ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০২ জুন ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

করোনার পরীক্ষা: হাসপাতালের বারান্দায় দুর্ভোগে রোগীরা

আহমদ নূর : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৫-২২ ১০:০৪:২৩ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৫-২২ ৪:১২:৪৪ পিএম
চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন। ছবিটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিভার ক্লিনিকের সামনে থেকে তোলা (ছবি: রাইজিংবিডি)

শরীরে জ্বর, সর্দি-কাশি নিয়ে মধ্যরাত থেকে স্ত্রীসহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ফিভার ক্লিনিকের সামনে অবস্থান করছিলেন রুপক দেবনাথ। উদ্দেশ্য পরিবারের সবার অন্তত করোনা পরীক্ষা করানো। সকালে তিনি জানতে পারেন, করোনা পরীক্ষা করাতে হলে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। হতাশা-গ্লানি যেন রুপককে আরও নিস্তেজ করে দিলো। এরপর এর কাছে, ওর কাছে অনুরোধ, বিনয়- তাকে যেন পরীক্ষা করানো হয়। কিন্তু নিয়ম ভাঙবে না বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ। ক্লিনিকের গেটে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যের কড়া কথা, অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করুন। যখন সময় জানাবে, তখন আসুন।

বুধবার (২০ মে) সকাল সকালে বেতার ভবনে বিএসএমএমইউর ফিভার ক্লিনিকের সামনে গিয়ে এ চিত্র দেখা যায়। শুধু রুপক নয়, এ ক্লিনিকে দেরিতে এলে সিরিয়াল পাওয়া যায় না দেখে আরও অনেকেই রাতভর অপেক্ষা করেছে গেটের সামনে।

রুপক দেবনাথ বলেন, তিন দিন ধরে পরীক্ষা করানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিন্তু পারছি না। এজন্য গতকাল রাতেই চলে আসি। কিন্তু এখন বলছে, অনলাইন রেজিস্ট্রেশন করতে। মোবাইলে মেসেজের মাধ্যেম আসার সময় জানিয়ে দেবে তারা। তারমানে কবে সিরিয়াল পাবো ঠিক নেই।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বাসিন্দা অলিউর রহমান আগে থেকেই শ্বাসকষ্টের রোগী। শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু করোনার কারণে তিনি ভর্তি হতে পারেননি। ধানমণ্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে বলা হয়েছে, করোনার সার্টিফিকেট নিয়ে গেলে তাকে ভর্তি নেওয়া হবে।

সাভারের বাসিন্দা কলেজছাত্রী মোহসিনারও অভিযোগ একই। তার ছোট বোনের একটি কিডনি নষ্ট। নিয়মিত ডায়ালাইসিস করতে হয়। কিন্তু করোনার কারণে তারও কোভিড-১৯ সার্টিফিকেট চেয়েছে হাসপাতাল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফিভার ক্লিনিকে নিয়মিত রোগী দেখা ও করোনা পরীক্ষা শুধুমাত্র বিএসএমএমইউতে হচ্ছে। কোভিড-১৯ আক্রান্তদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতালে সরাসরি কেউ পরীক্ষা করছে না। এমনকি নিম্ন আয়ের মানুষের শেষ ভরসাস্থল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও বাইরের রোগীদের পরীক্ষা করা হচ্ছে না। বেসরকারিভাবে যাদের পরীক্ষার অনুমতি দেওয়া হয়েছে তাদের শুধু হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের পরীক্ষা করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সেখানে পরীক্ষা করানো বেশ ব্যয় সাপেক্ষ। ফলে সাধারণ মানুষ বিএসএমএমইউতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন।

তবে তাদের এ প্রচেষ্টা ও জমায়েত করোনা সংত্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি জনগণের দুর্ভোগ কমাতে আরও বেশি পরীক্ষাগার তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ফিভার ক্লিনিকের এক চিকিৎসক বলেন, অন্য কোথাও করোনা টেস্ট করাতে না পেরে সবাই এখানে আসছেন। ফিভার ক্লিনিক যদি আরও কিছু জায়গায় করা যেত তাহলে এ সমস্যা হতো না।

প্রিভেন্টিভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, পরীক্ষা করাতে না পায় অবশ্যই দুর্ভোগ। তবে পরীক্ষা করানোর জন্য রাতে সিরিয়াল দেওয়া; বাইরে থাকা অবশ্যই ঝুঁকিপূর্ণ। যদি কেউ ভাইরাস বহন করে থাকেন তাহলে তার আশপাশে আসা অন্যান্য ব্যক্তিদেরও সংক্রমিত করবে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) ভাইরোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. সুলাতানা শাহানা বানু বলেন, শুরুর দিকে ঢামেকে বহিঃবিভাগের করোনা সাসপেক্ট রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে পরে এটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এখন শুধু হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রশান্ত মজুমদার বলেন, রোগীদের চাপ সামাল দেওয়া, দুর্ভোগ কমানো ও সংক্রমণ ঝুঁকি কমাতে ফিভার ক্লিনিকে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন শুরু করা হয়েছে। রোববার (১৭ মে) থেকে রেজিস্ট্রেশন শুরু হয়। সোমবার (১৮ মে) থেকে রেজিস্ট্রেশন অনুযায়ী রোগী দেখা হচ্ছে। যারা রেজিস্ট্রেশন করছেন তাদের এসএমএসে কখন আসতে হবে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে আগের তুলনায় ভিড় কম হচ্ছে।


ঢাকা/নূর/এসএম