ঢাকা, রবিবার, ৪ কার্তিক ১৪২৬, ২০ অক্টোবর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

খুলনায় আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে মানুষ

মুহাম্মদ নূরুজ্জামান : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৫-০৩ ৮:৩৬:৫৯ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৫-০৩ ৩:২৬:৫৯ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা : বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে খুলনার আকাশে কালো মেঘ ছেয়ে থাকলেও শুক্রবার সকালে আকাশ ছিলো রৌদ্রকোজ্জল। ভ্যাপসা গরম কেটে দক্ষিণা বাতাস ক্রমে জোরালো হচ্ছে। ভোর রাতে সামান্য বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া অনেকটা স্বাভাবিক থাকলেও সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে উপকূলের মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

ঘুর্ণিঝড় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দায়িত্বে থাকা কয়রা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. জাফর রানা শুক্রবার সকালে জানান, এখনও কেউ আশ্রয় কেন্দ্রে যায়নি। উপজেলার আবহাওয়া এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক রয়েছে। তারপরও সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিতে ১২৬ সদস্যের সাতটি টিম অল্প সময়ের মধ্যেই মাঠে নেমে পড়বে। মানুষকে নিরাপদ জায়গায় নিতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা থাকায় কয়রা উপজেলার জনসাধারণ নিকটস্থ আশ্রয় কেন্দ্রের দিকে যেতে শুরু করে। বিশেষ করে কয়রা সদর ইউনিয়নের ৩, ৪, ৫ ও ৬ নং কয়রা সাইক্লোন শেল্টারগুলোতে এবং উত্তর বেদকাশী, দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের জনসাধারণ নিজেদের জান মাল রক্ষার্থে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে পৌঁছাতে শুরু করে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে তাদের মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে আসে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কয়রায় মানুষের মধ্যে এখনও আতঙ্ক বিরাজ করছে। কারণ, অমাবস্যার সময় হওয়ায় নদীতে দেড় থেকে দুই ফুট পানি বেড়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, আইলার প্রাক্কালে যেমন তীব্র গরম অনুভব হয়েছিল, তেমনি মনে হচ্ছে। আর অমাবস্যার সময় হওয়ায় তারা বাঁধে ভাঙন ও বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন।

জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা আজিজুল হক জোয়ার্দার বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় ফণির প্রভাবে সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে জেলার ৩২৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া উপকূলীয় উপজেলা কয়রায় এক হাজার ৯৫ জন ও দাকোপ উপজেলায় এক হাজার ৩৬৫ জন স্বেচ্ছাসেবকসহ দুই হাজার ৪৬০ জন স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

খুলনা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি এবং নয়টি উপজেলায় নয়টি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। স্থানীয় লোকজনকে সতর্ক করতে উপকূলীয় উপজেলাগুলোতে মাইকিং করা হচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি সামাল দিতে ১১৪ টি মেডিকেল টিমও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

 

 

 

 

রাইজিংবিডি/খুলনা/৩ মে ২০১৯/মুহাম্মদ নূরুজ্জামান/শাহেদ/শাহনেওয়াজ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন