ঢাকা, শনিবার, ৫ আশ্বিন ১৪২৬, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

পানি পান সম্পর্কে যা জানা প্রয়োজন

এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৫-১৯ ৩:২১:৫৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৫-১৯ ৩:২১:৫৩ পিএম
পানি পান সম্পর্কে যা জানা প্রয়োজন
প্রতীকী ছবি

এস এম গল্প ইকবাল : বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিবেদন অথবা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে আপনি যে কথাটি জেনেছেন তা হলো- দিনে আট গ্লাস পানি পান করা উচিত। আসলে কি তাই? না, এ কথার পেছনে কোনো বৈজ্ঞানিক সত্যতা নেই, বরং অধিকাংশ মানুষের এর চেয়ে বেশি পরিমাণে পানি পানের প্রয়োজন হতে পারে। শরীরের সঠিক কার্যক্রম অথবা স্বাস্থ্য অটুট রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পানের বিকল্প নেই। এ প্রতিবেদনে পানি পান সম্পর্কে যা জানা প্রয়োজন তা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো।

* কেন শরীরের জন্য পানি উপকারী?
ডাক্তার ও ডায়েটিশিয়ানরা সবসময় হাইড্রেশন বা পর্যাপ্ত পানি পানের গুরুত্ব সম্পর্কে বলেন এবং এ হাইপ আসলেই সত্য। আপনার শরীরের কোষ, টিস্যু ও অর্গানের কার্যক্রম ও মৌলিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার জন্য পানি প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের রেজিস্টার্ড ডায়েটিশিয়ান ও অ্যাকাডেমি অব নিউট্রিশন্স অ্যান্ড ডায়েটেটিক্সের মিডিয়া মুখপাত্র মালিনা মালকানি বলেন, ‘প্রত্যেক শারীরিক তরলের একটি অংশ হলো পানি এবং এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যেমন- পুষ্টি বহন করে, বর্জ্য অপসারণে সাহায্য করে, অর্গানকে প্রাণবন্ত রাখে, জয়েন্টকে পিচ্ছিল রাখে ও টিস্যুকে আর্দ্র করে।’

পানি এত বেশি গুরুত্বপূর্ণ যে গড় মানব শরীর পানি ছাড়া মাত্র তিন থেকে চারদিন বেঁচে থাকতে পারে, বিজনেস ইনসাইডারের প্রতিবেদন অনুসারে। একজন ব্যক্তির ওজনের ৫০ শতাংশেরও বেশি হলো পানি, বলেন ইন্টারন্যাশনাল ফুড ইনফরমেশন কাউন্সিল ফাউন্ডেশনের নিউট্রিশন কমিউনিকেশন্সের সিনিয়র ডিরেক্টর ক্রিস সলিড। হাইড্রেশন হলো মৌলিক প্রয়োজনের চেয়েও বেশি কিছু। ফিজিশিয়ান ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ নেসোসি ওকেকে-ইগবোকোয়ে বলেন, ‘যথাযথ হাইড্রেশন মস্তিষ্কের ফাংশন ও মেজাজ থেকে শারীরিক ওজন সবকিছু উন্নত করে এবং শরীরে শক্তির মাত্রাও বৃদ্ধি করে।’

* প্রতিদিন আপনার কতটুকু পানি পান করা উচিত?
মালকানি বলেন, ‘আপনার প্রতিদিন কতটুকু পান করা উচিত তা নির্ণয় করতে কোনো নিখুঁত নির্ণায়ক নেই। একজন লোকের কতটুকু পানি পান করা উচিত তা নির্ভর করে অনেকগুলো বিষয়ের ওপর, যেমন- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা, জলবায়ু, ব্যক্তির সক্রিয়তার মাত্রা, ডায়েট ও ব্যক্তিগত মেডিক্যাল ইতিহাস। কিডনি পাথরের ইতিহাস আছে এমন লোকের ভবিষ্যৎ কিডনি পাথর প্রতিরোধের জন্য বেশি পরিমাণে পানি পানের প্রয়োজন রয়েছে, বলেন ডা. ওকেকে-ইগবোকোয়ে। যদি আপনি উচ্চ আঁশের ডায়েট খান, তাহলে এ খাবার প্রক্রিয়াকরণের জন্য আপনার শরীরের বেশি পরিমাণে পানির প্রয়োজন হয়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সাধারণত দৈনিক আট গ্লাস পানি পানের পরামর্শ দিয়ে থাকেন, কিন্তু এটি কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। তাহলে একজন মানুষের দৈনিক কতটুকু পানি পান করা উচিত? এটি ব্যক্তিভেদে নির্ভর করে। মালকানি বলেন, ‘প্রতিদিন আট গ্লাস পানি পান ধরাবাঁধা নিয়ম না হলেও এটি আপনাকে বেশি মাত্রায় পানি পানের কথা মনে করিয়ে দেয়, যা অনেক লোকের জন্য প্রয়োজন।’ প্রতিদিন আট গ্লাস পানি পানের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তিও নেই। গড়ে আমাদের পানি গ্রহণের ৮০ শতাংশ আসে তরল থেকে।

ডা. সলিড বলেন, ‘যদি আপনি দিনে কত গ্লাস পানি পান করা উচিত তার নির্দিষ্ট সংখ্যা জানতে চান, তাহলে জেনে রাখুন যে দৈনিক পানি পানের সুপারিশকৃত মাত্রা নারীদের জন্য ১১ গ্লাস এবং পুরুষদের জন্য ১৩ গ্লাস।’ হাইড্রেশনের জন্য আদর্শ হলো সাধারণ পানি, কিন্তু শরীরে পানি গ্রহণের মাত্রা পূরণে সকল ধরনের তরল অবদান রেখে থাকে। অন্যান্য ২০ শতাংশ পানি আসে উচ্চ পানি কনটেন্টের খাবার থেকে, যেমন- স্ট্রবেরি ও তরমুজ।

* কিভাবে বুঝবেন যে পর্যাপ্ত পানি পান করছেন?
আপনি পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করছেন কিনা তা বোঝার একটি সহজ উপায় হলো প্রস্রাব চেক করা। এ প্রসঙ্গে ডা. মালকানি বলেন, ‘যদি আপনি দিনে কয়েকবার অল্প পরিমাণে প্রস্রাব করেন এবং প্রস্রাবের রঙ গাঢ় হয়, তাহলে বুঝে নেবেন যে বেশি করে পানি পান করতে হবে। যদি আপনার প্রস্রাব স্বচ্ছ বা হালকা হলুদ হয় এবং ঘনঘন প্রচুর পরিমাণে প্রস্রাব করেন, তাহলে আপনি প্রচুর পানি পান করে থাকেন।’ ডা. ওকেকে-ইগবোকোয়ে বলেন, ‘আপনার মুখ শুষ্ক হলে অথবা তৃষ্ণা অনুভব করলে বেশি করে পানি পান করা উচিত।’ অন্যান্য পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে পানি পানের মাত্রায় পরিবর্তন আসবে, যেমন- বাইরে অবস্থান, শারীরিক পরিশ্রম ও শরীরচর্চা। এসব ক্ষেত্রে সচরাচরের চেয়ে অধিক পানি পান করতে হয়।

* কিভাবে পর্যাপ্ত পানি পান করবেন?
আপনি নির্দিষ্ট রুটিন অনুসারে পানি পান করলে পর্যাপ্ত পানি পান করছেন কিনা তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হবে না। ইন্টারন্যাশনাল ফুড ইনফরমেশন কাউন্সিল ফাউন্ডেশনের নিউট্রিশন কমিউনিকেশন্সের ম্যানেজার অ্যালিসা পাইক সকাল ৭টা, দুপুর ১২টা, বিকেল ৩টা ও সন্ধ্যা ৭টায় তিন গ্লাস করে পানি পানের পরামর্শ দিচ্ছেন। পানি পানের জন্য তৃষ্ণার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। পাইক বলেন, ‘তৃষ্ণা অনুভব করার পূর্বেই আপনি ডিহাইড্রেটেড বা পানিশূন্য হতে পারেন।’ তৃষ্ণা সবসময় পানি পানের প্রয়োজনের নির্দেশক নয়, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে। পানিতে নিম্ন ক্যালরি অথবা ক্যালরিশূন্য ফ্লেভার যোগ করলে পানি পানের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে।সাধারণ পানিকে সুস্বাদু করতে লেবু, লাইম, শসা ও কমলার রস মেশাতে পারেন।

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৯ মে ২০১৯/ফিরোজ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন