ঢাকা, বুধবার, ৭ কার্তিক ১৪২৬, ২৩ অক্টোবর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

‘আলোচনা করে গ্রামীণফোন-রবির কাছে পাওনা আদায় করা হবে’

বিশেষ প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৯-১৮ ৯:২৬:১০ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৯-১৯ ৬:৪৪:৩৭ পিএম

অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল বলেছেন, আইনি প্রক্রিয়া নয় সমঝোতার মাধ্যমে দেশের প্রধান দুই মোবাইল অপারেটর কোম্পানি গ্রামীণফোন ও রবির কাছে সরকারের দুটি দপ্তরের পাওনা টাকা আদায় করা হবে। আশা করি দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে বিষয়টি সমাধানে আসবে।

বুধবার সচিবালয়ে মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন, রবি ও বিটিআরসির মধ্যে এ সংক্রান্ত এক বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের একথা বলেন। বৈঠকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার, বিটিআরসির চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক, এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন,  গ্রামীণফোনের সিইও মাইকেল ফোলি উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে কিছু ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে। এটি নিয়ে ভিন্ন প্রক্রিয়ায় গেলে সমস্যা বাড়বে। তাই আলোচনার মাধ্যমেই বিষয়টির সমাধান করা হবে। সেটি সমাধানে তারাও হারবে না, আমরাও হারব না। তারাও এ দেশে ব্যবসা করবে এবং আমাদের পাওনাও বুঝিয়ে দেবে। এ ক্ষেত্রে তাদের প্রয়োজনীয় সাহায্য করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘তাদের কাছ থেকে প্রতি বছর পাঁচ হাজার কোটি টাকা করে পাই। বকেয়া চার হাজার কোটি টাকা নিয়ে বিরোধ। তারা কিছু কিছু ব্যাপারে বিরোধ করছে। আমরা নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করেছি। বিটিআরসির ব্যাপারটি আট হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ভুল বোঝাবুঝির জন্য এ সমস্যা হয়েছে। আমরা দেখছি কোন পদ্ধতি অবলম্বন করলে সমস্যা সমাধান হবে।’

আহম মুস্তফা বলেন, ‘তবে আমাদের ক্ষতির সম্ভাবনা বেশি। কিন্তু সমাধানের বাইরে আমরা অন্য কোনো পদ্ধতিতে যাব না। আমরা আশা করি, দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে এটি সমাধান হবে। আমরা এর জন্য আদালতে যাব না, নিজেরা বসেই সিদ্ধান্ত নেব।’

ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে বিটিআরসির সঙ্গে দু’টি মোবাইল ফোন অপরেটরের দেনা-পাওনার বিষয় আছে। তারা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখে। তারা দেশের রেভিনিউ ও জনগণের যোগাযোগে ভূমিকা রাখছে। কাকতালীয়ভাবে বড় দু’টি অপারেটরের সঙ্গেই দেনা-পাওনা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। তারা জনগণের সেবা করছে ২২ বছর ধরে, এর মধ্যে এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। রবির বকেয়া ৮৬৭ কোটি টাকা, বাকি বকেয়া গ্রামীণফোনের।’

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিনের এ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি। অর্থমন্ত্রী যেটি বলেছেন, আমাদের সবার মত একই। আমরা চাই না, ব্যবসার পরিবেশ নষ্ট হোক। আবার জাতীয় রাজস্বও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। অর্থমন্ত্রী নিজে দায়িত্ব নিয়ে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছেন। আমরা কোনো পক্ষকে হারাতেও চাই না, আবার নিজেরাও হারতে চাই না। ব্যবসার জন্য সুন্দর পরিবেশ থাকুক সেটা চাই। কারও সদিচ্ছার কোনো অভাব নেই। আমরা পারস্পরিক আলোচনার মধ্য দিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে পারব বলে আশাবাদী।’

গ্রামীণফোনের সিইও মাইকেল ফোলি বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে আমরা সহযোগিতা করছি। এ সুন্দর উদ্যোগের জন্য আমরা সন্তুষ্ট। স্বচ্ছতার ভিত্তিতে এ সমস্যার সমাধান হবে। এটি আমাদের সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমরা দ্রুত সমাধানে আসতে চাই।’

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘তাদের কাছে বিটিআরসির পাওনার ৬০ থেকে ৭০ ভাগই ইন্টারেস্ট। তবে আমরা যে চার হাজার কোটি টাকা পাই, সেখানে ইন্টারেস্ট নেই। বিটিআরসির চেয়ারম্যান বলেছিলেন, আগে টাকা দিয়ে আলোচনা করতে হবে। কিন্তু এখন আগে সমাধান দরকার। তারা মন্ত্রীকে কথা দিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব আলোচনার মাধ্যমে এটি সমাধান হবে।’


ঢাকা/হাসনাত/শাহনেওয়াজ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন