ঢাকা, সোমবার, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬, ১৪ অক্টোবর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

শিবির করলেও কাউকে হত‌্যা করা যায় না: ছাত্র ফ্রন্ট

নিউজ ডেস্ক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১০-০৭ ১০:০৮:৪৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১০-০৭ ১১:৪৩:৩২ পিএম

কেউ ছাত্রশিবির করলেও তাকে হত‌্যার অধিকার ছাত্রলীগের নেই বলে সুস্পষ্ঠ অবস্থান নিয়ে বুয়েটের ফাহাদ হত‌্যার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট।

বাসদের (মার্কসবাদী) ছাত্র সংগঠন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি মাসুদ রানা ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদ শাহরিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, বুয়েট ছাত্র আবরারকে যেভাবে পিটিয়ে মারা হল তা এক কথায় নৃশংস। ছাত্রলীগ আজ প্রতিটি ক্যাম্পাসে দখলদারিত্ব ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে সকল রকম মতপ্রকাশ ও গণতান্ত্রিক অধিকারকে দমন করছে।

প্রগতিশীল ছাত্রজোটের অন‌্যতম এই দুই নেতা বলেন, অবৈধভাবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন হওয়ায় তাদের এসকল কর্মকাণ্ডের কোন বিচার নেই। থানার অফিসার থেকে শুরু করে মন্ত্রী পর্যন্ত সকলেই তাদের পক্ষে দাঁড়িয়ে আছে। তারা এই অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ দমন করার লাঠিয়াল বাহিনী। ফলে আবরার যখন ভারতের সাথে দেশবিরোধী চুক্তির প্রতিবাদ করে লেখে, তখন তাকে হলের রুমে ডেকে নিয়ে গিয়ে বর্বরভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হলো।

বামছাত্র সংগঠনের বিবৃতিতে আরো বলা হয়, এখন এই হত্যাকে জায়েজ করার জন্য তার উপর শিবিরের তকমা লাগানো হচ্ছে। যেন কেউ শিবির করলেই তাকে হত্যা করা যায়। শিবির সাম্প্রদায়িক শক্তি ঠিক, কিন্তু তাই বলে তাদেরকে পিটিয়ে হত্যা করার অধিকার ছাত্রলীগকে কেউ দেয়নি। এমনকি শিবিরের বিরুদ্ধে কথা বলার নৈতিক অধিকারও ছাত্রলীগের নেই। এই আওয়ামী লীগই শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গড়ে উঠা ঘাতক-দালালবিরোধী আন্দোলনকে পেছন থেকে ছুরি মেরেছে। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় বসার জন্য জামায়াতের সাথে কৌশলগত ঐক্য করেছে। গোটা দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িকতার প্রচার ও প্রসারের জন্য আওয়ামী লীগের মতো অর্থ ও রাষ্ট্রীয় সুবিধা আর কোন সরকার দেয়নি।

পত্রিকায় এসেছে শেরে বাংলা হলের ২০১১ নম্বর রুম ছাত্রলীগের টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এ ধরনের অসংখ্য টর্চার সেল সারাদেশের ক্যাম্পাসগুলোতে ছড়িয়ে আছে। কেউ ছাত্রলীগের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বললে তাকে নির্যাতন করা হচ্ছে, হত্যা করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের নেতারা, রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত মন্ত্রী-এমপিরা এদেরকে এলাকা নিয়ন্ত্রণের জন্য কাজে লাগাচ্ছেন।

ছাত্রলীগ ও যুবলীগ মিলে গোটা দেশের মাদকের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে। আজ ক্যাম্পাসের হলে হলে মাদকের গোডাউন, গাঁজাখোরদের আড্ডা। এর সম্পূর্ণ ক্রেডিট ছাত্রলীগের।

বিবৃতিতে এই দুই ছাত্রনেতা বলেন, ‘আমরা এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা এই নৃশংসতার প্রতিবাদ করি। এ দেশের ছাত্রসমাজ পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর নৃশংসতার বিরুদ্ধে লড়েছিল। স্বাধীন দেশে এর চেয়েও বর্বর জন্ম নেবে তা হয়তো কেউ ভাবতেও পারেনি। আবরারের হত্যার বিচার একমাত্র তখনই হতে পারে, যখন ছাত্রসমাজ প্রবল আন্দোলনের মুখে রাষ্ট্রকে এর বিচারের জন্য বাধ্য করবে। নতুবা আগের অনেক হত্যাকাণ্ডের মতোই এটিও একসময় হারিয়ে যাবে। সেই লড়াই গড়ে তোলার জন্য ছাত্রসমাজকে আমরা আহবান জানাই।’


ঢাকা/নিউজ ডেস্ক/সাজেদ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন