ঢাকা, সোমবার, ২৩ চৈত্র ১৪২৬, ০৬ এপ্রিল ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

বীরশ্রেষ্ঠ’র জন্মদিনে নূর মোহাম্মদ নগরে ব্যাপক আয়োজন

নড়াইল সংবাদদাতা : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০২-২৬ ১০:১৯:৫০ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০২-২৬ ১০:২৪:৩৯ এএম

নড়াইল সদর উপজেলার মহিষখোলা গ্রাম এখন সবাই ‘নূর মোহাম্মদ নগর’নামে চেনে। এই গ্রামে জন্মেছিলেন দেশের সাত বীরশ্রেষ্ঠ ’র একজন ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ।

মুক্তিযুদ্ধে রণাঙ্গণের এই সাহসী সন্তানের ৮৪তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন। বাবার নাম মোহাম্মদ আমানত শেখ এবং মা জেন্নাতুন্নেছা। বাল্যকালে বাবা ও মাকে হারান এই বীরশ্রেষ্ঠ।

২০০৮ সালের ১৮ মার্চ মহিষখোলা গ্রামের নাম পাল্টে ‘নূর মোহাম্মদ নগর’ করার  পর উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে গেছে ‘নূর মোহাম্মদ নগর’।

এই বীরশ্রেষ্ঠ’র স্মরণে এখানে গড়ে উঠেছে- ‘বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর’, ‘স্মৃতিস্তম্ভ’, ‘স্কুল এবং কলেজ’ এবং নড়াইল শহরে ‘স্টেডিয়াম’। প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার আলো বিস্তারে এবং খেলাধূলা চর্চার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে এসব প্রতিষ্ঠান।

এছাড়া নূর মোহাম্মদ নগরে এই বীরশ্রেষ্ঠ’র নামে ব্যক্তি ও সামাজিক উদ্যোগে বিভিন্ন ধরণের ক্লাব ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।

নূর মোহাম্মদ শেখ পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসে (ইপিআর) যোগদানও করেন ২৬ ফেব্রুয়ারি (১৯৫৯ )। দীর্ঘদিন দিনাজপুর সীমান্তে চাকরি করে ১৯৭০ সালের ১০ জুলাই যশোর সেক্টরে বদলি হন। পরে ল্যান্স নায়েক পদে পদোন্নতি পান। ১৯৭১ সালে যশোর অঞ্চল নিয়ে গঠিত ৮ নম্বর সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে যশোরের কাশিপুর সীমান্তের বয়রা অঞ্চলে ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদার নেতৃত্বে পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। এ সময় এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৮নম্বর সেক্টর কমান্ডার ছিলেন কর্নেল (অব:) আবু ওসমান চৌধুরী এবং সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কমান্ডার ছিলেন মেজর এসএ মঞ্জুর। ১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যশোরের গোয়ালহাটি ও ছুটিপুরে পাকবাহিনীর সাথে সম্মুখযুদ্ধে শহীদ হন নূর মোহাম্মদ। যশোরের কাশিপুর গ্রামেই তাকে সমাহিত করা হয়। মুক্তিযুদ্ধে বীরোচিত ভূমিকা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত হন।

নূর মোহাম্মদ শেখের দ্বিতীয় স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেসা (৭৯) বার্ধক্যজনিত কারণে ২০১৮ সালের ২১ নভেম্বর ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। এর আগে ১৯৯০ সালে নূর মোহাম্মদ শেখের প্রথম স্ত্রী তোতা বিবি মারা যান। বর্তমানে ছেলে গোলাম মোস্তফা কামাল ও তিন মেয়ে নড়াইল এবং যশোরে বসবাস করছেন।

নূর মোহাম্মদের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নূর মোহাম্মদ ট্রাস্ট ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নূর মোহাম্মদ নগরে আজ কোরআনখানি, শোভাযাত্রা, স্মৃতিস্তম্ভে গার্ড অব অনার প্রদান ও পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

এছাড়া বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের স্মৃতি সংরক্ষণে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানালেন জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা।



ফরহাদ খান/টিপু