ঢাকা, রবিবার, ৭ আশ্বিন ১৪২৬, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

আলজিহবা ফুলে যাওয়ার ৯ কারণ

এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৯-১১ ১০:৪৬:২২ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৯-১১ ১০:৫৩:১৭ পিএম
আলজিহবা ফুলে যাওয়ার ৯ কারণ
প্রতীকী ছবি

এস এম গল্প ইকবাল : গলার পেছনে কিছু আটকে থাকার অনুভূতি হওয়াতে আপনি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ভেতরে দেখার চেষ্টা করলেন এবং দেখলেন যে আপনার আলজিহবা সচরাচরের তুলনায় বড়, অর্থাৎ ফুলে গেছে। আপনি চিন্তা করতে লাগলেন যে কেন এমনটা হয়েছে? এটা কি দুশ্চিন্তা না করার মতো সমস্যা? নাকি আলজিহবার এ ফোলা কোনো মারাত্মক রোগের ইঙ্গিতবাহক?

আপনি জেনে খুশি হবেন যে, যেসব কারণে আলজিহবা ফুলে যায় তার বেশিরভাগই সাধারণ চিকিৎসায় নিরাময় করা যায়, কিন্তু আপনার জন্য দুশ্চিন্তা করার মতো খবরও রয়েছে- কখনো কখনো আলজিহবার ফোলা ওরাল ক্যানসারেরও ইঙ্গিতবাহক হতে পারে। তাই আপনার আলজিহবার ফোলাকে উপেক্ষা করে দীর্ঘসময় ঘরে বসে থাকা বা চিকিৎসকের কাছে না যাওয়া মোটেই স্বাস্থ্য সচেতন লোকের কাজ নয়। আলজিহবা ফুলে যাওয়ার ৯টি কারণ নিয়ে দুই পর্বের প্রতিবেদনের আজ থাকছে প্রথম পর্ব।

* আপনার পাকস্থলির অ্যাসিড প্রায়সময় গলায় চলে আসে

ক্রনিক অ্যাসিড রিফ্লাক্স অথবা বমি পাকস্থলির অ্যাসিডকে গলায় নিয়ে আসে। এটি গলা ও আলজিহবাকে উক্ত্যক্ত করে, যার ফলে ফোলা ও প্রদাহ হয়, বলেন জেনারেল প্র্যাকটিশনার ও মেড এক্সপ্রেসের মেডিক্যাল অ্যাডভাইজার ক্লেয়ার মরিসন। আপনার অন্যান্য বিরক্তিকর উপসর্গেরও অভিজ্ঞতা হতে পারে, যেমন- কণ্ঠস্বর ভেঙ্গে যাওয়া ও গলায় পিণ্ড থাকার অনুভূতি।

ডায়েট ও লাইফস্টাইলে পরিবর্তন আপনার পাকস্থলির অ্যাসিডকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হতে পারে, যেমন- অ্যাসিডিক খাবার ও পানীয় থেকে বিরত থাকা এবং সেইসঙ্গে মসলাদার খাবারও এড়িয়ে চলা, বলেন ডা. মরিসন। তিনি আরো বলেন, ‘অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণকারী ওষুধও রয়েছে, যা প্রয়োজনে সাহায্য করতে পারে, যেমন- ওমিপ্রাজোল অথবা ল্যানসোপ্রাজোল।’

* আপনার মুখ প্রায়শ শুষ্ক থাকে

মুখ, গলা ও আলজিহবার কোষ শরীরের এসব অংশ স্বাভাবিক আর্দ্র পরিবেশে সর্বোত্তম ফাংশন করে, বলেন ডা. মরিসন। কিন্তু নাকবদ্ধতা অথবা কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অথবা অন্যান্য কারণে মুখ প্রতিনিয়ত শুষ্ক থাকলে (প্রচুর পানি পান করা সত্ত্বেও) এসব অংশে প্রদাহ, লালতা, ব্যথা ও ফোলা হতে পারে।

নিয়মিত পানি পান ও আর্দ্রকারী মাউথ স্প্রে ব্যবহারে শুষ্কতা প্রতিরোধ হতে পারে। আপনার মুখের শুষ্কতার জন্য নাসাল কনজেশন বা নাকবদ্ধতা দায়ী হলে স্টিম ইনহেলেশনের (নাক দিয়ে গরম পানির বাষ্প টেনে) মাধ্যমে ভেন্টিলেশন উন্নত করতে পারেন- প্রয়োজনে ইউক্যালিপটাস অয়েল, মেন্থলেটেড ক্যান্ডি ও নাসাল স্প্রে ব্যবহার করতে হবে এবং নিয়মিত নাক ঝাড়তে হবে, বলেন ডা. মরিসন।

ঘুমের সময় মুখের শুষ্কতা সাধারণত নাকের প্রতিবন্ধকতার একটি লক্ষণ। নাক ডাকার কারণে আলজিহবায় প্রতিনিয়ত কম্পন হলে এটি ফুলে যেতে পারে, বলেন ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত প্রভিডেন্স সেন্ট জন’স হেলথ সেন্টারের ল্যারিঙ্গোলজিস্ট ও ওটোল্যারিঙ্গোলজিস্ট (ইএনটি) ওমিড মেহডিজাডেহ। তিনি যোগ করেন, ‘মেডিক্যালি অথবা সার্জিক্যালি নাকের প্রতিবন্ধকতা দূর করে অথবা চিন স্ট্র্যাপ ব্যবহার করে এ সমস্যাকে বিতাড়িত করতে পারেন।’

* আপনার সম্প্রতি ইনজুরি হয়েছে

আলজিভে ট্রমা কমন নয়, কিন্তু গরম খাবার খেলে এটি পুড়ে যেতে পারে, বলেন ডা. মরিসন। কখনো কখনো ইনটিউবেশন (যখন জেনারেল অ্যানেস্থেসিয়ার সময় গলায় একটি টিউব প্রবেশ করানো হয়) অথবা টনসিলেক্টমির (টনসিল অপসারণ করতে সার্জিক্যাল অপারেশন) সময় আলজিহবায় ইনজুরি হতে পারে। সাধারণত চিকিৎসা ছাড়াই এটি নিরাময় হয়ে থাকে। এ দশায় আরাম পেতে আইস চিপস ক্যান্ডি বা বরফের টুকরো চুষতে পারেন অথবা লোকাল অ্যানেস্থেটিক মাউথ স্প্রে ব্যবহার করতে পারেন।

* আপনি মদপান ও ধূমপান করেন

অ্যালকোহল সেবন ও ধূমপান উভয়েই আপনার গলা ও আলজিহবাকে উক্ত্যক্ত করতে পারে, যেকারণে এসব অংশে লালতা, ফোলা ও অস্বস্তি হতে পারে। ডা. মরিসন বলেন, ‘এ সমস্যা আরো বেড়ে যায় যখন মদপান ও ধূমপান একসঙ্গে করা হয়, কারণ ধূমপান এ অ্যালকোহলকে দ্রবীভূত করে আরো বিস্তৃতভাবে গলায় ছড়িয়ে দেয়।’

এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধের জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় হলো ধূমপান ও মদপান উভয়টাই বর্জন করা। কিন্তু তা না পারলে অন্তত যেকোনো একটা বর্জনের সিদ্ধান্ত নিন ও অন্যটা সীমিত করুন, যেমন- ধূমপান সম্পূর্ণরূপে বর্জন করতে পারেন ও অ্যালকোহল পান সীমিত করতে পারেন (নারী হলে এক ড্রিংক ও পুরুষ হলে দুই ড্রিংকের বেশি নয়)। আপনার আলজিহবা ইতোমধ্যে ফুলে গেলে আরাম পেতে লবণ পানির কুলকুচা করতে পারেন অথবা থ্রোট লজেন্স চুষতে পারেন।

* আপনার অ্যালার্জি রয়েছে

সাধারণ গলা ব্যথার অন্যতম কমন কারণ হলো অ্যালার্জিক রিয়্যাকশন, কিন্তু কখনো কখনো কোনো কিছুর প্রতি অ্যালার্জিক রিয়্যাকশনে শুধুমাত্র আলজিহবাও আক্রান্ত হতে পারে। এ দশাকে বলে ইউভিউলার অ্যানজিওডিমা, বলেন ডা. মরিসন।

এ ধরনের সমস্যা দূর করতে অ্যালার্জির উৎস শনাক্ত করতে হবে এবং অ্যালার্জিক রিয়্যাকশনের চিকিৎসা প্রয়োজন হবে। অ্যালার্জি বা অ্যালার্জিক রিয়্যাকশনের উৎস শনাক্ত করতে আপনার চিকিৎসক টেস্ট দিতে পারেন। আপনি অ্যান্টিহিস্টামিন সেবন করে উপসর্গের তীব্রতা কমাতে পারেন। ডা. মরিসন বলেন, ‘অ্যালার্জিক রিয়্যাকশনে গিলা অথবা শ্বাসক্রিয়া কঠিন হয়ে পড়লে অবিলম্বে মেডিক্যাল অ্যাটেনশনের প্রয়োজন হবে, অন্যথায় আপনার জীবন হুমকির মুখে থাকবে।’

(আগামী পর্বে সমাপ্য)

তথ্যসূত্র : প্রিভেনশন

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯/ফিরোজ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন