ঢাকা, রবিবার, ৭ আশ্বিন ১৪২৬, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন ও অভিন্ন নীতিমালা

মো. সাখাওয়াত হোসেন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৯-০৭ ৬:১১:৪০ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৯-০৭ ৬:১২:৫২ পিএম
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন ও অভিন্ন নীতিমালা

মো. সাখাওয়াত হোসেন : বাংলাদেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার নিমিত্তে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তদারককারী প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

প্রস্তাবিত নীতিমালার (অনলাইন থেকে প্রাপ্ত) দুই নম্বর অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে ‘অন্য কোনো বিধিমালা, আদেশ, নির্দেশ, পরিপত্র ইত্যাদিতে যাহা কিছু থাকুক না কেন, এই বিধিমালার বিধানসমূহ সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাইবে।’ তাহলে কি ১৯৭৩ এর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বাতিল হয়ে যাবে? প্রজ্ঞাপন আকারে প্রস্তাবিত নীতিমালা জারি হলে পূর্বের যেকোনো আইন/অধ্যাদেশ বাতিল হবার কথা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সম্মান, মর্যাদা, গুরুত্ব এবং দেশের প্রতি শিক্ষক সমাজের ভূমিকা ও দায়িত্ব; সর্বোপরি সব বিষয়ে সম্যক পর্যালোচনা করেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য স্বায়ত্তশাসনের নীতিমালা তৈরি করেছেন। বর্তমান নীতিমালা প্রণয়ন কমিটির কাছে জিজ্ঞাসা, কীসের ভিত্তিতে অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে? বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীন জ্ঞানচর্চার আঁধার, যেখানে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা, মুক্তচর্চা ও উন্মুক্ত জ্ঞানের বিকাশ ও পরিমার্জন হয়ে থাকে। সেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের অধিকাংশ শিক্ষকই প্রতিবাদলিপি দিয়েছে, মানববন্ধনও করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ যে পরিচালিত হচ্ছে, তাদের কি কোন নীতিমালা নেই, অবশ্যই রয়েছে, যদি নীতিমালা সংশোধন, সংযোজন, পরিমার্জন ও উন্নত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের সিনেট, সিন্ডিকেটে প্রস্তাব উত্থাপনের মাধ্যমে পাস করতে হবে এবং সেখানে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজের প্রত্যক্ষ প্রতিনিধিত্ব থাকবে। শিক্ষক সমাজের অংশগ্রহণ ব্যতিরেকে ইউজিসির অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন কোনোভাবেই যৌক্তিক হতে পারে না। কারণ যাদের জন্য নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে তারা যদি সে বিষয়ে জানতেই না পারেন তাহলে বোঝতে হবে বিষয়টিতে অবশ্যই গলদ রয়েছে। প্রশ্ন উঠতে পারে, ইউজিসির চেয়ারম্যানসহ সদস্যরা প্রত্যেকেই কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। তারাও তো শিক্ষকদের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন। প্রশ্নের উত্তর হতে পারে, যদি তারা সত্যিকার অর্থেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সার্বিক মঙ্গলের জন্য নীতিমালা প্রণয়ন করতে উদ্যোগী হন, তাহলে সেখানে অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতিনিধি রাখা বাঞ্ছনীয়।

ভিন্ন দৃষ্টিকোণ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করলে বলা যায়, শিক্ষকসমাজ খুবই খুশি এবং কৃতজ্ঞ হতো যদি বর্তমান ইউজিসির চেয়ারম্যান এবং সদস্যরা একটি নীতিমালা প্রণয়ন করতেন যার ভিত্তিতে ইউজিসির চেয়ারম্যান এবং সদস্যদের নিয়োগের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালার মাধ্যমে নিয়োগ সম্পন্ন করতে হতো। উদাহরণস্বরূপ, বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় হতে ডক্টরেট ডিগ্রি থাকতে হবে (প্রয়োজনে পোষ্ট-ডকের কথাও উল্লেখ রাখা যেতে পারে), প্রেস্টিজিয়াস জার্নালে আর্টিক্যাল প্রকাশিত হতে হবে (সেখানে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ থাকতে হবে), নিদেনপক্ষে কর্মজীবনে ৫-৭টি একাডেমিক বই থাকতে হবে এবং সেগুলো নামকরা প্রকাশনি হতে প্রকাশ হতে হবে। এ বিষয়গুলো উল্লেখ থাকলেও এমন নামকরা অধ্যাপক বাংলাদেশে অবশ্যই রয়েছে এবং তাদের মধ্য থেকেই ইউজিসির চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়োগ চূড়ান্ত হলে মনে হয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার উন্নত পরিবেশ ও সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব হবে।  

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে কখনোই সুনির্দিষ্ট কর্মঘণ্টার আওতায় এনে নীতিমালা তৈরিকরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান নীতিমালার সাথে সাংঘর্ষিক,  অসামঞ্জস্যপূর্ণ  এবং নীতি বিবর্জিত। শিক্ষকতার সঙ্গে সঙ্গে একজন শিক্ষককে বহুমুখী কাজ সম্পাদন করতে হয়। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি গবেষণা, প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন, শিক্ষার্থীদের নানাবিধ বিষয়ে কাউন্সেলিং করা, বিভিন্ন সংস্থা, প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান এবং পত্রিকার মতামত বিভাগেও সুচিন্তিত ভাবনা প্রসূত সৃজন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করতে হয়। সে হিসেবে কর্মঘণ্টা বেঁধে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে কোন ক্যাটাগরিতে অবস্থানের জন্য বলা হবে বিষয়টা কোনভাবেই বোঝা যাচ্ছে না এবং সেটি অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা পেশার সাথে মানানসই নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা স্বাধীন, নিজস্ব বিবেকের তাড়নায় তিনি তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে সম্পন্ন করেন। সুনির্দিষ্ট নীতিমালা এখনো প্রকাশিত হয়নি এবং নীতিমালা প্রণয়ন কমিটির একজন সম্মানিত সদস্য বলেছেন নীতিমালায় কি আছে সেটা তিনি ছাড়া আর কেউ জানেন না।

এটা কেমন কথা? নীতিমালা হয় প্রচলিত নীতিমালাকে আরো উন্নত করার জন্য, যুগোপযোগী করার জন্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য নীতিমালা তৈরি করতে হবে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশের জন্য উপযুক্ত করেই এবং নীতিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি আধুনিক সকল সুযোগ সুবিধার সমন্বয় করা উচিত উক্ত কমিউনিটির জন্য। অথচ নীতিমালা যাদের জন্য প্রণয়ন করা হচ্ছে তারা সে সম্বন্ধে সামান্য পরিমাণে অবগত নয় এবং প্রকৃত অর্থে নীতিমালায় কি কি বিষয় সংযোজন করা হচ্ছে সে বিষয়েও ওয়াকিবহাল নয় (নীতিমালাটি এখনো প্রকাশিত হয় না, বিভিন্ন মাধ্যমে প্রস্তাবিত নীতিমালার সারসংক্ষেপ পাওয়া গেছে)। তাহলে বিষয়টা কি দাঁড়াল? যে নীতিমালাটির খসড়া তৈরি করা হয়েছে সেটি কোনক্রমেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য উপযুক্ত হবে না, যদি উপযুক্ত এবং ন্যায়সঙ্গত হতো তাহলে অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথিতযশা অধ্যাপকদের মতামত নিয়েই যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আলোচনা সমালোচনার ভিত্তিতে নীতিমালা প্রস্তুত করা হতো।

বাংলাদেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি প্রস্তাবিত নীতিমালা  প্রত্যাখান করেছে এবং কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকায় মানববন্ধন হয়েছে। এছাড়া অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসমাজ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে প্রস্তাবিত নীতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন।

বাংলাদেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো এসএসসি ও এইচএসসিতে  সর্বসাকূল্যে ৬.৫ কিংবা ৭ পয়েন্ট পেলে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করে থাকে। এসব শিক্ষার্থীরা যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের নিজ নিজ বিভাগে প্রথম কিংবা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এবং গবেষণায় বিশেষত্ব দেখাতে সক্ষম হয় তাহলে কি তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় পেশায় আসতে পারবে না। বর্তমান প্রস্তাবিত নীতিমালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে হলে এসএসসি এবং এইচএসসিতে ৫ এর স্কেলে আলাদাভাবে ৪.৫ থাকতে হবে। বিশ্বের কোন দেশেই বাংলাদেশ ব্যতিত এমন নীতিমালা গ্রহণ করা হয়নি যেখানে এসএসসি ও এইচএসসি পর্যায়ের ফলাফল সুনির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়ে থাকে। এর মানে দাঁড়ালো; আপনি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে একাডেমিক রেজাল্ট ও গবেষণায় যতই চাতুর্য দেখান না কেন; আপনার মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফল ভাল না থাকলে আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা পেশায় সুযোগ হারাবেন। কাজেই, নীতিমালা প্রণয়নের পূর্বে বিষয়টা কতটুকু যৌক্তিক সেটি আমলে নিতে হবে। কেননা আপনি যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ দিচ্ছেন তারা কেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে পারবে না?

পৃথিবীব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং দেওয়ার পরে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবনমনের চিত্র দেখে অনেকেই হতাশ হন। এই বুঝি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো রসাতলে গেল, কিন্তু প্রকৃত চিত্র কি আসলেই তাই? বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র‌্যাংকিং কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বহির্বিশ্বে বৃদ্ধি করবার জন্য গবেষণার কোন বিকল্প নেই। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাজেট পেশ করার সময় দেখা যায়, গবেষণার জন্য বাজেট রাখা হয় ন্যূনতম পরিমাণে। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গবেষণার জন্য সুযোগ সুবিধা দেয়া হচ্ছে না, সেখানে র‌্যাংকিং নিয়ে আমরা শিক্ষকদের দোষারোপ করতে দ্বিধাবোধ করি না। কিন্তু এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী পৃথিবীব্যাপী প্রথিতযশা বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃত্তি পেয়ে মাস্টার্স, পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করে আসছেন এবং সেখানে অবস্থান করার সময়ে বিশ্বব্যাপী সব নামকরা জার্নালে তাদের গবেষণাপত্র ছাপায় এবং তাতে নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধি পায়। কিন্তু ঐ সকল শিক্ষকেরাই যখন বাংলাদেশে চলে আসেন উপযুক্ত পরিবেশ এবং অর্থের সংকটের কারণে, ল্যাবরেটরি সুবিধার অভাবে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনায় ঘাটতি চলে আসে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় অনেকেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।

সরকারিভাবে পিএইচডির সুবিধা থাকলেও সেটা সরকারি কর্মকর্তারাই বেশিরভাগ পেয়ে থাকেন, বিদেশে উচ্চ শিক্ষার জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের বিশেষ সুবিধা ও বরাদ্দ প্রদান করা হয়ে থাকে। বিপরীতদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিজেরাই খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃত্তির ব্যবস্থা করে উচ্চতর ডিগ্রি সম্পন্ন করে থাকেন সেখানে সরকারের ভূমিকা থাকে না (বৃত্তি ব্যবস্থা করে দেওয়ার ক্ষেত্রে)। অথচ সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য গৃহ লোন (৫% সুদে সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা পর্যন্ত), বিনা সুদে গাড়ি লোন, গাড়ি ব্যবস্থাপনা খরচ মাসিক প্রায় ৫০০০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সেদিক থেকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নানাভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন। শিক্ষকদের জন্য উল্লেখিত সুবিধাসমেত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি করার জন্য, যেই গবেষণা কর্মের ভিত্তিতে বাংলাদেশের সুনাম ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির স্বরূপ প্রতিফলিত হবে। গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির জন্য কার্যত কোন ব্যবস্থা হয়নি। শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি স্বতন্ত্র পে স্কেলের, অথচ সেই দাবিটির পক্ষে ভূমিকা এখনো চোখে পড়েনি। ২০১৫ সালে অষ্টম পে স্কেল ঘোষণার মাধ্যমে শিক্ষকদের মর্যাদাকে প্রকারান্তরে অবনমন ঘটানো হয়েছে। যেখানে অধ্যাপকরা জাতীয় বেতন স্কেলের ২য় গ্রেডে অবস্থান করতেন সেখানে ২০১৫ সালের পে স্কেল ঘোষণার পরে অধ্যাপকরা সর্বোচ্চ ৩য় গ্রেডে অবস্থান করতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগদানের সঙ্গে সঙ্গে এসএসসি, এইচএসসি, অনার্স এবং মাস্টার্স পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণি (সমমান সিজিপিএ) থাকলে শিক্ষকদের ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হতো, অষ্টম পে স্কেল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সেটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়। শিক্ষকদের মর্যাদাকে অবনমন করা হয়েছে এবং মর্যাদার অবনমন নিয়েই শিক্ষকসমাজ নানাভাবে ভূমিকা রেখে চলেছেন নিরলসভাবে।

পরিশেষে বলতে চাই, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। যেমন: স্বতন্ত্র পে স্কেল প্রণয়ন, গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি, জাতীয় গ্রেডে শিক্ষকদের বিশেষ মর্যাদা ও উন্নতিসহ  শিক্ষকদের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি এবং পড়াশোনার ইতিবাচক পরিবেশ তৈরিতে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখবে। সেখানে অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সার্বিক পরিস্থিতির অবনমন কোনক্রমেই কাম্য নয়।

লেখক: প্রভাষক, ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯/সাইফ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন