ঢাকা, সোমবার, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬, ২২ জুলাই ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

‘বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত মোশতাক, তার দোসর জিয়া’

নৃপেন রায় : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৭-০৮-১৬ ৯:০৯:৫০ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৮-১৬ ৯:১৭:০০ পিএম
‘বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত মোশতাক, তার দোসর জিয়া’
Voice Control HD Smart LED

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিযোগ করেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ। তার দোসর ছিলেন জিয়াউর রহমান।

বুধবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।

বঙ্গবন্ধুর মহান আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণের দুর্ভাগ্য- এই দেশে মানুষের কল্যাণে যে কাজ করে, তাকেই জীবনে চরম খেসারত দিতে হয়।’

১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ফলে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ে, এ দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে মনে হতো, মুক্তিযুদ্ধ করাটাই যেন একটা অপরাধ ছিল। দেশের স্বাধীনতা আনাটাই যেন একটা অপরাধ ছিল।’

সে সময় অতি সূক্ষ্মভাবে জাতির পিতার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হয়েছিল, এ অভিযোগ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা ২৭ মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তানি শাসকের চাকরি করেছেন, তাদেরকেই স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে ঘোষণা দেওয়া থেকে শুরু করে নানারকম মিথ্যাচারে দেশ ভরে গিয়েছিল।’

তিনি আরো বলেন, ‘খুনি মোশতাক অবৈধভাবে নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করে। আর জিয়াউর রহমানকে সেনাপ্রধান করে। জিয়া তার কতটা ঘনিষ্ঠ ছিল, তাকেই সেনাপ্রধান হিসেবে সঙ্গে সঙ্গে নিয়োগ দেয়।’

‘এই হত্যাকাণ্ড শুধু একটা হত্যাকাণ্ড নয়। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি, সেই রাজকার, আল বদর, আল শামস বাহিনী, যারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসর হিসেবে পথ চিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিল, যারা হানাদার বাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে জড়িত ছিল, সেই ১৫ আগস্টের পরে তারাই কিন্তু ক্ষমতায় এসেছিল,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, ‘ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করে খুনিদের বিচারের হাত থেকে রেহাই দিয়ে, বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছিল জিয়াউর রহমান। আর যে সমস্ত যুদ্ধাপরাধীর বিচার জাতির পিতা শুরু করেছিলেন, অনেকের সাজা হয়ে গিয়েছিল, অনেকে পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে পাকিস্তানেই থেকে গিয়েছিল; অবৈধভাবে ক্ষমতা নেওয়ার পরে তাদের বিচার বন্ধ করে দিয়েছিল। একাধারে রাষ্ট্রপতি, সেনাপ্রধান এবং চিফ মার্শাল ল অ্যাডমিনিস্ট্রেটর- এই তিন ক্ষমতা নিয়ে জিয়া ক্ষমতায় বসে যুদ্ধাপরাধীর বিচার বন্ধ করে এবং কারাগারে বন্দি থাকাদের মুক্তি দিয়ে ক্ষমতায় বসায়। শুধু জাতির পিতার খুনিদের পুরস্কৃত করা নয়, বারবার এই পুরস্কারের খেলা আমি দেখেছি। কেউ খুনিদেরকে দিয়ে সংগঠন খুলেছে।’

প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন খুনি হুদা ও শাহরিয়ারকে নিয়ে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করে। ওই খুনিদের নিয়ে সে রাজনীতি শুরু করে। ইত্তেফাকে বসে এই মঈনুল হোসেন ওই খুনিদের দিয়ে রাজনৈতিক সংগঠন করেছিল। জেনারেল এরশাদও খুনি রশীদ-ফারুককে দিয়ে রাজনৈতিক সংগঠন করেছিল। ওই খুনি ফারুক-রশীদকে দিয়ে ফ্রিডম পার্টি তৈরি করে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করেছিল। খালেদা জিয়া ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচন করে খুনি রশীদ-মেজর হুদাকে জাতীয় সংসদের সদস্য করে বিরোধী দলের চেয়ারে বসিয়েছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে কোনো হত্যা হলে সবাই সোচ্চার হয় বিচারের জন্য। কেউ তো এ কথা বলেন না, যে খুনিরা জাতির পিতাকে হত্যা করেছে, আমার মাকে যারা হত্যা করেছে, ওই শিশুদের হত্যা করেছে, তাদেরকে যারা এইভাবে পুরস্কৃত করেছিল, অপরাধকে যারা পুরস্কৃত করে তাদের প্রতি জাতির ঘৃণা থাকবে না? তাদেরকে কি মানুষ ঘৃণা করবে না? তারাই কি এই দেশে রাজনীতিতে নেতৃত্ব দেবে, তারাই ক্ষমতায় যাবে, আর তাদেরকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য বারবার চক্রান্ত হবে, কেন?’

তিনি বলেন, ‘আমি আজকে ক্ষমতায় আছি। আমার কাছে সবাই বিচার চায়। তখন তো আমার মনে এই কথাটা আসে, আমি তো বিচার চাইতে পারিনি। এমনকি বিচার চাওয়ার অধিকারটাই ছিল না। আমরা বাংলাদেশে আসতে পারিনি। আসতে দেওয়া হতো না। রেহানা লন্ডনে ছিল। তার পাসপোর্টের সময় শেষ হয়েছিল। তার পাসপোর্ট জিয়াউর রহমান রিনিউ করতে দেয় নাই।’

তিনি আরো বলেন, ‘জিয়াউর রহমান যদি দোষী না হতো, যদি খুনের সাথে জড়িত না থাকত, তা হলে নিশ্চয়ই সে তদন্ত করতে দিত। কিন্তু সে ব্রিটিশ এমপিদের বাংলাদেশে আসতে দিল না বা তদন্ত করতেও দিল না।’

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় ঘোষণার দিন বিএনপির হরতহাল আহ্বান করার বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিচারের রায় যেদিন ঘোষণা হবে, সেই দিন বিএনপি হরতাল ডেকেছিল। যেন জজ সাহেব কোর্টে যেতে না পারে, রায় ঘোষণা করতে না পারে। কেন বিএনপি সংগঠন হিসেবে ওই দিনটাতে হরতাল দিল আর রায় ঘোষণায় বাধা দিল, যদি তারা অপরাধী না হবে?’

আলোচনা সভায় সূচনা বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। যৌথভাবে সভা পরিচালনা করেন দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এবং উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।

সভায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য সিমিন হোসেন রিমি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, আতাউর রহমান ও আবেদ খান।

শোকাবহ ১৫ আগস্ট নিয়ে কবিতা আবৃত্তি করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৬ আগস্ট ২০১৭/নৃপেন/রফিক

Walton AC
ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন
       

Walton AC
Marcel Fridge