ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৬ মে ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

ত্রাণের অপেক্ষায় তিনি...

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৪-০৬ ১১:০৮:২১ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৪-০৬ ১১:০৮:২১ পিএম

‘করোনাভাইরাসের ভয়ে নয়-দশ ধরে দিন কাজে যাইনি। যাদের বাসায় কাজ করি, সবাই বাড়ি চলে গেছে। গত মাসের বেতনও এখনো পাইনি। দুইটা ছোট বাচ্চা নিয়ে এখন কীভাবে আমি দুই বেলা খেয়ে বেঁচে থাকব, সেটাই ভেবে পাচ্ছি না। জীবনে অনেক কষ্ট করেছি, কখনো কারো কাছে হাত পাতিনি। কিন্তু আজ মনে হচ্ছে, মানুষের কাছে হাত পেতেই বেঁচে থাকতে হবে।’

সম্প্রতি রাইজিংবিডির এ প্রতিবেদককে এসব কথা বলেন গৃহকর্মী মালা বেগম।

রাতে ধানমন্ডির জিগাতলায় সড়কের পাশে গালে হাত দিতে বসে ছিলেন মালা বেগম। রাস্তার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন এই ভেবে যে, কেউ ত্রাণ দিতে আসবে। কিছু চাল-ডাল পেলে বাচ্চাদের মুখে খাবার তুলে দিতে পারবেন।

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে গত মাসের ২৬ তারিখ থেকে সব ধরনের পরিবহণ বন্ধ। দোকানপাট, স্কুল-কলেজ বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। সাধারণ ছুটি ঘোষণা করায় রাজধানীর অনেক মানুষ চলে গেছেন গ্রামের বাড়ি। এতে মালা বেগমের মতো অনেক গৃহকর্মী ভোগান্তিতে পড়েছেন।

মালা বেগম ধানমন্ডি এলাকায় কিছু মেসে রান্না করতেন। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় ছাত্রছাত্রীরা প্রায় সবাই চলে গেছেন গ্রামের বাড়িতে। তাই তার কাজ বন্ধ। ফলে রোজগারও বন্ধ। তিনি হঠাৎ করেই বেকার হয়ে গেছেন।

মালা বেগম বলেন, ‘আমি তিনটা মেসে কাজ করি। সেখান থেকে যে টাকা পাই তা দিয়ে কোনোভাবে সংসার চালাই, বাসাভাড়া দেই। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে অনেকে বাড়ি চলে গেছে। আমি যে জায়গায় কাজ করি, তার মধ্যে এক বাসা থেকে আমার বেতন দিয়ে গেছে। কিন্তু বাকিরা এখনো দেয়নি। বাসাভাড়া দিতে হবে, বাজার করতে হবে। কিন্তু হাতে টাকা নেই।’

তিনি বলেন, ‘অনেক আগেই স্বামী আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। দুটা বাচ্চা নিয়ে অনেক কষ্টে থাকি আমি। আমি কখনো কারো কাছ থেকে কিছু চেয়ে নিইনি। কষ্ট করে উপার্জন করে সংসার চালিয়েছি। কিন্তু এখন যে অবস্থা, তাতে কীভাবে চলব? কীভাবে আমার সন্তানদের মুখে একটু খাবার তুলে দেব, আল্লাহ ভালো জানেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘দিনের বেলায় অনেকেই ত্রাণ দেয়। অনেকেই ত্রাণ নেয়। কিন্তু আমি নিতে পারছি না লজ্জার কারণে। তাই এখন রাতে এখানে এসেছি ত্রাণের আশায়। যদি কেউ ত্রাণ দিতে আসে তাহলে নিয়ে যাব। বাসায় রান্না করার মতো কিছুই নেই। রাতে ত্রাণ নিলে কেউ হয়তো দেখবে না।’

মালা বেগমের মতো আরো অনেককেই রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। তাদের একাধিক জনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কর্মহীন হয়ে পড়ায় উপার্জন বন্ধ হয়েছে। দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট। তাই কিছু ত্রাণের আশায় এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঘোরাঘুরি করছেন। ভাগ্য ভালো হলে কারো কাছ থেকে ত্রাণ পাচ্ছেন অনেকে।


ঢাকা/হাসিবুল/রফিক