ঢাকা, শনিবার, ৩ কার্তিক ১৪২৬, ১৯ অক্টোবর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

বারবার বাড়ে প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয়

হাসিবুল ইসলাম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৭-০৩ ৪:৪৭:৩৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৭-১০ ৪:৪৪:০০ পিএম

হাসিবুল ইসলাম মিথুন : রাজশাহী মহানগরীর জলাবদ্ধতা দূর করতে নর্দমা নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন পায় ২০১৩ সালের জুন মাসে। ২০১৬ সালের জুনে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তিন দফায় মেয়াদ বাড়ানোর পরও প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি। আবারও প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বাস্তবায়ন সংস্থা।

প্রকল্পটি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের। বাস্তবায়ন করছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (আরসিসি)।

প্রকল্পটির (তৃতীয় পর্যায়) (প্রথম সংশোধিত) ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও রাজশাহী সিটি করপোরেশন (আরসিসি)। ৪৫ কোটি ৪৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত চেয়ে এবং ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত সময় চেয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে রাজশাহী সিটি করপোরেশন।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র থেকে জানা গেছে, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশন (আরসিসি) প্রকল্পটির সংশোধনী প্রস্তাব প্রস্তুত করে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছে। আগামী ১৫ জুলাই বেলা সাড়ে ১১টায় পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য শামীমা নার্গিসের সভাপতিত্বে প্রকল্পটির ওপর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা হবে। সে সভায় প্রকল্পটির নানা দিক মূল্যায়ন করে ছাড়পত্র দেওয়া হবে। পরে প্রকল্পটি পরিকল্পনামন্ত্রীর দপ্তরে পাঠালে মন্ত্রী একনেক সভায় উপস্থাপন করবেন। সবকিছু ঠিক থাকলে প্রকল্প অনুমোদন দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র থেকে জানা গেছে, শুরুতে প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৩৬ কোটি ৭২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১২৯ কোটি ৮৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা এবং নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করার কথা ছিল ৬ কোটি ৮৩ লাখ ৬১ হাজার টাকা। কিন্তু এবার ৪৫ কোটি ৮৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকা বাড়িয়ে মোট ১৮২ কোটি ২২ লাখ ৩২ হাজার টাকা ব্যয় নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়নের পরিমাণ বাড়িয়ে ১৭৩ কোটি ১১ লাখ ১৯ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের নিজস্ব তহবিল থেকে ৯ কোটি ১১ লাখ ১২ হাজার টাকা ব্যয় করার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

এ প্রকল্প সম্পর্কে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আশরাফুল হক রাইজিংবিডির রাজশাহী প্রতিনিধি তানজিমুল হককে বলেন, প্রকল্পটির শুরু থেকেই জমি অধিগ্রহণে বেশি সময় লাগছে। তাছাড়া শুরুর দিকে জমির দাম ছিল কম। কিন্তু সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জমির দাম বাড়ার কারণে ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা আরো এক বছর সময় চেয়েছি প্রকল্পটির কাজ শেষ করার জন্য। আশা করি, এক বছর সময় দিলে আমরা যথাযথভাবে এর কাজ শেষ করতে পারব।

এদিকে, পরিকল্পনা কমিশন সূত্র থেকে জানা গেছে, এই প্রকল্পটির মেয়াদ ইতোমধ্যে ৩ ধাপে কিছু শর্তসাপেক্ষে বাড়ানো হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ ছিল ২০১৩ সালের মে থেকে ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত। পরে তা ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। কিন্তু এখন আবারও ব্যয় বৃদ্ধিসহ সময় বাড়ানোর জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। যদি সময় বাড়ানো হয় তাহলে চতুর্থ দফায় এর মেয়াদ হবে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত।

প্রকল্পটি চলতি (২০১৮-২০১৯) অর্থবছরের আরএডিপিতে মোট ৬ কোটি টাকা বরাদ্দসহ অন্তর্ভূক্ত রয়েছে।

রাজশাহী সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে রাজশাহী মহানগরী এলাকায় একটি কার্যকর ও স্থায়ী পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে সার্বিক পরিবেশগত স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন, নগরীর ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়ন, টেকসই পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দীর্ঘ মেয়াদে নগরবাসীর কর্মক্ষতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা রাখা।

এর আগে গত ১৯৯২ সালের ৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত একনেক সভায় রাজশাহী মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রকল্প গ্রহণের জরুরি প্রয়োজনীয়তা নিরুপণে সিটি করপোরেশনের নিজস্ব অর্থে সম্ভাব্যতা জরিপ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে অনুযায়ী রাজশাহী সিটি করপোরেশন ১৯৯৩ সালে বিস্তারিত সম্ভাব্যতা জরিপ করে এবং সে অনুসারে ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করে।  সম্ভাব্যতা জরিপে সিটি করপোরেশন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টিতে প্রধান কারণগুলো চিহ্নিত করা হয়, যেমন: পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব, বর্তমান ড্রেনেজ ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা, অনুপযুক্ত/অপ্রশস্ত বর্তমান নর্দমার সেকশান এবং কম নিষ্কাশন এবং নর্দমা বা খালের তলা ভরাট করা।

প্রকল্পটির মূল কার্যক্রমগুলো হচ্ছে ( প্রকল্পের ১ম সংশোধনী ডিপিপি অনুযায়ী) দুটি লংবুম এক্সকাভেটর ক্রয়, দুটি রাবার ট্রাক ক্রয়, ল্যাপটপ কম্পিউটার এবং প্রিন্টার এক সেট, ৯ দশমিক ৯৭৫২ কিলোমিটার ভূমির ক্ষতিপূরণ, ৬ দশমিক ৩৬ কিলোমিটার প্রাইমারি নর্দমা নির্মাণ, ৬৭ দশমিক ২৯ কিলোমিটার সেকেন্ডারি নর্দমা নির্মাণ, ৬৭ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার টারশিয়ারি নর্দমা নির্মাণ, চারটি রেলওয়ে কালভার্ট সম্প্রসারণ এবং অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ ৮ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার।

ভূমি অধিগ্রহণের পরিমাণ  হ্রাস পাওয়া, কাঠামোর পরিমাণ হ্রাস পাওয়া, ভূমি অধিগ্রহণে বিলম্বসহ অন্যান্য সকল খাতে ব্যয় বৃদ্ধিকে প্রকল্প পুনরায় সংশোধনের কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ১২২ কোটি ৫০ লাখ ৭১ হাজার টাকা। প্রকল্পটির বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৭০ শতাংশ।


রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩ জুলাই ২০১৯/হাসিবুল/রফিক

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন