্টর মীর মোহাম্মদ গোলাম ফারুক, এডিশনাল ডিরেক্টর মিলটন আহমেদ প্রমুখ।

 

ঢাকা/তারা