ঢাকা     সোমবার   ১০ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২৬ ১৪২৭ ||  ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

ঘরে যেখানে করোনাভাইরাস বে‌শি থাকতে পারে

এস এম গল্প ইকবাল || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৪:৩৭, ১২ জুলাই ২০২০  
ঘরে যেখানে করোনাভাইরাস বে‌শি থাকতে পারে

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে উপসর্গ দেখা দেবেই এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। কিন্তু ভাইরাসটির সংক্রমণে উপসর্গ প্রকাশ পাক কিংবা না পেয়ে থাক, একজন রোগী করোনাভাইরাস ছড়িয়ে যান।

এ কারণে এই মহামারিতে পরিবারের সদস্য থেকেও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা ও শেয়ারে জিনিস ব্যবহার না করা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ঘরে উপসর্গবিহীন কোভিড-১৯ রোগী থাকলে অন্যদের মধ্যেও ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়বে। এছাড়া এটা নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই যে ঘরের কেউ করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হলে অথবা সংক্রমণটির উপসর্গ প্রকাশ পেলে আইসোলেশন জরুরি।

যার উপসর্গ নেই তিনি ভাবতে পারেন যে সংক্রমিত হননি। কিন্তু গবেষকদের মতে, এই মহামারিতে নিজেকে ১০০ শতাংশ নিরাপদ মনে করার সুযোগ নেই। গবেষণায় দেখা গেছে, কোভিড-১৯ এর ৪৫ শতাংশ কেসই উপসর্গবিহীন। অর্থাৎ ১০০ জন কোভিড-১৯ রোগীর মধ্যে ৪৫ জনের লক্ষণ প্রকাশ পায় না। উপসর্গযুক্ত কোভিড-১৯ রোগী অন্যদের মাঝে সরাসরি ভাইরাসটি ছড়িয়ে থাকেন, অর্থাৎ করোনাভাইরাস ছড়ানোর একটি প্রধান মাধ্যম হলো কাশি। অন্যদিকে উপসর্গবিহীন কোভিড-১৯ রোগী কাশে না বলে ভাইরাসটি সরাসরি ছড়ানোর সম্ভাবনা কম, কিন্তু তাদের ব্যবহৃত জিনিসে যে অসংখ্য ভাইরাস রয়েছে তা অন্যদের পরোক্ষভাবে সংক্রমিত করতে পারে।

ঘরের কোথায় সবচেয়ে বেশি করোনাভাইরাস থাকে তা নিয়ে সম্প্রতি একটি গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। আমেরিকান সোসাইটি ফর মাইক্রোবায়োলজির এই গবেষণায় বিছানার বালিশ ও চাদরে উচ্চ পরিমাণে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। গবেষকরা করোনাভাইরাস রোগীদের হাসপাতাল কক্ষ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে গবেষণা করেন। দেখা গেছে, ৪০ শতাংশ সারফেসই করোনাভাইরাসে দূষিত ছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে বালিশ, বিছানার চাদর ও বেডরেইলে।

এসব নমুনা নেওয়া হয়েছে সেসব হাসপাতাল কক্ষ থেকে যেগুলোকে নার্সরা প্রতিদিন দু’বার পরিষ্কার ও ভাইরাসমুক্ত করতেন। তাহলে একবার ভাবুন তো, কোভিড-১৯ রোগীর যে কক্ষকে ভাইরাসমুক্ত করা হয়না তাতে কি পরিমাণে করোনাভাইরাস রয়েছে? ইমার্জিং ইনফেকশাস ডিজিজেসে প্রকাশিত একটি গবেষণায়ও হোটেল রুমের বালিশ ও বিছানার চাদরে সর্বোচ্চ পরিমাণে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে। উভয় গবেষণার গবেষকরাই বিছানাপত্রকে সঠিকভাবে পরিষ্কার ও ভাইরাসমুক্ত করার প্রতি জোর দিয়েছেন। ধরাবাঁধা নিয়ম না থাকলেও বিশেষজ্ঞদের মতে এই মহামারিতে দুই-তিন পরপর বিছানার চাদর ও বালিশের কভার ধুয়ে ফেলা উচিত।

 

ঢাকা/ফিরোজ

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়