ঢাকা, সোমবার, ১ আশ্বিন ১৪২৬, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

বাংলাদেশ নিয়ে কিউই গাত্রদাহের মনস্তত্ব এবং ম্যাককালাম

নাজমুল হক তপন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৬-০৪ ৪:৫৫:৫৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৮-১৭ ২:৫০:৫১ পিএম
বাংলাদেশ নিয়ে কিউই গাত্রদাহের মনস্তত্ব এবং ম্যাককালাম
Walton E-plaza

বাংলাদেশ বিশ্বকাপে একটি ম্যাচে জিতবে। বড় জোর হারাতে পারে শ্রীলঙ্কাকে। বাকি আট ম্যাচেই হারবে বাংলাদেশ, কথাগুলো সাবেক নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালামের। বাংলাদেশে খুবই পরিচিত নাম ম্যাককালাম। খেলেছেন বিপিএল-এ। খেলোয়াড় হিসেবে বাংলাদেশ সফর করেছেন একাধিকবার। তার ক্যারিয়ার রেকর্ডে তেমন বিতর্কও নেই। উল্টা-পাল্টা মন্তব্যও সচরাচর করেন না। সেই তিনিই কেন হঠাৎ করে এ ধরনের মন্তব্য করবেন, এটা অনেকের কাছেই বিস্ময়কর! ম্যাককালামের এমন আপত্তিকর মন্তব্যের মনস্তত্ব অনেক গভীরে।
নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের কুলীন দেশগুলোর অন্যতম। উপমহাদেশে ক্রিকেটের উত্থানের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই দেশটি। মূলত কিউই বাধা পেরিয়ে ক্রিকেট শক্তি হয়ে উঠেছে উপমহাদেশের দলগুলো। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার পর একই পথ অনুসরণ করে বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের অবস্থান জোরালো করেছে টাইগাররা। বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে অর্জনে নিউজিল্যান্ডকে পেছনে ফেলেছে ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। নিউজিল্যান্ড আজ অবধি নাগাল পায়নি বিশ্বকাপ শিরোপার। উপমহাদেশের তিন বিশ্বকাপজয়ীদের শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নেয়া ছাড়া কোনো উপায় নাই তাদের। টাইগারদের মতই শিরোপা অন্বেষণে কিউইরা। পার্থক্য বাংলাদেশের চেয়ে পাঁচটি বিশ্বকাপ বেশি খেলেছে নিউজিল্যান্ড। এদিকে গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড দ্বৈরথ ছড়াচ্ছে ভিন্ন উত্তাপ। এই দু’দলের ম্যাচ তৈরি করছে বাড়তি টেনশন। সব কথার এক কথা- হালের ক্রিকেটে বাংলাদেশ এখন নিউজিল্যান্ডের প্রেস্টিজ কনসার্ন।
উপমহাদেশের বাকি তিন প্রধানের মতই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অর্জনের সঙ্গে স্থায়ী হয়ে গেছে নিউজিল্যান্ডের নামও। এখন পর্যন্ত বৈশ্বিক আসরে টাইগারদের সবচেয়ে বড় অর্জন ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। ইংল্যান্ডে আয়োজিত এই আসরে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েই সেমিফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ। এর আগে বেশ কয়েকটা সিরিজে ঘরের মাঠে পরস্পরকে হারিয়েছে এই দুই দল। অর্থাৎ দু’দলের লড়াইয়ে ঘরের মাঠে যেমন বাংলাদেশ জিতেছে, তেমনি নিজের উঠোনে জিতেছে নিউজিল্যান্ড। নিরপেক্ষ ভেনুতে বাংলাদেশের কাছে হারটা নিউজিল্যান্ডের কাছে খুব বড় একটা সতর্কবার্তা।
ক্রিকেটে বাংলাদেশের বড় উত্থানটা এই নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েই। ২০১০ সালে ঘরের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজে নিউজিল্যান্ডকে ৪-০ ব্যবধানে হারিয়ে নতুন ক্রিকেট শক্তি হয়ে ওঠার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় টাইগাররা। এর আগ পর্যন্ত বড় দলগুলোর বিপক্ষে বাংলাদেশে সাফল্য ছিল একটা/দুইটা ম্যাচ। দ্বিপক্ষীয় সিরিজে ক্রিকেটের কুলীন দেশগুলোর বিপক্ষে জেতাটা কিউইদের হোয়াইট ওয়াশ করার মধ্য দিয়েই শুরু করেছে টাইগাররা।
উপমহাদেশে ক্রিকেটের সর্ব্বোচ্চ ধাপে পৌঁছানোর শেষ রণক্ষেত্র (লাস্ট ফ্রন্টিয়ের) যেন নিউজিল্যান্ড। ধরা যাক ১৯৯২-এর বিশ্বকাপের কথা। টানা সাত ম্যাচ জিতে শিরোপা জয়ের দাবিদার হয়ে উঠল নিউজিল্যান্ড। কিন্তু তাদের বাড়া ভাতে ছাই ঢেলে দিল চির আনপ্রেডিক্টেবল পাকিস্তান। দু’দফায় তারা হারল পাকিস্তানের কাছে। লিগ পর্বে তাদেরকে হারিয়ে কোনো রকমে টলতে টলতে সেমিফাইনালে উঠল পাকিস্তান। এরপর ফাইনালে ওঠার লড়াইয়েও তীরে এসে তরি ডুবল কিউইদের।
১৯৯০-এর মাঝামাঝি থেকেই তাদের সদর্প উত্থান জানান দিচ্ছিল লঙ্কান ক্রিকেট। কিন্তু কোনো কুলীন ক্রিকেট দলকে তাদের মাটিতে টেস্ট সিরিজ হারানোর কৃতিত্ব ছিল না শ্রীলঙ্কার। ১৯৯৫ সালে নিউজিল্যান্ড সফরে সেই অর্জন মুঠোবন্দী করল লঙ্কানরা। স্বাগতিক কিউইরা হারল টেস্ট সিরিজ। এরপর বাকিটা সবারই জানা। ১৯৯৬ সালে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের কাতারে নাম লেখাল শ্রীলঙ্কা। ১৯৯৯ থেকে ২০১১ এই সময়ে চার বিশ্বকাপের মধ্যে তিনবারই নিউজিল্যান্ড সেমিফাইনালে হেরেছে উপমহাদেশের বিপক্ষে। ২০০৭ ও ২০১১ আসরে পরপর দু’বার কিউইদের সেমিফাইনালে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে লঙ্কানরা। আর ১৯৯৯ সালে কিউইদের স্বপ্নযাত্রা থামিয়ে ফাইনাল খেলেছে পাকিস্তান। ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকেও উপমহাদেশের ক্রিকেটারদের বড় প্রাপ্তির সঙ্গে জড়িয়ে আছে কিউইরা। বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম হ্যাটট্রিকটি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। ১৯৮৭-এর বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করার গৌরব অর্জন করেন ভারতীয় পেসার চেতন শর্মা। এমনি অসংখ্য দৃষ্টান্ত দেয়া যায়।
ম্যাককালামের ক্যারিয়ার শুরুর সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ ছিল সবার সহজ শিকার। আর এখন টাইগাররা পরিণত হয়েছে শিকারীতে। এই সহজ সত্যটাকে সহজভাবে মানতে পারছেন না ম্যাককালামরা। তার চেয়েও বড় কথা, যাদেরকে নিয়ে মাত্র কয়েক বছর আগেও ইচ্ছাপূরণের খেলা করা যেত সেই দলটিই এখন তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ। আর এটা মানতে না পারার কষ্টবোধ থেকে এক সময়ের বিশ্ব মাতানো ব্যাটসম্যান ম্যাককালাম আর ম্যাককালাম থাকতে পারেননি, নেমে এসেছেন অন্ধ ভক্তের কাতারে।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৪ জুন ২০১৯/তারা

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন
       
Marcel Fridge