ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২১ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

প্রবাসী আয়ে মন্দা কাটছে না

নাসির উদ্দিন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৬-১০-০৩ ১০:৫৬:৩৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৭-১৫ ৬:৪২:৫৮ পিএম

নাসির উদ্দিন চৌধুরী : চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্টের পর সেপ্টেম্বরেও কমেছে প্রবাসী আয়।

গত মাসে (আগস্ট) প্রবাসীরা যে পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন তা আগস্ট মাসের চেয়ে প্রায় ১২ শতাংশ এবং আগের অর্থবছরের একই মাসের চেয়ে প্রায় সাড়ে ২২ শতাংশ কম।

এছাড়া চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) হিসাবে আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে প্রবাসী আয় কমেছে প্রায় ১৮ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, প্রবাসী আয়ে মন্দা যেন কাটছেই না। চলতি অর্থবছরের সেপ্টেম্বরে প্রবাসীরা ১০৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। যা গত অর্থবছরের একই মাসের চেয়ে ৩০ কোটি ৬০ লাখ ডলার বা ২২ দশমিক ৬৮ শতাংশ কম। গত অর্থবছরের সেপ্টেম্বর মাসে রেমিট্যান্স আসে ১৩৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার।

এ ছাড়া চলতি অর্থবছরের আগস্ট মাসে রেমিট্যান্স আসে ১১৮ কোটি ৩৬ লাখ ডলার। যা আগের বছরের আগস্ট মাসে ছিল ১১৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার। রেমিট্যান্স প্রবাহের গতি জুলাইয়ে ছিল আরও মন্দ। এ মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ১০০ কোটি ৫৫ লাখ ডলার।

অথচ গত অর্থবছরের একই মাসে ১৩৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স আসে। সব মিলে চলতি অর্থবছরের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) প্রথম ৩ মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ৩২৩ কোটি ২১ লাখ ডলার। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৭০ কোটি ১৫ লাখ ডলার কম।

এদিকে গত অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর, এই ৩ মাসে প্রবাসী আয় এসেছে ৩৯৩ কোটি ৩৬ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ৭১ কোটি ২১ লাখ ডলার। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৩০ কোটি ৮৯ লাখ ডলার, বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ১ কোটি ১০ লাখ ডলার এবং বিদেশি মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১ কোটি ৯ লাখ ডলার।

তবে একক ব্যাংক হিসেবে সেপ্টেম্বরে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের মাধ্যমে। এ ব্যাংকটির মাধ্যমে ২৫ কোটি ২৫ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। রেমিট্যান্স আহরণে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড। এ ব্যাংকটির মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ১১ কোটি ৩৯ লাখ মার্কিন ডলার।

এ ছাড়া সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে ৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার, জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে ৮ কোটি ৩১ লাখ ডলার, ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে ৪ কোটি ৮১ লাখ ডলার, ন্যাশনাল ব্যাংকের মাধ্যমে ৪ কোটি ৬৭ লাখ ডলার ও পূবালী ব্যাংকের মাধ্যমে ৩ কোটি ৭৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তার আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় আড়াই শতাংশ কম প্রবাসী আয় আসে। গত অর্থবছরের পুরো সময়ে রেমিট্যান্স আসে ১ হাজার ৪৯৩ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরে যা ছিল এক হাজার ৫৩১ কোটি ডলার।

তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জনশক্তি রফতানিতে ভাটা, অবৈধ পথে প্রবাসী আয় পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি, মার্কিন ডলারের বিপরীতে বিভিন্ন মুদ্রার দরপতন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস ও মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে চলা রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘কয়েকটি কারণে রেমিট্যান্স কমছে। এর মধ্যে ডলারের বিপরীতে টাকার মান শক্তিশালী হওয়া। বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে প্রবাসীদের বেতন ও মজুরি কমে যাওয়া।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩ অক্টোবর ২০১৬/নাসির/হাসান/শাহনেওয়াজ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন