ঢাকা, বুধবার, ২৮ কার্তিক ১৪২৬, ১৩ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

ওষুধ সেবনের আগে যা জানা প্রয়োজন

এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৮-২৭ ৯:৩৩:২৮ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৮-২৭ ১২:৩৩:৩৬ পিএম
প্রতীকী ছবি

এস এম গল্প ইকবাল : অনেক রোগী ওষুধ সেবনে খুব একটা সচেতন নন, যার ফলে তারা বিভিন্ন ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ভুগে থাকেন অথবা ওষুধের পুরো কোর্স শেষ করেও প্রত্যাশিত ফল পান না। অনেক রোগী একটু ভালো অনুভব করলেই ওষুধ সেবন বন্ধ করে দেন, কিন্তু তারা এটা ভাবেন না যে, এ ধরনের প্রবণতা মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে অথবা কাঙ্ক্ষিত ফল পেতে ওষুধ সেবনের পূর্বে কিছু বিষয়ে জ্ঞানার্জন গুরুত্বপূর্ণ।

* ওষুধ সেবনের পর বমি করলে আরেকটি ডোজ নেবেন নাকি অপেক্ষা করবেন?

বমির পর আরেকটি ডোজ সেবন করবেন নাকি অপেক্ষা করবেন তা নির্ভর করছে আগের ডোজটি কতক্ষণ আগে সেবন করেছেন তার ওপর। আলাবামায় অবস্থিত আমেরিকান ফ্যামিলি কেয়ারের মেডিক্যাল ডিরেক্টর জেরেমি অ্যালেন বলেন, ‘যদি আপনি ওষুধ সেবনের ১৫ মিনিটের মধ্যে বমি করেন, তাহলে আরেকটি ডোজ গ্রহণ করতে হবে, কারণ এ সময়ের মধ্যে ডোজটি হজম না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।’ ওষুধ সেবনের এক বা দুই ঘন্টা পর বমি করলে আরেকটি ডোজের প্রয়োজন নেই, কারণ ইতোমধ্যে ডোজটি হজম হয়ে গেছে- তাই আপনি প্রেসক্রিপশন অনুসারে পরবর্তী ডোজের জন্য অপেক্ষা করুন। এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।

* ওষুধের প্রভাব অনুভব করতে কতক্ষণ লাগে?

অসুস্থতায় কাহিল হয়ে পড়া যেকোনো রোগী চাইবেন যে দ্রুত উপশম পেতে, কিন্তু স্বাস্থ্য সমস্যা ও ওষুধের ওপর ভিত্তি করে ভালো অনুভব করতে দেরি হতে পারে অথবা খুব দ্রুত ভালো অনুভব হতে পারে। কিছু ওষুধ পরিপাকতন্ত্র থেকে সোজা রক্তপ্রবাহে চলে যায়, যেখানে অন্যান্য ওষুধ প্রথমে যকৃতে পৌঁছে। ডা. অ্যালেন বলেন, ‘সেবনের পর ওষুধ সাধারণত আট ঘণ্টার মধ্যে রক্তপ্রবাহে পৌঁছে, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে ওষুধ ৩০ মিনিটের মধ্যে রক্তপ্রবাহে পিক লেভেল বা সর্বোচ্চ ঘনত্বে পৌঁছতে পারে। যদি আপনি টাইম-রিলিজ ওষুধ সেবন করেন, তাহলে তারা আপনার শরীরে ধীরে ধীরে শোষিত হবে এবং আপনার শরীর সারাদিন জুড়ে স্ট্যাবল লেভেল বা স্থিতিশীল মাত্রায় ওষুধ পেতে থাকবে। আপনি প্রথম ছয় থেকে আট ঘণ্টার মধ্যে ওষুধের প্রভাব অনুভব করতে পারেন, কিন্তু উল্লেখযোগ্য প্রভাব বা ভালো অনুভব করতে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে ওষুধ সেবন করে যেতে হবে।’

* সহজে গিলতে ওষুধের বড়ি গুঁড়ো করা যাবে?

কেবলমাত্র শিশুরাই ওষুধের বড়ি গিলতে অপছন্দ করে না, কিছু প্রাপ্তবয়স্কও ওষুধের বড়ি বা ক্যাপসুল বা পিল গিলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। অনেক ওষুধ গুঁড়ো করাতে সমস্যা নেই, কিন্তু কিছু ওষুধ রয়েছে যা গুঁড়ো করা উচিত নয়। ডা. অ্যালেন বলেন, ‘আপনার ওষুধে টাইম-রিলিজ কোটিং থাকলে অর্থাৎ ওষুধটি শরীরে ধীরে ধীরে শোষিত হলে গুঁড়ো করবেন না, কারণ গুঁড়ো করলে ওষুধটি ওভারডোজ হতে পারে অথবা পাকস্থলির ভেতর স্তর উক্ত্যক্ত হতে পারে।’ আপনার প্রেসক্রিপশনের কোন ওষুধটি গুঁড়ো করা যাবে কিংবা যাবে না তা জানতে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।

* ওষুধের পুরো কোর্স শেষ করতে হবে?

মার্সি মেডিক্যাল সেন্টার কমিউনিটি ফিজিশিয়ান সাইটের অন্তর্গত লুথারভিলে পার্সোনাল ফিজিশিয়ানের প্রাইমারি কেয়ার স্পেশালিস্ট মার্ক আই. লিভি বলেন, ‘আপনি ওষুধের পুরো কোর্স শেষ করবেন কিনা তা নির্ভর করছে আপনার স্বাস্থ্য সমস্যার ধরনের ওপর। যদি আপনি ব্যথা উপশমের জন্য ওষুধ সেবন করেন, তাহলে ব্যথা চলে গেলে এই ওষুধ সেবন বন্ধ করতে পারেন, যদি না এটি ব্যথানাশের একমাত্র উপায় হয়। যদি আপনি কোনো ইনফেকশনের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করেন, তাহলে পুরো কোর্স শেষ করুন।’ কয়েকদিন অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করে ভালো অনুভবের মানে এই নয় যে ইনফেকশনটি চলে গেছে, আপনার শরীরে তখনো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থেকে যেতে পারে। অ্যান্টিবায়োটিকের পুরো কোর্স শেষ না করলে আপনি অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়ার ঝুঁকিতে থাকবেন।

* দিনে দুইবার ওষুধ সেবনের মানে কি ১২ ঘন্টা পরপর নাকি সকালে ও ঘুমানোর আগে?

ডা. লিভি বলেন, ‘সাধারণ চর্চা হলো (এমনকি হাসপাতালেও), প্রেসক্রিপশনে দুইবার ওষুধ সেবনের কথা উল্লেখ থাকলে সকালের খাবার ও রাতের খাবারের সময় ওষুধ সেবন করা এবং তিন বার উল্লেখ থাকলে সকালের খাবার, দুপুরের খাবার ও রাতের খাবারের সময় ওষুধ সেবন করা। অনেক ওষুধের ক্ষেত্রে এ নিয়ম অনুসরণ করলে তেমন কোনো সমস্যা নেই, কিন্তু কিছু ওষুধের ক্ষেত্রে সময় মেপে মেপে ওষুধ সেবন করতে হবে- প্রেসক্রিপশনে দুইবার উল্লেখ থাকলে ১২ ঘন্টা পরপর এবং তিন বার উল্লেখ থাকলে ৮ ঘন্টা পরপর। অর্থাৎ প্রেসক্রিপশনে যতবার উল্লেখ থাকবে সে সংখ্যাটি দিয়ে ২৪কে ভাগ করতে হবে, অন্যথায় ওষুধের ডোজ সঠিক হবে না।’ এটা মনে রাখতে হবে যে, রক্তপ্রবাহ থেকে ওষুধ সম্পূর্ণরূপে নিঃশেষ হয়ে গেলে চিকিৎসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, তাই নির্দিষ্ট সময় পরপর ওষুধ সেবন করা উচিত। আপনার ওষুধ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নিন।

*  জেনেরিক ওষুধ কি ব্র্যান্ড নেম ওষুধের মতোই কার্যকর?

অসুখ-বিসুখে এমনিতেই জলের মতো অর্থব্যয় হয়, সেখানে নামি ব্র্যান্ডের দামি ওষুধ কেনার সামর্থ্য বা আকাঙ্ক্ষা কতজনেরই বা থাকে। আপনার চিকিৎসক যে ব্র্যান্ডের ওষুধ প্রেসক্রাইব করেছেন সেটার মূল্য জেনেরিক ওষুধের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে, এক্ষেত্রে আপনি জেনেরিক ওষুধ অর্থাৎ অন্য ব্র্যান্ডের ওষুধ ব্যবহারের কথা বিবেচনা করতে পারেন। কায়সার পারমানেন্তের অন্তর্গত ফার্মেসি কোয়ালিটি ও মেডিকেশন সেইফটির এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর জেমি চ্যান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মতে জেনেরিক ওষুধও ব্র্যান্ড নেম ওষুধের মতো নিরাপদ ও কার্যকর।’ ডা. লিভি বলেন, ‘জেনেরিক ওষুধ ও ব্র্যান্ড নেম ওষুধের আকার-আকৃতিতে ভিন্নতা থাকতে পারে, কিন্তু অধিকাংশ ওষুধ সেবনের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে আপনার স্বাস্থ্য সমস্যার ওপর ভিত্তি করে ব্র্যান্ড নেম ওষুধই সর্বোত্তম হতে পারে।’ আপনার স্বাস্থ্য সমস্যায় জেনেরিক ওষুধ ব্যবহার করা যাবে কিনা তা চিকিৎসক থেকে জেনে নিতে পারেন।

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট


রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৭ আগস্ট ২০১৯/ফিরোজ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন