ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২১ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

মনিপুরের স্বাধীনতা ঘোষণা ও ভারত-পাকিস্তানের রাজনীতি

দীপংকর গৌতম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১১-০১ ২:২৫:০৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১১-০৮ ৪:২৯:১৮ পিএম

জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা রদের সিদ্ধান্তে ওই অঞ্চলে চলমান সঙ্কট মোকাবিলায় ভারত যখন হিমশিম খাচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো মূর্তিমান একের পর এক স্বাধীনতা আন্দোলন গড়ে উঠছে ভারত নামের এই বিশাল দেশটিতে। এসব আন্দোলন যে নতুন করে গড়ে উঠছে তা নয়। বিভিন্ন সময় ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে কিন্তু ভারত সরকার সেসব আন্দোলনকে স্তিমিত করেছে বিভিন্ন কৌশলে। ভারতের রাজনীতিতে যে শক্তি তাদের অখণ্ড ভারত রাখতে সহায়তা করে, তা হলো ভারতের জনগণ ও রাজনৈতিক নেতা। ভারতের রাজনৈতিক নেতারা যে  মতাদর্শেরই হোক তারা্ দেশপ্রেমিক ও অখণ্ড ভারত চায়। এই একটি জায়গায় তারা সবাই এক। এই শক্তি যে কোন মারণাস্ত্রের চেয়েও শক্তিশালী।

একই মানসিকতা সেখানে আমজনতার। ভারতের জনগণ এতোটাই দেশপ্রেমিক তারা নিজেদের দেশের পণ্য ছাড়া অন্য দেশের পণ্য ব্যবহারে আগ্রহী না; কিনতে চায়ই না। এই শক্তি ভারতে পণ্যের বাজার শক্তিশালী করেছে। পণ্যের বাজার শক্তিশালী করা মানে বাজার অর্থনীতিতে তাকে খুব বেশি চীনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে না। তবে রাজনীতিতে চীন পাকিস্তানের সম্মিলন ভারতকে বারবার বিভিন্ন সংকটে ফেললেও ভারতের রাজনৈতিক কৌশল সেখান থেকে উতরে গেছে। এসব ক্ষেত্রে একের পর এক বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন তৈরি হয়েছে, ভারতকে তা মোকাবেলা করতে হয়েছে। প্রথমে এক্ষেত্রে স্বাধীন খালিস্তান রাষ্ট্রের কথা বলা যেতে পারে। শিখ নেতা ভিন্দ্রানেওয়ালের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এ আন্দোলন গত শতকের সত্তর ও আশির দশকে তুঙ্গে উঠেছিল। স্বর্ণমন্দির অপরেশনের জের হিসাবে ১৯৮৪ সালে বিচ্ছিন্নতাবাদী শিখরাই ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ওপর গুপ্তহত্যা চালায়। এছাড়া সে সময় আয়ারল্যান্ড উপকূলে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি প্লেন বিধ্বস্ত করে তারা। ওই ঘটনায় যাত্রী ও ক্রুসহ ৩২৯ জন নিহত হন। পরে ৯০-এর দশকে ভারত সরকারের ব্যাপক পুলিশি অভিযান, ধরপাকড় ও জনসমর্থন হারানোর ফলে স্তিমিত হয়ে পড়ে স্বাধীন খালিস্তান আন্দোলন। কিন্তু কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা রদের ঘটনায় উদ্ভূত পরিস্থিতির সুযোগে পাকিস্তানের পৃষ্ঠপোষকতায় আবারও বিচ্ছন্নতাবাদী শিখদের ওই আন্দোলন দানা বাঁধছে বলে আশঙ্কা ভারতের।

এরই মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে স্বাধীনতাকামী শিখ প্রতিনিধিরা পুনরায় খালিস্তান আন্দোলনের ছাইচাপা আগুন জ্বালাবার চেষ্টা করছে। কাশ্মীর ইস্যুতে বিশেষ সুবিধা করতে না পারার ফলেই পাকিস্তান এবার নিজেদের সীমান্তঘেঁষা পাঞ্জাবকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ ভারতের বিভিন্ন মহলের। এরপরই আসে গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের কথা সুভাষ ঘিষিংয়ের নেতৃত্বে, যা দার্জিলিং পাহাড় এবং পাহাড়ি জনগোষ্ঠী এবং পশ্চিমবঙ্গের ডুয়ার্সের ভারতীয় গোর্খা জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন থেকে জাতিগত-ভাষাগত অধিকারের ভিত্তিতে দাবি করে আসছেন। গোর্খা ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট (১৯৮৬-১৯৮৮) এবং গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার (২০০৭–বর্তমান) অধীনে গোর্খাল্যান্ডের জন্য দুটি বৃহৎ আন্দোলন গড়ে ওঠে বেশ আগেই।

১৯৪৭ সালে অবিভক্ত ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই) সাংবিধানিক কমিটির কাছে দার্জিলিং জেলা, সিকিম ও নেপালের সমন্বয়ে গোর্খাস্থান গঠনের দাবিতে একটি স্মারকলিপি পেশ করে, যার কপি দেওয়া হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপ-রাষ্ট্রপতি জওহরলাল নেহেরু এবং অর্থমন্ত্রী লিয়াকত আলি খানকে। স্বাধীন ভারতে এই অঞ্চলে অখিল ভারতীয় গোর্খা লিগ (ABGL) প্রথম রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে যারা এই সম্প্রদায়ের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং নৃতাত্ত্বিক পরিচয়ের দাবিকে সমর্থন করে। ১৯৫২ সালে এনবি গুরুং এর নেতৃত্বে দলটি ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর সাথে কালিম্পংয়ে সাক্ষাৎ করে এবং বাংলা থেকে পৃথক হওয়ার দাবি জানায়।১৯৮০ সালে ইন্দ্র বাহাদুর রাইয়ের নেতৃত্বে দার্জিলিংয়ের প্রান্ত পরিষদ তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে দার্জিলিংয়ে নতুন রাজ্য প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা লিখে পাঠায়। এসব আন্দোলন পত্র-পল্লবে বিকশিত হয় ১৯৮৬ সালে। গোর্খাল্যান্ডের জন্য পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে সুভাষ ঘিসিং এর নেতৃত্বে গোর্খা ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট (GNLF) সহিংস আন্দোলন শুরু করেছিলো। যার ফলে ১৯৮৮ সালে দার্জিলিং জেলার নির্দিষ্ট এলাকা শাসনের জন্য দার্জিলিং গুর্খা হিল কাউন্সিল (DGHC) নামে একটি আধাস্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান গঠন করা হয়।

২০১১ সালে জিজেএম রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে যার অধীনে DGHC এর পরিবর্তে গোর্খাল্যান্ড আঞ্চলিক প্রশাসন নামে একটি আধাস্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান গঠিত হবে। সম্প্রতি দার্জিলিং আবার অশান্ত হলে ভারত সরকার তা শান্ত করে রাজনৈতিক আলোচনার ভিত্তিতে। এরপর আরেক আন্দোলন ভারতকে উত্তপ্ত করে তোলে যা  মোদি সরকারের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের সময় গত ১৫ আগস্ট মনিপুর রাজ্যে নাগা জাতীয় পতাকা উড়তে দেখা গেছে। বিশেষ করে রাজ্যটি থেকে কয়েক হাজার নাগা জনগোষ্ঠীর মানুষ একত্রিত হয়ে ‘নাগা স্বাধীনতা দিবস’ পালন করে। এ ঘটনায় ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যটি আবারো অশান্ত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে নাগাল্যান্ড, মনিপুর, অরুণাচল প্রদেশ, মিজোরাম, আসাম ও মিয়ানমারের বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিয়ে নাগা স্বাধীনভূমি বা ‘নাগালিম’ গড়ার ডাক দিয়ে আসছে সেখানকার বাসিন্দারা। নাগা বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন এনএসসিএন এই দাবিতে অনেক দিন ধরেই সহিংস আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। সংগঠনটি দুই ভাগ হয়ে যাওয়ার পর মুইভা গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। ফলে বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা ছাড়া আপাতত শান্ত নাগাল্যান্ড। কিন্তু পতাকা উত্তোলনে আবারো উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এবার শেষ বোমাটি ফাটিয়েছে ৭ কন্যার সবচেয়ে ছোট মনিপুর রাজ্য।

মিয়ানমার সীমান্তবর্তী রাজ্যটির জনসংখ্যা ২৮ লাখ। ভারতের স্বাধীনতা লাভের দুই বছর পর ১৯৪৯ সালে মনিপুর ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়। তবে বহু বছর ধরেই রাজ্যটিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা চলছে। গত বুধবার স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মনিপুরের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। লন্ডনে একটি প্রবাসী সরকারও গঠন করেছে তারা। দীর্ঘদিন ধরেই ভারত থেকে আলাদা হওয়ার সংগ্রাম করে আসছে মনিপুর রাজ্য। আলজাজিরা জানিয়েছে, লন্ডনে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বঘোষিত মনিপুর স্টেট কাউন্সিলের পররাষ্ট্র মন্ত্রী নারেংবাম সমরজিত বলেন, লন্ডনে বসেই প্রবাসী সরকার মনিপুরের স্বীকৃতি আদায়ে জাতিসঙ্ঘে তৎপরতা চালাবে। তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে বসেই প্রবাসী সরকারের কার্যক্রম চালাবো। এসময় তিনি মনিপুরের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, আমরা বিভিন্ন দেশের স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টা করবো। জাতিসঙ্ঘের সদস্য পদ পেতেও চেষ্টা করা হবে। আশা করছি অনেক দেশই আমাদের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেবে।’

তবে গত বুধবার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় রাজ্যের রাজা লেইশেম্বা বলেন, লন্ডনে ইয়ামবিন বিরেন এবং নরেংবাম সমরজিৎদের অনুরোধে কিছু কাগজে স্বাক্ষর করেছিলেন তিনি। লন্ডনে কিছু ঐতিহাসিক দলিল ও ছবি নিয়ে গবেষণার জন্য ওই কাগজে রাজার স্বাক্ষর দরকার বলে তার সই নেয়া হয়েছিল। ১৯৪৭ সালে যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে ভারতের স্বাধীনতা লাভের সময় মনিপুর ছিল প্রিন্সলি স্টেট বা রাজা শাসিত স্বতন্ত্র অঞ্চল। এর দুই বছরের মাথায় ১৯৪৯ সালে অঞ্চলটি ভারতের নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে তখন থেকেই স্বাধীনতার দাবিতে সেখানে আন্দোলন চলছে। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার ‘প্রবাসী মনিপুর সরকার’ গঠনের ঘোষণা আসে।

ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের বরাত দিয়ে দেশটির ইংরেজি দৈনিক হিন্দুস্তান টাইমস এক রিপোর্টে বলেছে, এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে লন্ডনের ভারতীয় হাইকমিশনের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নবগঠিত সরকারের মুখ্যমন্ত্রী ইয়ামবেন বিরেন। তারা বলেন, ভারতের দমন-নিপীড়ন থেকে বাঁচতে তারা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ব্রিটেনের কাছে আশ্রয় চেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন তারা। তারা জানিয়েছেন যে, ভারতে থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিলে তারা হয়তো গ্রেফতার হতে পারেন অথবা ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের হত্যা করতে পারে। মনিপুরের এই নেতারা বলেন, মনিপুরে গত ১০ বছরে অন্যায়ভাবে প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া আরও দেড় হাজারের বেশি মানুষকে অবৈধভাবে বন্দী করা হয়েছে। গত কয়েক দশকে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।

অথচ যে রাজার নাম করে ভারত থেকে মনিপুর রাজ্যকে স্বাধীন বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে সেই রাজা এই বিষয়ে কিছু জানেন না এবং এমন ঘোষণায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেছেন! ২৯ অক্টোবর, মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যে বসে মনিপুরের দুই নেতা তাদের রাজা লেইশেম্বা সানাজাওবার ‘পক্ষ থেকে’ স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেও এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে নিজের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছেন তিনি।  ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস এ খবর দিয়েছে। কিন্তু এই স্বাধীনতা ঘোষণার কোন প্রতিক্রিয়া যেমন মনিপুর বা ইমফলের কোথাও নেই কিংবা ভারত সরকারও এ ব্যাপারে কোন কথা বলেনি। অন্যদিকে বিশেষজ্ঞদের ধারণা মিয়ানমার সীমান্তে মনিপুরকে অস্থিতিশীল করতে পাকিস্তানের কোন মিত্র শক্তি পেছনে থেকে কাজটি করতে পারে। কারণ পাকিস্তানকে বিশ্বের কাছে সন্ত্রাসী মদদদাতা রাষ্ট্র হিসাবে পরিচিত করতে ভারতের পররাষ্ট্র নীতি কাজ করছে। এবং এ ব্যাপারে পাকিস্তান বরাবরই খুব ক্ষিপ্ত। তারা ভারতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের আহ্বান অগ্রাহ্য করে সম্প্রতি তাদের আকাশপথ বন্ধ  রেখেছে। ইতিপূর্বে তারা ক্ষোভ জানিয়েছিল বেলুচিস্তানের স্বাধীনতা সংগ্রামে আফগানিস্তানের মাধ্যমে ভারত মদদ দেয়। কিন্তু এ অভিযোগ হালে পানি পায়নি। তারা আবার সোচ্চার হয়েছিল ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে কেন্দ্রীয় শাসন চালুর বিরুদ্ধে। তারা জাতিসংঘে এ ব্যাপারে নালিশ করেছিল। কিন্তু এখন ঘটনা ঘটলো উল্টো। খোদ পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীর বেলুচিন্তানের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে একাত্ম হতে চায়। গত ২৯ অক্টোবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের তথ্য মতে, পাকিস্তান অধিকৃত আজাদ কাশ্মীরের স্বাধীনতার দাবিতে এদিন বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে মুজফফরবাদের রাজপথ। মঙ্গলবার কাশ্মীরের পরিস্থিতি দেখতে শ্রীনগর পৌঁছেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পার্লামেন্ট সদস্যদের একটি প্রতিনিধি দল। সেই সফরের কয়েক ঘণ্টা আগেই বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মুজফফরবাদ।

পাক সংবাদ মাধ্যম ওই বিক্ষোভ নিয়ে নীরব থাকলেও, পাক অধিকৃত কাশ্মীর থেকে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় সোমবারের বিক্ষোভের বিভিন্ন ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ করা হয়। সেই ভিডিওতে দেখা যায়— আজাদ কাশ্মীরের সার্বভৌমত্বের দাবিতে মুজফফরবাদ, রাওয়ালকোটসহ আরও বেশ কয়েকটি ছোট-বড় শহরের রাস্তায় নেমে এসেছে হাজার হাজার মানুষ। এ সময় তারা ইমরান খান সরকারের বিরুদ্ধে এবং পাক আধিপত্য থেকে আজাদ কাশ্মীরের মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় কাশ্মীরবাসীর এই দাবিকে সমর্থন জানিয়ে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বিভিন্ন সংগঠন এবং রাজনৈতিক দল ওই প্রতিবাদ এবং বিক্ষোভে শামিল হয়। বিক্ষোভ কর্মসূচী শেষে আয়োজিত এক জনসমাবেশে ভাষণ প্রদানকালে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের রাজনৈতিক দল জম্মু কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্টের নেতা সর্দার সাঘির বলেন, ‘এই প্রতিবাদ আরও তীব্র করে তুলতে হবে। পাক অধিকৃত কাশ্মীর এবং গিলগিট-বালটিস্তানকে নিয়ে স্বাধীন এবং সার্বভৌম দেশ চাই আমরা। সাত দশক ধরে চলমান পাকিস্তানের এই অপশাসন, অত্যাচার এবং দমন থেকে আমরা মুক্তি চাই।’

পাকিস্তান সব সময়ই আক্রোশী ও আক্রমণাত্মক। মনিপুরের স্বাধীনতা সংগ্রামে মদদ কি পাকিস্তানের এমন বৈশিষ্ট্যের অংশ? আমরা যেকোন অঞ্চলের স্বাধীনতাকামী মানুষের পক্ষে যদি সেটা কোন দেশ বা এজেন্সীর মদদ বা কূটকৌশল না হয়।

 

লেখক: সাংবাদিক, প্রাবন্ধিক

 

ঢাকা/তারা

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন