ঢাকা, শুক্রবার, ১৯ আষাঢ় ১৪২৭, ০৩ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

মসজিদে প্রবেশে কেন কঠোরতা, জানানো হলো ঈদজামাতে

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৫-২৫ ১০:০২:৫০ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৫-২৫ ১:৫৫:২০ পিএম

করোনা পরিস্থিতিতে মসজিদে নামাজ আদায়ে কেন এতো কঠোরতা তার কারণ জানানো হলো জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের ঈদের দ্বিতীয় জামাতে।

সোমবার (২৫ মে) সকাল ৮টায় দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভী। নামাজের আগে বয়ানে মসজিদে প্রবেশে কঠোরতা ব্যাখা দেন তিনি।

মুফতি মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভী বলেন, অনেকে প্রশ্ন করে থাকেন মাঠ, ঘাট, হাটবাজার লোকে লোকারণ্য। কিন্তু মসজিদে মুসল্লিদের প্রবেশে কেন এতো কঠোরতা। তাদের উদ্দেশ্যে বলি, মসজিদে নামাজ পড়তে এসে কেউ যদি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন বা মারা যান, তাহলে ইসলামের শত্রু, ইসলাম ধর্মকে যারা পছন্দ করে না, তারা বলবে- তোমার আল্লাহ তোমাকে হেফাজত করতে পারলো না। এজন্যই মসজিদে এতো কঠোরতা। মসজিদে এসে যেন কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত না হন,  সে জন্য আপনারা দয়া করে সামাজিক দূরত্ব, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন।

তিনি বলেন, আপনারা (মুসল্লিরা) যারা নামাজ পড়তে আসছেন, আপনাদের নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা বেশি। আপনারা নামাজ পড়তে আসছেন, কারণ আপনারা আল্লাহর প্রিয় বান্দা। আমরা যেন কারো ক্ষতির কারণ না হই। অসতর্কতা অবলম্বন করলে আপনি মারা যাবেন। আপনার কারণে আরেকজন যেন আক্রান্ত না হন, মারা না যান। আপনার কারণে কেউ মারা গেলে আপনি তো হত্যাকারী হয়ে যাবেন। আপনাদের সুস্থতার জন্য সরকার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, আলেমদের পক্ষ থেকে সামাজিক দূরত্ব, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথা হচ্ছে। আর খুতবা, নামাজ, মোনাজাতও সংক্ষিপ্ত করা হচ্ছে। ২০ মিনিটের ঈদের নামাজ শেষ করা হচ্ছে। নামাজ শেষে কোলাকুলি করা থেকে বিরত থাকা এবং এ পরিস্থিতিতে কোনো আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে না যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভী বলেন, করোনার কারণে সবকিছু সীমিত, ওলটপালট হয়ে গেছে। আমরাও এ পরিস্থিতির শিকার। আমরা করোনা থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করবো। তিনি যেন আমাদের এ ভাইরাস থেকে মুক্তি দেন। সুস্থ থাকার জন্য আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। অসুস্থ হওয়ার আগে আমাদের সুস্থতাকে মূল্যায়ন করতে হবে।

বৃষ্টি হচ্ছে, বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকবে। সেখান থেকে এডিশ মশার জন্ম হবে। পরে আমরা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হবো। বাড়ির আশ-পাশ পরিষ্কার রাখার অনুরোধ করেন তিনি।

নামাজ শেষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দেশবাসীর জন্য দোয়া করা হয়।

এদিকে অন্যান্য সময় ঈদে নামাজ শেষে মুসল্লিরা ঐতিহ্যগভাবে কোলাকুলি করলেও এবার সেই দৃশ্য দেখা যায়নি।


মামুন খান/এসএম