ঢাকা, বুধবার, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৭ মে ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

দেশ-বিদেশ থেকে গুজব ছড়ালে ব্যবস্থা: তথ্যমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৪-০৯ ১:৫৩:১৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৪-০৯ ৪:২৬:০১ পিএম

দেশ-বিদেশ যেখান থেকেই হোক, গুজব ছড়ালে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরে মন্ত্রণালয়ের জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠক শেষে একথা বলেন তিনি।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি যে, দেশে যখনই কোনো বিশেষ পরিস্থিতি বা দুর্যোগময় পরিস্থিতি তৈরি হয়, তখন কিছু মানুষ গুজব সৃষ্টি করে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে তারা জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে জনগণকে ভয় দেখানোর অপচেষ্টা চালায়।   একইসঙ্গে একটি মহল এধরনের গুজব তৈরি করে সরকারকেও বেকায়দায় ফেলার অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকে।’ 

সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়গুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যেই অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যারা এই কাজগুলো করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নিতে সরকার বদ্ধপরিকর। একইসঙ্গে আমাদের তথ্য অধিদফতর এই বিষয়গুলো নজরে রাখছে। আমাদের মন্ত্রণালয়ের যে গুজব প্রতিরোধ সেল রয়েছে সেই সেলের কর্মকর্তারাও আজকে এখানে আছেন। এবিষয়গুলো আজকে আমরা আলোচনা করেছি। দয়া করে কেউ গুজব তৈরির চেষ্টা করবেন না।’ 

বিদেশ থেকেও অনেক ধরনের গুজব তৈরি করা হচ্ছে জানিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিদেশে যেসব বাংলাদেশি বিভিন্ন কারণে আছেন তারা কিন্তু সবাই অত্যন্ত দেশপ্রেমিক। কিন্তু তাদের মধ্যে কেউ কেউ যাদের দু’একজনকে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে গুজব সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’

এদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তারা হয়তো মনে করছেন বিদেশে আছেন বিধায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। কিন্তু তারা বাংলাদেশের নাগরিক। সুতরাং বাংলাদেশের নাগরিক যেখান থেকেই অপকর্ম করুন না কেন, সরকার আইনগতভাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে এবং তা করবে।’

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ দেশের সব গণমাধ্যমকর্মীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আজকে যখন দেশের সব মানুষ ঘরের মধ্যে অবস্থান করছে,  তারা এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও মানুষের কাছে সংবাদ পরিবেশন করার জন্য দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন, তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। 

‘আমি সব সংবাদমাধ্যমের কর্মকর্তা ও সাংবাদিক ভাইবোনদের অনুরোধ জানাবো যে, আমাদের লক্ষ্য হবে জনগণ যাতে সঠিক সংবাদ এবং সঠিক তথ্য পায়, সংবাদের কাটতির জন্য আমাদের কেউ যেন জনগণের মধ্যে আতঙ্ক বা বিভ্রান্তি তৈরি হয় এমন সংবাদ পরিবেশন না করে’, বলেন তিনি।  

তথ্যমন্ত্রী এসময় দেশের ক্যাবল নেটওয়ার্ক পরিচালনাকারীদেরও ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এখন মানুষ টেলিভিশন দেখছে, টেলিভিশনের মাধ্যমে তথ্য পাচ্ছে এবং আপনারা ক্যাবল নেটওয়ার্ক সঠিকভাবে পরিচালনা করছেন এজন্য ধন্যবাদ জানাই।  সেই সঙ্গে আপনাদের অনুরোধ জানাই যাতে এই ক্যাবল নেটওয়ার্ক পরিচালনায় ব্যত্যয় না ঘটে। কোথাও ব্যত্যয় ঘটলে প্রশাসনের সহায়তা নিন। 

সরকারের বেতার, টেলিভিশন, তথ্য অধিদফতর এবং গণযোগাযোগ অধিদফতর এগুলো জরুরি সেবার অন্তর্ভুক্ত উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, সেজন্য অন্যান্য সরকারি এবং বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও আমাদের এই প্রতিষ্ঠানগুলো চালু আছে এবং এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা সব প্রতিকূলতার মধ্যেও কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এজন্য আমি তাদের সবাইকেও ধন্যবাদ জানাই। 

আমরা আজকে বৈঠকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের পাশাপাশি গণযোগাযোগ অধিদফতর ও তথ্য অধিদফতরের আঞ্চলিক বা মাঠ পর্যায়ে যারা কর্মরত, এ দুর্যোগে জনগণকে সঠিক তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে তারা স্ব-স্ব অফিসে দায়িত্ব পালন করবেন। 

এ সময় তথ্যসচিব কামরুন নাহার, প্রধান তথ্য অফিসার সুরথ কুমার সরকার, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক এস এম হারুন-অর-রশীদ, অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রচার) মো. মিজান উল আলমসহ তথ্য মন্ত্রণালয় ও এর জরুরি সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।
 

নঈমুদ্দীন/এসএম/জেডআর