ঢাকা, সোমবার, ২২ আষাঢ় ১৪২৭, ০৬ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

দেশকে চরম বিপদের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে: ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৬-০১ ৩:৫৫:৩৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৬-০১ ৫:২১:৫২ পিএম

লকডাউন তুলে দিয়ে জনগণকে বিপদের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার (১ জুন) দুপুরে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, আমরা মনে করি, এটা আরো সময় নিতে পারতো। ভারতে সব রাজ্যের চিফ মিনিস্টার, প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিদের সঙ্গে কথা বলেছেন, কথা বলে আরো একমাস লকডাউন বাড়িয়েছে।  যে কথাটা আমি বার বার বলেছি, দায়িত্বশীলতা নেই বলেই সরকার জনগণকে মহাবিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, কাল থেকে দেখছি রেলগাড়ি চলছে এবং ট্রেনে গাদাগাদি করে মানুষ আসছে।  এর মধ্যে আপনারা দেখেছেন, বাসে রীতিমতো মারামারি হচ্ছে উঠার জন্য।  এটা সম্ভব না বাংলাদেশে এভাবে গণ-পরিবহনকে নিয়ন্ত্রণ করবেন? যেখানে আপনি অফিস খুলে দিয়েছেন, অফিস খুললে তো লোকজন তো আসবেই।  লঞ্চেও একই অবস্থা হয়েছে।

‘এখন সরকার কানে তুলো দিয়েছে।  কানে দিয়েছি তুলো, যা খুশি বলেন আমাদের কিছু যায় আসে না।  আমরা তো আছি।’

বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাদের (সরকার) নিয়োজিত যে টেনিক্যাল পরামর্শক কমিটি রয়েছে তারাও বলছেন যে, এটা (সবকিছু খুলে দেওয়া) একটা সুইসাইডাল।  এটা করলে একটা ভয়ঙ্কর অবস্থা তৈরি হবে।  তারা সেই কথা শুনেননি।  এমনকি প্রধানমন্ত্রীর যে ব্যক্তিগত চিকিৎসক যিনি আছেন (অধ্যাপক এম আবদুল্লাহ), তাকে অ্যাডভাইজার হিসেবে নেওয়া হয়েছে।  তিনি পরিস্কার করে বলেছেন যে, এটা ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি করবে, সংক্রমণ আরো ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাবে।  এটা পরিস্কার যে, তারা (সরকার) ব্যর্থ হয়েছে এই করোনাভাইরাসের উদ্ভুত যে পরিস্থিতি সেটাকে সামাল দিতে।

মির্জা ফখরুল বলেন, এটা সম্পূর্ণভাবে একটা অমানবিক কাজ করা হয়েছে।  আর এমনিতেই মানুষের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা।  বাসে কারা উঠে? কম আয়ের সাধারণ মানুষেরাই বাসে উঠে।  তাদের বাস ভাড়া বাড়িয়ে দিলো।  কার স্বার্থে বাড়িয়েছে? মালিকদের স্বার্থে বাড়িয়েছে।  মালিকদের আবার প্রণোদনা দিচ্ছে, অনুদান দিচ্ছে। পুরো বিষয়টা হয়েছে লুটপাটের জন্য, পুরোপুরি লুটপাট। শুধুমাত্র দুর্নীতির চরমভাবে সুযোগ নিচ্ছে সবাই।

গণস্বাস্থ্যের উদ্ভাবিত কিট অনুমোদন না দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি সরকারের সমালোচনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে প্রয়াত শিল্পপতি আব্দুল মোনেম, টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব মোস্তফা কামাল সৈয়দ, শিক্ষাবিদ আবদুল কাদের ভুঁইয়াসহ করোনায় আক্রান্ত নিহতদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে তাদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ফখরুল।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, তার স্ত্রী শিরিন পারভিন হক, ছেলে বারিশ হাসান চৌধুরী, প্রবীণ আইনজীবী আবদুর রেজ্জাক খান ও তার স্ত্রীসহ গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও চিকিৎসকের আশু রোগমুক্তি কামনা করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে কৃষক দলের আহবায়ক শামসুজ্জামান দুদু, সদস্য সচিব হাসান জাফির তুহিন, সদস্য মেহেদি হাসান পলাশ, অধ্যাপক শামসুর রহমান শামস, বিএনপির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন নসু, চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার ও শায়রুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন।

 

সাওন/সাইফ