ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ আষাঢ় ১৪২৭, ০৯ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

এটিএম বুথের নিরাপত্তারক্ষীদের কষ্টের ঈদ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৫-২৫ ২:১৮:৩৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৫-২৬ ১০:০৪:০৯ এএম

মহামারি করোনাভাইরাসের প্রার্দুভাবের মধ্যে সারা দেশে চলছে ঈদ উদযাপন।  ঈদের ছুটিতে ব্যাংক বন্ধ থাকলেও খোলা রয়েছে এটিএম বুথগুলো।

সারা দেশে প্রায় ১১ হাজার এটিএম বুথ রয়েছে টাকা উত্তোলনের জন্য। যার নিরাপত্তার দায়িত্বে আছেন নিরাপত্তাকর্মীরা। ঈদের ছুটিতে সবাই যখন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ঘরে বসে সময় কাটাচ্ছেন তখন তারা পরিবার রেখে গ্রাহকের টাকার নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছেন।   

রাজশাহীর আবদুল বাশার। গত ডিসেম্বর থেকে গার্ড ফোর্স নামের একটি সিকিউরিটি কোম্পানির আওতায় ডাচ বাংলা ব্যাংকের রামপুরা বাজার সংলগ্ন এটিএম বুথে কর্মরত। এপ্রিল মাসের বেতন পেলেও বোনাস দেয়নি কোম্পানি। ডাচ বাংলা ব্যাংক থেকেও মেলেনি বাড়তি কোনো ভাতা। পরিবার ছেড়ে প্রথম বারের মতো ঈদের সময় ডিউটি করছেন তিনি।

তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘প্রথমবারের মতো ঈদে পরিবার ছেড়ে ডিউটি করছি। খারাপ তো লাগছেই। ছুটি পাইনি। তার ওপর করোনোভাইরাস। সব সময় আতঙ্কে থাকি। ব্যাংক থেকে সেভলন ও হ্যাক্সিসল দিয়েছে। নিজের পয়সায় মাস্ক কিনে ব্যবহার করছি।’

অন্যদিকে মালিবাগ চৌধুরী পাড়ায় ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের বুথে কাজ করছেন আশরাফুল মিয়া। এলিট ফোর্স সিকিউরিটির আওতায় কর্মরত আছেন তিনি। এই কোম্পানির আওতায় প্রায় ১৫০০ জন কাজ করছেন। আশরাফুলের গ্রামের বাড়ি রংপুর। স্ত্রী ও ছেলেসহ পরিবারের সদস্য চারজন। গত ১২ বছর ধরে এ কাজ করছেন।

আশরাফুল রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘কষ্টের কথা কী বলবো। ঈদ কিংবা অন্য যেকোনো উৎসবে ছুটি নেই। ছুটি পেলেও বেতন কেটে রাখছে। এটাই কোম্পানির নিয়ম। তাই অধিকাংশ সময়ই পরিবার ছাড়া থাকতে হয়। সব ঈদেই সমান আমাদের কাছে। এবার করোনার কারণে আরও চিন্তায় আছি। তবে বেতন-বোনাস পেয়েছি এটাই শুকুরিয়া।’

মালিবাগে সিটি ব্যাংকের একটি বুথে কর্মরত বাবুল মিয়া।  এসএসএস সিকিউরিটিজের আওতায় তিনি এই বুথে কর্মরত আছেন।  বাড়ি নেত্রকোনা।  তিনি ছেলে-মেয়েসহ পরিবারের মোট সদস্য পাঁচজন। যদিও তার পরিবার নিয়ে ঢাকায় আছেন। বেতন ঠিক মতো পেলেও বোনাস পেয়েছেন নাম মাত্র।

রাইজিংবিডিকে বাবুল মিয়া বলেন, ‘নিজের চাকরি দিয়ে চলে না। গত বছর থেকে আমার ছেলেকে পোশাক কারখানায় কাজ দিয়েছি।  এখন পরিবার নিয়ে মোটমুটি ভালো আছি।  তবে করোনাভাইরাসের কারণে ভয়ে আছি, কখন আবার ছেলে কিংবা আমার চাকরি চলে যায়।’


ঢাকা/এম এ রহমান/ইভা