ঢাকা, বুধবার, ৫ ফাল্গুন ১৪২৬, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

হামলার নির্দেশদাতাদের বিচার হওয়া উচিত: তথ্যমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০১-২১ ৪:২২:০৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০১-২১ ৫:৫৫:১৮ পিএম

চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা হত্যা প্রচেষ্টা ও সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলার নির্দেশদাতাদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ দাবি করেন। এ সময় তথ্যসচিব কামরুন্নাহারসহ সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ৩২ বছর পর চট্টগ্রামে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার প্রচেষ্টা মামলার রায় হয়েছে, এতে আমরা সন্তুষ্ট। কিন্তু আমি মনে করি, এই গণহত্যা চালানোর জন্য ঢাকা থেকে যারা নির্দেশ দিয়েছিল, তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ১৯ বছর আগে সিপিবির সমাবেশে হামলা করে যেভাবে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছিল সেটিরও যে বিচার হয়েছে, সেজন্য সন্তোষ প্রকাশ করছি।

‘নেত্রী শেখ হাসিনার মিছিলের ওপর গুলি চালিয়ে মূলত তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা করা হয়েছিল। একইভাবে সিপিবির ওপর হামলার ঘটনা দেশের গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল শক্তিকে ধ্বংস করে দেয়ার জন্যই হামলাগুলো পরিচালিত হয়েছিল। যারাই হামলা পরিচালিত করেছিল তাদের উত্তরসূরীরা কিন্তু এখনো সক্রিয়। এজন্য আমাদেরকে এখনো সতর্ক থাকতে হবে, বলেন হাছান মাহমুদ।

সেদিন লাশ গুম করে ফেলা হয়েছিল

চট্টগ্রামে গুলিবর্ষণের পর নিহতের লাশ গুম করে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, নেত্রীর গাড়ির বহরে একটা মিছিল ছিল, সেই মিছিলের সামনের সারিতে সেদিন আমিও ছিলাম। আমার মনে আছে, আমরা যখন কোতোয়ালীর মোড় অতিক্রম করি তারপর থেকে গুলি শুরু হয়। নির্বিচারে গুলি ছোঁড়া হয়, যদিও বলা হচ্ছে নিহতের সংখ্যা ২৪ জন। আসলে আরো বেশি ছিল। কারণ সেদিন অনেক লাশ গুম করে ফেলা হয়েছিল। আমাদের হিসাবমতে সেটি ৩০জনের বেশি অন্তত ৩৬জন হবে। অনেকগুলো লাশ গুম করে ফেলার কারণে হিসেবটা কমে আসছে।

জাপা মহাজোটে নেই

চট্টগ্রামে গুলিবর্ষণের নির্দেশদাতার বিচার চাইলে তাহলে মহাজোটের শরিক জাপা তখন ক্ষমতায় ছিল- এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এখন আমাদের কোনো মহাজোট নেই। মহাজোট ছিল আগে। জাতীয় পার্টি মহাজোটে নেই।

তৎকালীন জাপা সরকারের রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তো মারা গেছেন, তাহলে বিচার-? জানতে চাইলে হাছান মাহমুদ বলেন, তখন যারা ক্ষমতায় ছিল নিশ্চয়ই তাদের পক্ষ থেকে নির্দেশটা এসেছিল। কে নির্দেশ দিয়েছিল সেটা তো আমি এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়, তদন্তের বিষয়। কিন্তু তদন্ত করে যারাই নির্দেশ দিয়েছিল তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ঢাকা থেকে নির্দেশ ছাড়া চট্টগ্রামে এমন ঘটনার সুযোগ ছিল না, নির্দেশনা ছাড়া পুলিশ প্রশাসন এভাবে দেশের বিরোধীদলীয় নেত্রীর ওপর প্রকাশ‌্যে দিবালোকে গুলি চালাতে পারে না।

প্রথম আলো সম্পাদকের জামিন প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিচার ব্যবস্থা স্বাধীন। প্রথম আলোর সম্পাদকসহ কয়েকজনের হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার মাধ্যমে এটাই প্রমাণ হয়, দেশের আইন এবং আদালত স্বাধীনভাবে কাজ করছে।

এর আগে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরুর নেতৃত্বে সমিতির নেতারা মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। সমিতির সহ সভাপতি মো. শহীদুল আলম, কামাল মো. কিবরিয়া লিপু, সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম, সমিতির নেতা মো. ইকবাল, আলিম উল্লাহ, মেহেদী হাসান সিদ্দীকি মনির, মোরশেদ খান হিমেল, এম এন ইস্পাহানী, জাহিদ হোসেন, কামাল হাসান, অপূর্ব রায়, আজিজ আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


ঢাকা/নঈমুদ্দীন/সাইফ