ঢাকা, রবিবার, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ৩১ মে ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

বিএনপি গতানুগতিক রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি : তথ্যমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৪-০৬ ৪:২৬:৪৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৪-০৬ ৪:২৬:৪৪ পিএম

করোনাভাইরাসের প্রভাবে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক মন্দা ঠেকাতে সরকারের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণার পর বিএনপি যে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে তার সমালোচনা করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেছেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই অর্থনৈতিক পাকেজ ঘোষণার পর, তারা সরকারকে ধন্যবাধ জানাবে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা ধন্যবাদ জানানোর সংস্কৃতিটাই লালন করে না। সে কারণে বিএনপি এবারও চিরাচরিত গতানুগতিক রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি।’

সোমবার (৬ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

হাছান মাহমুদ বলেন, 'বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেব সংবাদ সম্মেলন করে যে বক্তব্য রেখেছেন, এতে মনে হয়েছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে অর্থনৈতিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন, সেটা না পড়ে, না বুঝে তিনি প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।’

অর্থনৈতিক প্যাকেজের সুফল সম্পর্কে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জেনেও না জানান ভান করছেন বলেও দাবি করেন তথ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘এই প্যাকেজ ঘোষণার আগে থেকেই সরকার দরিদ্র, খেটে খাওয়া মানুষের জন্য নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, এখানে দরিদ্র মানুষের কোনো কথা নেই, এখানে দিনে আনে দিনে খায় এমন মানুষের কোন কথা নেই। এ ধরনের কাণ্ডজ্ঞানহীন কথা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন। এই সংবাদ সম্মেলন করার আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জানা উচিত ছিল, বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে বক্তব্য রাখা।’

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘সরকারের চলমান ভিজিডি, ভিজিএফ কার্ডের বাইরেও করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য দরিদ্র মানুষ যাতে বিনামূল্যে খাদ্য পায়, সেজন্য সরকার ৪৮ হাজার ১১৭ মেট্রিক টন চাল ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যে বরাদ্দ দিয়েছে। এছাড়া, নগদ বরাদ্দ হিসেবে ১৬ কেটি টাকা দেওয়া হয়েছে।’

‘গতকাল যে অর্থনৈতিক প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে, সেখানেও ৩০-৪০ লাখ পরিবারকে নগদ সহায়তা দেওয়ার জন্য ৬৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর বাইরেও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ২৪ টাকা দামের ওএমএসের চাল ১০ টাকা দরে ঢাকাসহ উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। যাতে দরিদ্র মানুষ এটা কিনতে পারে। এবং এটি কিনে মানুষ যে সরকারকে ধন্যবাদ দিয়েছে, স্বস্তি প্রকাশ করেছে, এটা আপনারা বিভিন্ন গণমাধ্যমেই দেখেছেন।’

সরকার ৫০ লাখ পরিবারকে গত সাত মাস ধরে ৩০ টাকার চাল ১০ টাকা দরে দিচ্ছে, উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রায় আড়াই কোটি মানুষের মাঝে এই সহায়তা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক এই প্যাকেজে কৃষকের জন্যও প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মৎস্য, পোল্ট্রি খাতের ক্ষতি পোষানোর কথাও এই অর্থনৈতিক প্যাকেজে বলা হয়েছে। অথচ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব বলেছেন, এই সমস্ত খাতে কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয় নাই। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের চোখ এবং কান অন্ধ ও বধিরের মতো আচরণ করছে।’

‘স্বাস্থ্য খাতের বিষয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম কথা বলেছেন, স্বাস্থ্য খাতে চলতি বাজেটে ২৫ হাজার ৫৮০ দশমিক ৫৬ কেটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এবং মানীয় প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজ ঘোষণার আগেই পিপিই সরবরাহসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষা, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন। যেগুলো মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হয়ত জেনেও না জানার ভান করছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সারা দেশে সাড়ে ৩ লাখের বেশি পিপিই বিতরণ করেছে।’


ঢাকা/পারভেজ/রফিক