ঢাকা, সোমবার, ১৬ চৈত্র ১৪২৬, ৩০ মার্চ ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

দক্ষিণ কোরিয়ায় বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী পালন

মোহাম্মদ হানিফ, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৩-১৮ ১০:১৭:৪৩ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৩-১৮ ১০:১৭:৪৩ এএম

যথাযোগ্য মর্যাদা ও আনন্দমুখর পরিবেশে দক্ষিণ কোরিয়াতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান- এর জন্মশতবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপিত হয়েছে।

শেখ মুজিবের জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠান বড় পরিসরে করার পরিকল্পনা থাকলেও কোরিয়াতে করোনাভাইরাস ভয়াবহ প্রভাব বিস্তার করার কারণে ছোট পরিসরে আয়োজন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

তবে নভেল করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি উপেক্ষা করে দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি স্বল্প সংখ্যক দক্ষিণ কোরিয়াস্থ প্রবাসী বাংলাদেশি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে দূতাবাস।

আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতিতে রাষ্ট্রদূত জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

এরপর বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করা হয়। এরপর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ থেকে পাঠ করার পর দূতাবাসের কর্মকর্তাগণ দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন।

উল্লেখ্য যে, দূতাবাসের উদ্যোগে সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতিসংঘের প্রাক্তন মহাসচিব মি. বান কি মুন বাণী প্রদান করেন এবং তা অনুষ্ঠানে পাঠ করা হয়।

পরবর্তীতে, বাংলাদেশ দূতাবাস, সিউল ও কোরিয়া পোস্টের যৌথ উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত একটি স্মারক ডাকটিকেট উন্মোচন করা হয়। পরের পর্বটি ছিল বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবসের গুরত্ব ও তাৎপর্যের উপর উন্মুক্ত আলোচনা। উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং মুজিব বর্ষের প্রাক্কালে মহান এই নেতার জীবন, বর্ণাঢ্য কর্মজীবন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা লাভের জন্য উপস্থিত সকলকে উৎসাহ প্রদান করেন।

অতঃপর বঙ্গবন্ধুর জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের আলোকচিত্র এবং তার জীবন ও কর্মের উপর লিখিত প্রায় শতাধিক বই নিয়ে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

এছাড়া দিবসটি উদযাপনের মাহেন্দ্রক্ষণে দক্ষিণ কোরিয়ার স্থানীয় ম্যাগাজিন `seoul city’ তে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রদূতের একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়।

বিকেলে দ্বিতীয় পর্বের অনুষ্ঠান দূতাবাস পরিবারের শিশু-কিশোরদের সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আরম্ভ হয়। অনুষ্ঠান আরম্ভের পূর্বে দিবস উদযাপনের জন্য দূতাবাসের উদ্যোগে প্রস্তুতকৃত স্মারক ব্যাজ উপস্থিত সকলের মাঝে বিতরণ করা হয়।

এরপর শিশু কিশোররা পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ হতে পাঠ করে এবং বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী থেকে কিছু অংশ পড়ে শোনায়। এরপর উপস্থিত শিশু-কিশোররা কবিতা পাঠ, নৃত্য ও সঙ্গীত পরিবেশন করে।

গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর অর্জন, আত্মত্যাগ ও মহিমাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে বাংলাদেশ দূতাবাস শিশুদের নিয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।

সেই প্রতিযোগিতায় আট থেকে দশজন শিশুশিল্পী অংশগ্রহণ করে। রঙ তুলির আঁচরে মনের মাধুরী মিশিয়ে অংকন করেছে বঙ্গবন্ধুর ছবি। প্রতিটির শিশুর অংকনের প্রতিভায় ফুটে উঠেছে তার প্রতি ভালোবাসা। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম মহান এ নেতা সম্পর্কে অনেক অজানা বিষয় জানতে পারবে বলে মনে করেন রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম। শিশুদের কাছে বঙ্গবন্ধু অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে বাংলাদেশ দূতাবাসের এ ভিন্ন আয়োজন।

রাষ্ট্রদূত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিশু-কিশোরদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। রাষ্ট্রদূত উপস্থিত সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কেক কাটেন।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের ঐতিহাসিক ক্ষণটিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য উপস্থিত সকল অতিথির আলোকচিত্র গ্রহণ এবং আগত অতিথিবৃন্দের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি খাবার পরিবেশন করা হয়।

উল্লেখ্য, স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টার জন্মশতবার্ষিকীর পুরো বছরটি সরকার ‘মুজিববর্ষ হিসেবে পালন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে অনুযায়ী ১৭ মার্চ, ২০২০ থেকে ২৬ মার্চ ২০২১ সাল পর্যন্ত ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপন করা হবে।



হানিফ/জেনিস