ঢাকা, বুধবার, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৭ মে ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

করোনায় বাবা হারানো ছেলের আকুতি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৪-০৭ ১:৫২:০৬ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৪-০৭ ৭:০৫:২৬ এএম

‘আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই না বর্তমানে এই মূহুর্তে আমার এবং আমার পরিবারের ওপর দিয়ে যা যাচ্ছে সেটা আমার শত্রুকেও মোকাবিলা করতে হয়। তাই এখনো যারা ঘরে থাকার বিধিনিষেধ মানছেন না, তাদের সবাইকে ঘরে থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

এটা কোনো উপদেশমূলক বক্তব্য নয়। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বাবা হারানো এক ছেলের আকুতি।  তিনি শামীম রহমান।

সোমবার (৬ এপ্রিল) বাবাকে হারিয়েছেন শামীম।  বাবা ছিলেন বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের ২২ তম ব্যাচের কর্মকর্তা ও দুর্নীতি দমন কমিশনের পরিচালক।

করোনায় বাবাকে হারিয়ে শামীম রহমান তার ফেসবুক পেজে নিজের অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ করেছেন। যেখানে তিনি কিছু বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিষয়ে আপত্তি জানানোর পাশাপাশি নিজের উপলব্ধি প্রকাশ করেছেন।

শামীম রহমানের স্ট্যাটাসটি রাইজিংবিডির পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

‘আমার বাবা (জালাল সাইফুর রহমান, পরিচালক, দুদক) আজকে সকালে সাড়ে ৭টার দিকে কার্ডিয়াক এরেস্টের কারণে মৃত্যুবরণ করেন (ইন্নালিল্লাহি...রাজিউন)। উনি গত ৩০শে মার্চ করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে উত্তরার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

তবে দুঃখের বিষয় এই যে, উনার মৃত্যুর সংবাদ নিয়ে লেখা প্রতিবেদনেও অনেক ভুল-ভ্রান্তি চোখে পড়ে।  সে ভুল-ভ্রান্তিগুলো আমি একটু তুলে ধরতে চাই-

১।  আমি উনার একমাত্র সন্তান ছিলাম, আমার কোনও  ভাই-বোন নেই।
২।  আমি এবং আমার আম্মু দুইজনই পরিপূর্ণ রূপে সুস্থ আছি। 
৩। আমরা গত ৭ দিন ধরে দুইজনই সেলফ আইসোলেশনে আছি, কোনও হাসপাতালে না।আমাদের দুইজনকে আরও ৭দিন সেলফ আইসোলেশনে থাকতে হবে। (সেলফ আইসোলেশন বলতে ঘরের মধ্যে নিজেকে আলাদা করে রাখা, কারো সাথে দেখা সাক্ষাৎ বা মেলামেশা না করা।)

সেলফ আইসোলেশনের কারণে না বাবার জানাজার অংশ হতে পেরেছি না উনাকে কবর দেওয়ার অংশ হতে পেরেছি, এর চেয়ে কঠিন কিছু আর নেই।  উনাকে আজ ৪টার দিকে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

উনি একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান মানুষ ছিলেন। উনার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। আমার বাবা জীবিকার তাগিদে সরকারি আদেশ না আসা পর্যন্ত ২২শে মার্চ পর্যন্ত অফিস করেছিলেন তারপর থেকে তিনি বাসাতেই ছিলেন কিন্তু তবুও রক্ষা পাননি। তাই এখনও যারা ঘরে থাকার বিধিনিষেধ মানছেন না, তাদের সবাইকে ঘরে থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি।  আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই না বর্তমানে এই মূহুর্তে আমার এবং আমার পরিবারের ওপর দিয়ে যা যাচ্ছে সেটা আমার শত্রুকেও মোকাবিলা করতে হোক।’

মারা যাওয়া ওই পরিচালক প্রশাসন ক্যাডারের ২২তম ব্যাচের কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি ২০১৬ সালে প্রেষণে দুদক পরিচালক হিসেবে যোগ দেন।


এম এ রহমান/সাইফ