ঢাকা, রবিবার, ২৮ আষাঢ় ১৪২৭, ১২ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

বিনোদনকেন্দ্র বন্ধ, অলিগলিতেই ঈদের আড্ডা

মামুন খান : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৫-২৬ ৮:৪৪:১৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৫-২৬ ১০:২৪:৩১ পিএম

কেউবা ফাঁকা রাস্তা দিয়ে বন্ধুদের সাথে হাঁটছেন, কেউ ছুটছেন এলাকার ফাস্ট ফুডের দোকানে, আবার কেউ বন্ধুদের সাথে ক্রিকেট খেলছেন। অনেকে আবার পরিবার নিয়ে ঘোরাঘুরি করছেন। অনেক তরুণদের দেখা যায়, বাইক নিয়ে বের হয়েছেন বন্ধুদের সাথে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে। আবার অনেকে ওভাব্রিজ বা ফ্লাইওভারের ওপর এসে আড্ডা দিচ্ছেন।

ঈদের পরদিন মঙ্গলবার (২৬ মে) এমই চিত্র দেখা যায় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, কাজলা, দনিয়া, ধোলাইপাড়, শনিরআখড়া এলাকা ঘুরে।

এবারের ঈদের প্রেক্ষাপট অন্যান্যবারের চেয়ে ভিন্ন। করোনাভাইরাসের কারণে দুই মাস ধরে দেশে চলছে সাধারণ ছুটি। এর মধ্যে ঈদুল ফিতর উদযাপন করছে দেশের মুসলিম উম্মাহ। মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে ঈদ উদযাপিত হচ্ছে সীমিত আকারে। কোথাও কোনো ঈদগায়ে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি। জামাত হয়েছে মসজিদে মসজিদে। সরকার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ঈদুল ফিতরের নামাজে কোলাকুলি থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করেছে। মানুষ এ পরামর্শ মেনে চলেছে। তাই তো সেই কোলাকুলির চিত্র এবার দেখা যায়নি ।

এদিকে করোনাভাইরাসের প্রার্দুভাব রোধে বন্ধ রয়েছে পার্ক, চিড়িয়াখানা, সিনেমা হলসহ বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্র। ঈদের ছুটিতেও এসব বিনোদনকেন্দ্র খোলেনি। অন্যান্য ঈদের মত বিনোদন প্রেমিরা ঘোরার সুযোগ পাননি। তারপরও কিছু মানুষ বিনোদন পেতে যার যার মত করে বেরিয়ে পড়েছেন পাড়া-মহল্লার অলিতে গলিতে। তাই এবারের ঈদের আনন্দ অনেকটা অলি-গলিকেন্দ্রিক। এলাকার চায়ের দোকান, রেস্তোরায় ভিড়ের দৃশ্য দেখা গেছে।

রাজধানীর যাত্রাবাড়িতে বাস করেন রিয়াজ হোসেন। অন্যান্য ঈদে বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যান। কিন্তু এবার কোথাও যেতে পারেননি। পরিবারও চাননি বাসা থেকে বের হোক।

তিনি বলেন, ‘প্রায় দুই মাস বাসায় আটকা আছি। করোনভাইরাসের কারণে বের হয়নি। আর কতদিন বন্ধুদের সাথে আড্ডা না দিয়ে থাকা যায়। তাইতো পরিবারকে একটু ম্যানেজ করে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে এসেছি। অন্যান্য ঈদের বাইরে কোথাও না কোথাও ঘুরতে যাই। তবে করোনাভাইরাসের কারণে এবার কোথাও ঘুরতে যেতে পারিনি। তাই তো বন্ধুদের সাথে এলাকায় আড্ডা দিচ্ছি।’

রিয়াজ বলেন, ‘বাসা থেকে আসার সময় আম্মা মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে দিয়েছেন। বন্ধুদের সাথে কোলাকুলি করতেও বারণ করেছেন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বলেছেন। তাই তো তাদের কাছ থেকে দূরে থেকেই আড্ডা দিচ্ছি। তাদের কাছে না যেতে পেরে যদিও মন খারাপ। তারপরও তাদের সাথে আড্ডা দিতে পারছি এতেই ভালো লাগছে।’

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কামাল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিবার ঈদ বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সাথেই করা হয়। কিন্তু এবার করোনাভাইরাসের কারণে বাড়ি যেতে পারিনি। ঢাকাতেই ঈদ করছি। ছেলে-মেয়েদের কোথাও ঘুরতে নিয়ে যেতে পারিনি। বাড়িতে যেতে না পারায় এবং কোথাও ঘুরতে না পারার কারণে তাদের মন খারাপ। তাই তো তাদের নিয়ে একটু বেরিয়েছি। এতে তাদের মন কিছুটা হলে ভালো হবে।’

এদিকে যারা অলিতে গলিতে আড্ডা দিচ্ছেন তাদের অনেকেই সামাজিক দূরত্ব মানছেন না। দেখা গেছে, তারা একজন আরেকজনের খুব কাছাকাছি গিয়ে গল্প, আড্ডায় মেতে উঠেছেন। বিশেষ করে রেস্তোরাঁগুলোর সামনে মানুষের ভিড় বেশি। এসব রেস্তোরাঁয় মোটেই সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না।

শনিরআখড়া টেস্টিট্রিটের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা সব সময় কাস্টমারদের সামাজিক দূরত্ব মানার অনুরোধ করি, দূরে থাকার জন্য বলি। কিন্তু তারা নিজেরা যদি সচেতন না হন তাহলে আমাদের আর কি করার থাকে?’


ঢাকা/মামুন খান/সনি